অর্থনীতির মন্দা কাটাতে কৃষিকে চাঙ্গা করার উদ্যোগ নির্মলার

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো : বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থনীতির বেহাল দশার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী গ্রাম। কৃষিতে উৎপাদন কমেছে। কৃষকরা আরও গরিব হয়ে পড়েছেন। তাঁদের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। তার ফলে কমেছে ভোগ্যপণ্যের বিক্রি। লাভ কমেছে বিভিন্ন কোম্পানির। তারা শুরু করেছে কর্মসংকোচন। ফলে বেড়েছে বেকারত্ব। এই সব সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ একটাই। কৃষকের স্বার্থে পদক্ষেপ নেওয়া। তাদের হাতে যাতে বাড়তি পয়সা আসে, তার ব্যবস্থা করা। সেজন্য অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন শনিবার বাজেটে কৃষকদের জন্য ১৬ পয়েন্ট অ্যাকশন প্ল্যান ঘোষণা করেছেন।

    বাজেটের লক্ষ্য হল ২০২২ সালের মধ্যে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করা। কৃষিতে ঋণ দেওয়া হবে ১৫ লক্ষ কোটি টাকা। নাবার্ড যে প্রকল্পগুলি চালু করেছে, তাতে আরও অর্থ বরাদ্দ করা হবে। নির্মলা বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যগুলিকে কৃষিতে কয়েকটি মডেল বিধি অনুসরণ করতে উৎসাহ দেবে। তার মধ্যে আছে মডেল এগ্রিকালচারাল ল্যান্ড লিজিং অ্যাক্ট ২০১৬, মডেল এগ্রিকালচারাল প্রোডিউস অ্যান্ড লাইভস্টক মার্কেটিং অ্যাক্ট অব ২০১৭ ইত্যাদি।

    বাজেটে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ২০ লক্ষ কৃষককে জমিতে সোলার পাম্প বসাতে দেওয়া হবে। কৃষির সহায়ক নানা কাজকর্ম, জলসেচ ও গ্রামোন্নয়নে খরচ করা হবে ২ লক্ষ ৮৩ হাজার কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, সব ধরনের সারই পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করতে উৎসাহ দেওয়া হবে। রাসায়নিক সারের ওপর থেকে অত্যধিক নির্ভরতা কমানো হবে।

    গ্রামে বেশি পরিমাণ ফসল যাতে মজুত রাখা যায়, তার ব্যবস্থা করা হবে। গ্রামে বসবাসকারী মহিলাদের জন্য চালু হবে ধনলক্ষী প্রকল্প। অসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রক বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক রুটে চালু করবে কৃষি উড়ান প্রকল্প।

    ২০২৫ সালের মধ্যে দেশের দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতা বেড়ে হবে দ্বিগুণ। পচনশীল কৃষি পণ্য যাতে দ্রুত পরিবহণ করা যায়, সেজন্য কিষাণ রেল চালু করছে ভারতীয় রেল।

    বাজেটে মধ্যবিত্তের সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ছিল আয়কর নিয়ে। অর্থমন্ত্রী প্রস্তাব দিয়েছেন, বছরে  ৫ লক্ষ থেকে ৭.৫ লক্ষ আয় হলে  ১০ শতাংশ কর। আগে করের হার ছিল ১৫ শতাংশ। ৭.৫ থেকে ১০ লক্ষের মধ্যে আয় হলে কর ১৫ শতাংশ। আগে করের হার ছিল ২০ শতাংশ। ১০ থেকে ১২.৫ লক্ষ আয় হলে ২০ শতাংশ। আগে করের হার ছিল ৩০ শতাংশ। ১২.৫ থেকে ১৫ লক্ষ আয় হলে ২৫ শতাংশ। আগে করের হার ছিল ৩০ শতাংশ। ১৫ লক্ষের বেশি আয় হলে ৩০ শতাংশ কর। আগে করের হার ছিল ৩০ শতাংশ। পাঁচ লক্ষ পর্যন্ত যাঁদের আয়, তাঁদের কর দিতে হবে না।

    তবে কেউ চাইলে পুরনো হারে করে দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে বিশেষ কিছু ছাড় মিলবে। তবে নতুন হারে কর দিলে সেই ছাড় মিলবে না।

    দু’ঘণ্টা চল্লিশ মিনিটের দীর্ঘ বাজেট বক্তৃতায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেন ২০২০-২১ অর্থবর্ষে জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য খরচ হবে ৩০ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা। লাদাখের জন্য খরচ করা হবে ৫ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা। ৩৭০ ধারা উঠে যাওয়ার পর জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখকে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করেছে কেন্দ্র। ফলে সন্দেহ নেই বাজেটে যে প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন তা বিপুল।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More