শবরীমালায় সব বয়সী মহিলাদের প্রবেশাধিকার বজায় থাকবে কি? আজকের রায়ের দিকে তাকিয়ে গোটা দেশ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেরলের শবরীমালার আয়াপ্পা মন্দিরে সব বয়সী মহিলাদের প্রবেশে আর কোনও বাধা থাকবে না, গত বছরের শেষে এমন রায়ই দিয়েছিল দেশের শীর্ষ আদালত। ধর্মীয় আচারের অনেক উর্ধ্বে উঠে নারী-পুরুষের সমানাধিকারেই শিলমোহর দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। পুরনো প্রথা ভেঙে শবরীমালার দরজা খুলে দেওয়া হয়েছিল মহিলাদের জন্য। তার পরেও গড়ে উঠেছিল প্রতিরোধের পাঁচিল। রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জমা পড়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। আজ, বৃহস্পতিবার সেই রায় ঘোষণার দিন। কী হবে শবরীমালার রায়ে? আয়াপ্পা মন্দিরের দরজা কি ফের বন্ধ হয়ে যাবে মহিলাদের জন্য? গোটা দেশ তাকিয়ে শীর্ষ আদালতের দিকে।

    ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রর নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ শবরীমালার দরজা মহিলাদের জন্য খুলে দেয়। রায়ে বলা হয়, ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সী মহিলারাও আয়াপ্পা মন্দিরের গর্ভ গৃহে প্রবেশ করতে পারবেন। সুপ্রিম কোর্টের এই রায় কার্যকর করতে পারেনি কেরলের বামপন্থী সরকার। মন্দিরে প্রবেশাধিকারের বিরুদ্ধে জোরদার আন্দোলন, প্রতিবাদ, বিক্ষোভ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলে বিজেপি।

    বিক্ষোভকারীরা দাবি তোলে, শবরীমালার দেবতা চির ব্রহ্মচারী। সেটাই এখানকার বিশেষত্ব। হিন্দু ধর্মের আচারের বিরুদ্ধে গেলে গণআন্দোলন শুরু হবে। তার পর সেই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য ৬৫টি পিটিশনও দায়ের হয় সুপ্রিম কোর্টে। বর্তমান প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের বেঞ্চে সেই সব আর্জির শুনানি হয়েছে। আজ রায় ঘোষণা করবেন প্রধান বিচারপতি।

    প্রাচীন বিশ্বাস মেনে শবরীমালায় ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সি ঋতুমতী মহিলাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। বিশ্বাস ছিল, ঋতুমতী মহিলারা মন্দিরে প্রবেশ করলে মন্দিরের প্রধান বিগ্রহ আয়াপ্পার কৌমার্যব্রত ভেঙে যাবে। এই বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গিয়ে মন্দিরে প্রবেশের অধিকার দাবি করেন মহিলারা। মানবশৃঙ্খল গড়ে শুরু হয় তুমুল বিক্ষোভ-আন্দোলন। মামলা গড়ায় দেশের শীর্ষ আদালত পর্যন্ত। অবসরের আগে তাঁর শেষ রায়ে প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র বলেছিলেন, লিঙ্গভিত্তিক যে বৈষম্য গড়ে উঠেছে শবরীমালার মন্দিরকে কেন্দ্র করে সেটা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। সুপ্রিম কোর্ট এই অযৌক্তিকতাকে সমর্থন করে না। সংবিধানও এই লিঙ্গবৈষম্যের বিরুদ্ধে। মন্দিরের নিয়ন্ত্রক ত্রিবাঙ্কুরের দেবাস্বম বোর্ডও শীর্ষ আদালতের রায় মেনে নেয়। ফলে সব বয়সী মহিলারাই মন্দিরে ঢোকার প্রবেশাধিকার পেয়ে যান।

    বিজেপির দাবি ছিল, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ যেন কেরল সরকার কার্যকর না করে। শবরীমালা মন্দিরে যেন কোনওভাবেই মহিলাদের ঢুকতে দেওয়া না হয়। কিন্তু প্রবল প্রতিরোধের মধ্যেও মন্দির দর্শন করেন ৫১ জন মহিলা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More