বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

লুচি-আলুরদমের পর এই প্রথম মমতার মঞ্চে সব্যসাচী , উঠল ‘গো ব্যাক’ স্লোগান

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুকুল রায় তাঁর বাড়িতে গিয়ে লুচি-আলুরদম খেয়েছিলেন। তারপর থেকে বিধাননগরের মেয়র তথা রাজারহাট-নিউটানের তৃণমূল বিধায়ক সব্যাসাচী দত্তকে নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বিধাননগরের সমস্ত কাউন্সিলরদের সঙ্গে নিয়ে শ্রীভূমি ক্লাবে সব্যসাচীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। কিন্তু তার পরেও জল্পনার অবসান হয়নি। অবশেষে বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মঞ্চে দেখা গেল সব্যসাচীকে। কিন্তু মঞ্চের নীচে থাকা তৃণমূলের কর্মীসমর্থকরাই তুললেন ‘গো ব্যাক’ স্লোগান।

বারাসত কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সমর্থনে এ দিন নিউটাউনে জনসভা করেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী আসার ঠিক পাঁচ মিনিট আগে মঞ্চে আসেন সব্যসাচী। তখন এক দফা গো ব্যাক স্লোগান তোলেন তৃণমূল কর্মীরা। পরে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তৃতা চলার সময়েও ওই স্লোগান শোনা যায়। মুখ্যমন্ত্রীকে বার তিনেক বক্তৃতা থামিয়ে চুপ করতেও বলতে শোনা যায়।

অনেকেই মনে করেছিলেন সব্যসাচী হয়তো বিজেপি-তে যোগ দেবেন। সেই জল্পনা তিনি নিজেই তৈরি করেছিলেন। দোলের দিন সল্টলেকের একটি অনুষ্ঠানে গেরুয়া আবির মেখে বলেছিলেন। ‘ভারত মাতা কী জয়।’ আর দলের মধ্যে ব্রাত্য হচ্ছিলেন। একাধিক অনুষ্ঠানে তাঁর নাম বাদ গিয়েছে এই ক’দিনে। তৃণমূলের কর্মসূচি হয়েছে, অথচ সব্যসাচী ছিলেন না। কিন্তু এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর মঞ্চেও পার পেলেন না তিনি। শুনতে হল ‘গো ব্যাক’ স্লোগান।

বিধাননগরের বিধায়ক সুজিত বসুর সঙ্গে সব্যসাচীর কোন্দল তৃণমূলে সুবিদিত। সব্যসাচীর লুচি-আলুরদম এপিসোডে সল্টলেকের মহিষবাথানে একটি ক্লাব নিয়ে সুজিত-সব্যসাচী গোষ্ঠী সঙ্ঘর্ষে গোলাগুলিও চলেছিল। অনেকের মতে, সুজিতের অনুগামীরাই এ দিন এই স্লোগান দিয়েছেন। যদিও সুজিত অনুগামীদের দাবি, একটা অংশের কর্মীসমর্থক স্বতঃস্ফূর্ত ভাবেই এটা করেছে। এটা কাউকে শিখিয়ে দিতে হয়নি। তবে মুখ্যমন্ত্রী আসার পাঁচ মিনিট আগে তাঁর আসা নিয়েও তৈরি হয়েছে জল্পনা। কেন তিনি আগে এলেন না এই প্রশ্ন করায় সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেন, “আগে গেলে বাঘে খায়!”

Comments are closed.