ইবোলার ড্রাগ ‘রেমডেসিভির’ রুখতে পারে কোভিড-১৯ সংক্রমণ! দাবি আমেরিকার বিজ্ঞানীদের

ইবোলা আক্রান্ত রোগীদের উপরে এই ড্রাগ তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। কিন্তু বিজ্ঞানীদের দাবি, করোনার সংক্রমণ রোখার মতো ক্ষমতা নাকি আছে এই ড্রাগের। তাতে সম্মতি জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (হু)।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন নিয়ে গবেষণা চলছে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) বলেছে, কোভিড-১৯ সংক্রমণের ভাল প্রতিষেধক হতে পারে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন (Hydroxychloroquine)। করোনার ওষুধ বানাতে ম্যালেরিয়া প্রতিষেধক, এইচআইভি ও সোয়াইন ফ্লুয়ের ড্রাগ নিয়ে বিশ্বজুড়ে গবেষণা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। তার মধ্যেই আমেরিকা দাবি করেছে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে ইবোলা ভাইরাস প্রতিরোধী ড্রাগ ‘রেমডেসিভির’ (Remdesivir)বড় হাতিয়ার হতে পারে। ইবোলা আক্রান্ত রোগীদের উপরে এই ড্রাগ তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। কিন্তু বিজ্ঞানীদের দাবি, করোনার সংক্রমণ রোখার মতো ক্ষমতা নাকি আছে এই ড্রাগের। তাতে সম্মতি জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (হু)।

    রেমডেসিভির ড্রাগের আবিষ্কর্তা আমেরিকার জিলেড সায়েন্সেস। ২০১০ সালেই এই ড্রাগ তৈরি হয়। জিলেড সায়েন্সেস তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, সার্স ও মার্স ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে কিছুটা হলেও কাজে এসেছিল এই ড্রাগ। আর সার্স-কভ-২ (SARS-COV-2) যেহেতু সার্স  (SARS) ও মার্সের (MERS) মতোই করোনাভাইরাস পরিবারের সদস্য, কাজেই এই সংক্রমণ ঠেকাতেও রেমডেসিভির কাজে আসবে আশা করাই যায়। ইতিমধ্যেই চারজন করোনা আক্রান্ত রোগীর উপর এই ড্রাগের প্রভাব কার্যকরী হয়েছে বলে দাবি করেছেন জিলেড সায়েন্সেসের বিজ্ঞানীরা। যদিও এখনও গবেষণার স্তরেই রাখা হয়েছে রেমডেসিভিরকে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-এর ডিরেক্টর জেনারেল ব্রুস এইলওয়ার্ড বেজিংয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে বলেছেন, “এখনও অবধি একটি ড্রাগের উপরেই অনেকটা ভরসা করা যেতে পারে, আর সেই ড্রাগ হল রেমডেসিভির। আশা করা যায় অ্যান্টি-ভাইরাল এই ড্রাগ কোভিড-১৯ সংক্রমণ আটকাতে পারবে।”

    ২০১৪ সালে আফ্রিকাতে মহামারী হয়েছিল ইবোলা। ২০১৬ সাল অবধি হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল সংক্রমণে। সেই সময় রেমডেসিভির নিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। অনেকে দাবি করেছিলেন ইবোলার সংক্রমণ রুখতে কাজে এসেছিল এই ড্রাগ, আবার অনেক গবেষকের দাবি ছিল ইবোলার সংক্রমণ সেভাবে আটকাতে পারেনি রেমডেসিভির। তাই সেই সময় এই ড্রাগকে পরীক্ষার স্তরেই রাখা হয়েছিল।

    জিলেড সায়েন্সেসের বিজ্ঞানীরা বলেছেন, রেমডেসিভির নিউক্লিওটাইড অ্যানালগ (Nucleotide Analog)। এই ড্রাগের ফেজ-৩ ট্রায়াল হয়ে গেছে। পশুদের উপর এর প্রভাব কার্যকরী। চারজন করোনা আক্রান্ত রোগীর উপরেও এই ড্রাগ কাজ করেছে। তবে আরও বেশি ট্রায়ালের পরেই এই ড্রাগকে সবুজ সঙ্কেত দেওয়া যেতে পারে।

    ভারতেও রেমডেসিভির নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে অন্যতম বড় ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা সিপলা। কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ-ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব কেমিক্যাল টেকনোলজি (CSIR-IICT)-এর তত্ত্বাবধানে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ঠেকাতে অ্যান্টিভাইরাল তিন ড্রাগ ফ্যাভিপিরাভির, রেমডেসিভির ও বলোক্সাভির নিয়ে গবেষণা চলছে।

    তথ্যসূত্র:

    জিলেড সায়েন্সেসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More