ক্লাসে ধর্মগুরুর কার্টুন দেখানোর জন্য শিক্ষকের মুণ্ডচ্ছেদ, গ্রেফতার ৯

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ক্লাসে মুসলিম ধর্মগুরুর কার্টুন দেখিয়েছিলেন শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাতি। স্কুল চত্বরের বাইরে তাঁর মাথা কেটে নেয় জঙ্গিরা। ৪৭ বছর বয়সী স্যামুয়েলকে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ন’জনকে। শনিবার ফরাসি সরকারি সূত্রে জানা যায়, ১৮ বছর বয়সী এক চেচেন নাগরিক স্যামুয়েলকে হত্যা করে। পরে সেও পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। পরে তার দুই ভাই ও ঠাকুরদা-ঠাকুরমাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।

প্যারিস থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরত্বে একটি স্কুল চত্বরের সামনে এই ঘটনা ঘটে শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার সময়। স্কুল থেকে বেরিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন শিক্ষক। সেই সময় আততায়ীরা হামলা চালায় তাঁর উপরে।

পড়ুয়াদের অভিভাবকদের বক্তব্য, ওই শিক্ষক ছিলেন মুক্ত চিন্তার মানুষ। কোনও ধর্মের প্রতিই তাঁর আক্রোশ ছিল না। তিনি শুধু নিজের মতামত জানাতেন। ক্লাসে ছাত্রদের মুসলিম ধর্মগুরু মহম্মদের কার্টুন দেখিয়ে নিজের বক্তব্য পেশ করছিলেন শিক্ষক। তবে তার আগে ক্লাসের মুসলিম ছাত্রদের বেরিয়ে যেতে বলেছিলেন তিনি। শিক্ষক বলেছিলেন, “আমি কারও মনে আঘাত দিতে চাই না। সত্যিটা শুধু তুলে ধরব। আমার মুসলিম ছেলেমেয়েরা, তোমরা কিছুক্ষণের জন্য বাইরে যাও।” সেই দিনই স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে জঙ্গি হামলার শিকার হন শিক্ষক।

ফরাসি কার্টুন পত্রিকা শার্লি এবদো-র অফিসে মৃত্যুহানার পিছনেও ছিল নিয়মিত মহম্মদ বা ইসলাম ধর্ম ইত্যাদি নিয়ে তীব্র ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন প্রকাশ করা। ২০১৫ সালে ইসলাম ধর্মগুরুর কার্টুন ছাপানোয় পত্রিকার দফতরে হামলা চালায় জঙ্গি সংগঠন আল-কায়দা। সেই ঘটনায় নাম জড়ায় শেরিফ ও সঈদ কুয়াচি নামের দুই ভাইয়ের। নিজেদের আলকায়দার ইয়েমেন শাখার জঙ্গি বলে পরিচয় দেয় তারা। গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যান পত্রিকার ১২ জন শিল্পী ও কর্মী। তার তিন দিনের মধ্যে ফের হামলা চালিয়ে আরও পাঁচ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। সেই শুরু। এর পর গত কয়েক বছরে জঙ্গি হামলায় ফ্রান্সে আড়াইশো থেকে তিনশো জন নিহত হয়েছেন। শার্লি এবদো মামলায় জঙ্গিদের সাহায্য করার জন্য সম্প্রতি দোষী সাব্যস্তও করা হয়েছে কয়েকজনকে।

গত সেপ্টেম্বরেও প্যারিসে ছুরি হামলায় নিহত হন একটি চ্যানেলের দুই কর্মী। এর পর থেকেই কড়া নিরাপত্তায় মোড়া ফ্রান্সের রাজধানী। তবে নিরাপত্তার ফাঁক গলেও ফের ভয়ঙ্কর সন্ত্রাস হামলার সাক্ষ্মী হতে হল প্যারিসকে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More