বাংলায় এ বছরে ৯ লক্ষ কাজের সুযোগ হয়েছে, বাজেটে দাবি অমিত মিত্রর, ‘লোক ঠকানো বিদ্যে’-কড়া সমালোচনা বিরোধীদের

বিধানসভার বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী ও বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান বলেন, সরকার যা হিসেব দিচ্ছে তাতে তো মনে হচ্ছে লোকের থেকে কাজ বেশি। মানুষের পিছনে কাজ দৌড়চ্ছে!

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার রাজ্য বাজেটে অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র দাবি করেছেন চলতি আর্থিক বছরে এখনও পর্যন্ত বাংলায় ৯ লক্ষ ১১ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর এই দাবি নিয়েই তীব্র কটাক্ষ করেছেন বিধানসভার বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী ও বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান। এদিন বাম-কংগ্রেসের যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে সুজনবাবু বলেন, সরকার যা হিসেব দিচ্ছে তাতে তো মনে হচ্ছে লোকের থেকে কাজ বেশি। মানুষের পিছনে কাজ দৌড়চ্ছে!

    যাদবপুরের বিধায়কের কথায়, “গতবার বাজেটে বলা হল রাজ্যে নাকি ১ কোটি ১০ লক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হয়ে গেছে। এবার বলা হল আরও ৯ লক্ষ হয়ে গেছে। সব দেখে তো মনে হচ্ছে লোকের পিছনে কাজ দৌড়চ্ছে।” তিনি বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি কিন্তু তা নয়। রাজ্যের লক্ষ লক্ষ বেকার যুবক-যুবতী হন্যে হয়ে ঘুরে বেরাচ্ছেন। কিন্তু একটা কাজ পাচ্ছেন না।

    অমিত মিত্রর পেশ করা বাজেটকে ভুল তথ্যে ভরা ও অর্ধসত্য বলে তোপ দাগেন সিপিএমের এই কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।
    অন্যদিকে কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব্য, অমিত মিত্র পুরোটাই ভাঁওতা দিচ্ছেন। কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার যে পরিসংখ্যান দিচ্ছেন তা আসলে একটা বিভ্রান্তিকর বিষয়। প্রকৃতপক্ষে কতজনের কর্মসংস্থান হয়েছে সে কথা তিনি কিন্তু বলছেন না। এগুলো হল লোক ঠকানো বিদ্যে। সরকার কাল বলতেই পারে, বাংলায় পাঁচ কোটি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু তার মানে এই নয় পাঁচ কোটি লোকের কাজ হয়েছে। দেখা যাবে পাঁচশ লোকেরও কাজ জোটেনি। বাংলায় নতুন শিল্প না হলে তা সম্ভবও না।

    রাজ্য সরকার যে ধারের কথা বলেছে তা নিয়েও পাল্টা পরিসংখ্যান দিয়েছেন বাম নেতারা। সুজনবাবু বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে ২০১১—এই ৬৪ বছরে বাংলার ঋণ ছিল ১ লক্ষ ৯২ হাজার কোটি টাকা। আর গত আট বছরে এই সরকার এসে ঋণ করেছে ২ লক্ষ ৮২ হাজার কোটি টাকা। নিজেরা ঋন করে সেটা নিয়েই কাঁদুনি গাইছে সরকার।” একই সঙ্গে প্রশ্ন তুলে আবদুল মান্নান বলেন, “এই বাজেটেও দেখলাম ৮০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেই ঋণ দিয়েই ঋণের টাকা শোধ করবেন। তার পরিমাণ ৪৫ হাজার কোটি টাকা। আর বাকি ৩৫ হাজার কোটি টাকা কোথায় যাবে?”

    এদিন বাজেট বক্তৃতা শেষ করার পর অর্থমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করেছিলেন, কেন্দ্রের কাছে সব মিলিয়ে প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। সুজনবাবু বলেন, “এতই যদি কেন্দ্র বঞ্চনা করে, তাহলে রাজ্যপালের বক্তৃতায় সরকার সেসব উল্লেখ করল না কেন?”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More