রবিবার, আগস্ট ১৮

ছাড়া পেলেই প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করবেন, নীরব মোদীর জামিনের আর্জি নাকচ

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ব্রিটেনে গত ২০ মার্চ গ্রেফতার হয়েছেন পলাতক হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদী। কিছুদিন আগে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক কেলেঙ্কারির অন্যতম পাণ্ডা নীরবের জামিনের আবেদন আগে নাকচ হয়ে গিয়েছে নিম্ন আদালতে। তিনি হাইকোর্টে ফের আবেদন করেছিলেন। বুধবার হাইকোর্টেও তাঁর জামিনের আবেদন নাকচ হয়ে গেল। হাইকোর্টের বিচারপতির ধারণা, জামিনে ছাড়া পেলেই তিনি সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে চাইবেন। প্রমাণ ধ্বংস করে ফেলার চেষ্টা করবেন।

৪৮ বছরের নীরব এখন রয়েছেন হার ম্যাজেস্টিস প্রিজন ওয়ান্ডসওয়ার্থে। পশ্চিম ইউরোপে তা বৃহত্তম জেল। বুধবার হাইকোর্টে তাঁর জামিনের আবেদন নাকচ হলেও তিনি ফের ওই আবেদন করতে পারবেন। সেজন্য তাঁকে নিম্ন আদালতের অনুমতি নিতে হবে।

হাইকোর্টে নীরব মোদী যুক্তি দেখিয়েছিলেন, তিনি ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ব্রিটেনে আসেন। তখনও পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ ছিল না। ভারত চায় তাঁকে বন্দি করে দেশে ফিরিয়ে আনতে। তিনি সেই প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে বলেন, ব্রিটেনে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই। সেখানে তিনি আইনসম্মতভাবে বসবাস করছেন। এখানে তিনি একটি পেশায় যুক্ত। সরকারকে ট্যাক্স দিয়ে থাকেন।

রয়্যাল কোর্ট অব জাস্টিসের বিচারপতি ইনগ্রিড সিমলার মন্তব্য করেন, এই মামলায় যতদূর প্রমাণপত্র পাওয়া গিয়েছে, তাতে মনে হয়, অতীতে প্রমাণ ধ্বংস করা হয়েছিল। একটি ডিস্কে কিছু তথ্য ছিল। সেই তথ্যগুলি তদন্তকারীদের কাজে লাগত। সেই তথ্যগুলি নষ্ট করা হয়েছে। মনে হয় অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনও জায়গা থেকে অর্থ পেয়ে থাকেন। তিনি আত্মসমর্পণও করেননি।

পরে বিচারপতি বলেন, কোনও দেশের অপরাধী যেন ব্রিটেনে পালিয়ে এসে নিশ্চিত আশ্রয় না পায়। এখনও পৃথিবীতে এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে পালিয়ে গিয়ে অপরাধীরা আশ্রয় পেয়ে থাকে।

এর আগে ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে তিনবার নীরব মোদীর জামিন নাকচ হয়ে গিয়েছে। বিচারক প্রত্যেকবারই আশঙ্কা করেছিলেন, একবার জামিন পেয়ে বেরোলে নীরব মোদী আর আদালতে আত্মসমর্পণ নাও করতে পারেন। তাছাড়া তিনি যে পরিমাণ জামানত রাখতে চাইছেন, তাও যথেষ্ট নয়।

নীরব মোদী ও তাঁর কাকা মেহুল চোকসির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা পিএনবি থেকে বিপুল অর্থ তছরুপ করে বিদেশে পালিয়েছেন। ওই কেলেঙ্কারি নিয়ে তদন্ত করছে সি বি আই। মেহুল চোকসি এখন রয়েছেন অ্যান্টিগায়। তিনি জানিয়েছেন, অসুস্থতার কারণে তাঁর পক্ষে ভারতে ফেরা সম্ভব নয়।

Comments are closed.