ফাঁসির আগে খেতে চায়নি নির্ভয়া-আসামিরা, স্নান করেনি, রাতেও ঘুমোয়নি

এশিয়ার বৃহত্তম এই কারাগারে বন্দি বাকিরাও গতকাল রাতে চোখের দু’পাতা এক করতে পারেনি। ভয় ও উৎকন্ঠার ছাপ পরিষ্কার ছিল অনেকেরই চোখে মুখে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার দিনের আলো ফোটার আগেই নির্ভয়া কাণ্ডে অভিযুক্ত চার আসামীকে ফাঁসি কাঠে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় তিহাড় জেলে।

    পরে সকালে জেল কর্তারা জানান, ফাঁসিতে চার জনেরই মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ডাক্তাররা। তাদের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

    জেল কর্তারা আরও জানিয়েছেন, চার অপরাধীই গতকাল বিনিদ্র রাত কাটিয়েছে। জেলে পৃথক সেলে রাখা হয়েছিল তাদের। কেউই ঘুমোয়নি। শুধু তারা কেন এশিয়ার বৃহত্তম এই কারাগারে বন্দি বাকিরাও গতকাল রাতে চোখের দু’পাতা এক করতে পারেনি। ভয় ও উৎকণ্ঠার ছাপ পরিষ্কার ছিল অনেকেরই চোখে মুখে। বিশেষ করে গত কয়েক বছর ধরে যারা জেলে এই চার অপরাধী তথা মুকেশ, পবন, বিনয় ও অক্ষয় ঠাকুরের সঙ্গে রয়েছে তাদের মুখ ছিল ছিল থমথমে।

    আরও পড়ুন: বিচার পেলেন নির্ভয়া, স্বস্তি পেল জনগণ! অপরাধ কমার প্রতিশ্রুতি পেল কি সমাজ

    জেলের কর্তারা আরও জানিয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী ফাঁসির আগে অপরাধীদের খেতে দেওয়া হয়। কিন্তু চার জনের কেউই কিছু মুখে তুলতে চায়নি। এমনকি স্নানও করেনি।

    তিহাড় জেলে বন্দি থাকাকালীন বিনয়, পবন ও মুকেশ শ্রমিকের কাজ করেছিল। অক্ষয় ঠাকুর কোনও কাজ করেনি। তিহাড় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, বিনয়-পবন-মুকেশের পারিশ্রমিকের টাকা তাদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এ ছাড়া তাদের সঙ্গে যা ছিল তাও পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

    ফাঁসির সাজা রদ করার জন্য গতকাল রাতে শেষ চেষ্টা করেছিল এই অপরাধী। তাদের তরফে আইনজীবী প্রথমে দিল্লি হাইকোর্টে ও পরে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছিল। কিন্তু ভোর রাতে সুপ্রিম কোর্ট সেই আর্জি খারিজ করে দেয়। তার পর ভোর চারটে নাগাদ এই চার অপরাধীকে এক জায়গায় নিয়ে আসা হয়। জামা পরানো হয় পরিষ্কা। হাত ধরে নিয়ে যাওয়া হয় ফাঁসির মঞ্চে। তার পরে ঘড়ি ধরে তাদের ফাঁসি দেওয়া হয় ভোর সাড়ে পাঁচটায়।

    আধ ঘণ্টা শরীর ঝুলিয়ে রাখার পর তাদের দেহ পরীক্ষা করেন ডাক্তাররা। তার পর ময়নাতদন্তের জন্য দীনদয়াল উপাধ্যায় রোডে অটোপসি সেন্টারে পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞদের দল ময়নাতদন্তের কাজ করবে। তার পর তাদের শেষকৃত্য হবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More