চার ‘টি’ ফর্মুলায় করোনা জয় মুম্বইয়ের ধারাভির, এশিয়ার এই বৃহত্তম বস্তির প্রশংসায় হু কর্তাও

জেনেভার ভার্চুয়াল কনফারেন্সে হু কর্তা বলেছিলেন করোনা মহামারী রুখে যে দেশগুলি বিশ্বের দরবারে প্রশংসা পেয়েছে সেই ইতালি, স্পেন, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো মুম্বইয়ের ধারাভিও একই সারিতে রয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: দশ লক্ষ মানুষের ঘেঁষাঘেঁষি, ঘিঞ্জি বস্তিই এখন মডেল। অথচ মুম্বইয়ের এই ধারাভি বস্তিই একসময় করোনার হটস্পট হয়ে উঠেছিল। ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছিল মারণ ভাইরাসের সংক্রমণ। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। মুম্বইতে সংক্রমণ বাড়লেও ধারাভির করোনা কার্ভ কমতির দিকেই। বৃহন্মুম্বই পুরসভা জানিয়েছে ধারাভিতে আক্রান্ত কমেছে, মৃত্যুহারও কম। করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ধারাভির প্রশংসা শোনা গেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র ডিরেক্টর জেনারেল টেড্রস আধানম ঘেব্রেইসাসের মুখেও।

    জেনেভার ভার্চুয়াল কনফারেন্সে হু কর্তা বলেছিলেন করোনা মহামারী রুখে যে দেশগুলি বিশ্বের দরবারে প্রশংসা পেয়েছে সেই ইতালি, স্পেন, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো মুম্বইয়ের ধারাভিও একই সারিতে রয়েছে। এশিয়ার বৃহত্তম এই বস্তি এলাকা করোনার হটস্পট থেকে এখন মডেল হয়ে উঠেছে।

    বৃহন্মুম্বই পুরনিগম (বিএমসি)-এরজি নর্থ ওয়ার্ডের সহকারী মিউনিসিপ্যাল কমিশনার কিরণ দিগভকর জানিয়েছেন, ধারাভির এই করোনা জয়ের মূলে আছে চার ‘টি’এর ফর্মুলা। ট্র্যাকিং (Tracking) অর্থাৎ করোনা রোগীদের চিহ্নিত করা, ট্রেসিং  (Tracing) অর্থাৎ করোনা রোগীদের সংস্পর্শে আসাদের শনাক্ত করা তথা কনট্যাক্ট ট্রেসিং, কোভিড টেস্টিং  (Testing) এবং ট্রিটমেন্ট  (Treatment) অর্থাৎ চিকিৎসা। দিগভকরের কথায়, দ্রুত কোভিড টেস্টিং এবং কনট্যাক্ট ট্রেসিংয়ের মাধ্যমেই করোনা পজিটিভ রোগী ও তাদের সংস্পর্শে আসা সংক্রমণের সন্দেহে থাকা রোগীদের আলাদা করে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছিল। দ্রুত চিকিৎসায় সুস্থতার হারও বেড়েছিল। তিনি জানিয়েছেন, গত কয়েকমাসে বস্তির অন্তত ৬ থেকে ৭ লাখ মানুষকে স্ক্রিনিং করা হয়েছে। ১৪ হাজারের বেশি কোভিড টেস্টিং হয়েছে দিনের হিসেবে। এখনও ১৩ হাজারের বেশি মানুষ বিভিন্ন কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে ভর্তি রয়েছেন। বস্তিতে কমিউনিটি কিচেনও চালু করা হয়েছে। প্রতিটি ঘর স্যানিটাইজ করার ব্যবস্থা হয়েছে।

    আড়াই লক্ষ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ধারাভি বস্তি করোনার হটস্পট হয়ে ওঠে মার্চেই। বস্তির বছর ছাপান্নর এক প্রৌঢ়ের মৃত্যু হয়েছিল ভাইরাসের সংক্রমণ। সেই প্রথম। তিনি ছিলেন সাফাইকর্মী। এরপরে ওই বস্তি এলাকারই এক ডাক্তারের শরীরে ধরা পড়ে করোনা। ধীরে ধীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। অজস্র সরু গলি, ঘেঁষাঘেঁষি খুপরি ঘরগুলিতে গাদাগাদি করে মানুষের বাস, কমন টয়লেট, সব মিলিয়ে সংক্রমণ ঠেকানো অসম্ভব ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। মুম্বই স্বাস্থ্য দফতর জানায় ওই বস্তি এলাকাতে রয়েছেন অনেক টিবি রোগী, প্রবীণ ব্যক্তি যাদের ক্রনিক রোগ রয়েছে। তাছাড়া ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার প্রকোপও বেশি বস্তিতে। কাজেই করোনার মতো ছোঁয়াচে সংক্রমণ আটকানো দুরূপ ব্যাপার হয়ে ওঠে।

    কিরণ দিগভকরের কথায়, এরপরেই হাল ধরে বৃহন্মুম্বই পুরনিগম। ঘরে ঘরে স্ক্রিনিং শুরু হয়। দিগভকর বলছেন, ধারাভির প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ২ লক্ষ ২৭ হাজারের বেশি মানুষের বাস। প্রতি ঘরে ঘুরে স্ক্রিনিং ও টেস্টিং করার জন্য আলাদা করে টাস্ক ফোর্স তৈরি হয়। কাজে নামেন স্বাস্থ্যকর্মী, প্যারামেডিক্যাল স্টাফরা। এপ্রিল থেকে অন্তত ৪৮ হাজার পরিবারের থার্মাল স্ক্রিনিং করা হয়। ঘরে ঘরে গিয়ে লোকজনের শরীরের তাপমাত্রা ও অক্সিজেনে লেভেল মাপা হয়। সামান্য সন্দেহ হলেই কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। বস্তি এলাকাতেই তৈরি হয় অস্থায়ী ফিভার ক্লিনিক। প্রায় সাড়ে ৩৫০ স্থানীয় ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীকে এই কাজে লাগানো হয়।

    বিএমসি-র তথ্য বলছে, এখনও অবধি ধারাভিতে ২,৩৫৯ জন কোভিড আক্রান্ত হয়েছেন। তবে সংক্রমণ সারিয়ে সেরে উঠেছেন প্রায় দু’হাজার মানুষ। ধারাভিতে এখন করোনা সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ১৬৬ জন। ধারাভিতে সুস্থতার হারও বেশি। প্রায় ৫০ শতাংশ। অন্তত হাজার দুয়েক প্রবীণ ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টাইনে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাঁদের অনেকেই সেরে ওঠার পথে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More