হাঁপানিতে হাঁসফাঁস! ঠান্ডা বাড়লেই হাঁচি-কাশি-শ্বাসকষ্ট, কাবু করুন এইভাবে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো:  জাঁকিয়ে শীত পড়েছে। তাপমাত্রার পারদ যত নামছে ততই যেন বুকে পাথর চেপে বলছে। কখনও চিনচিনে ব্যথা, কখনও দমবন্ধ, হাঁসফাঁস দশা। ঘুমোতে গেলেই বুকের ভেতর সাঁই সাঁই। শ্বাস নিতে গেলে কাশির দমকে অস্থির। ঘন ঘন বুকে কফ,  লাগামছাড়া হাঁচি, টান, অ্যালার্জি, ইনহেলার—একেবারে যাচ্ছেতাই অবস্থা!

    হাঁপানি বা অ্যাজমা অতি বিষম বস্তু। আক্রান্তেরা এর যন্ত্রণা বিলক্ষণ জানেন, আর যাঁরা অল্প ঠান্ডাতেই হাঁচি-কাশি-শ্বাসকষ্টে অস্থির তাঁরা মুঠো মুঠো ওষুধ খেয়ে সাময়িক স্বস্তি পেয়ে ভাবেন, ‘এই তো অর্ধেক রোগ সেরেই গেল,’ তাঁদের জন্য সতর্কবার্তা। হাঁপানিকে মোটেও খাটো করে দেখা উচিত নয়। এর ছোবল থেকে নিস্তার নেই, শুধু বশে রাখা সম্ভব। আর অবহেলা করলে ফল হতে পারে প্রাণঘাতী।

    গোটা দেশেই দূষণ যেভাবে বাড়ছে তাতে হাঁপানি আরও প্রবলভাবে আসর জমিয়ে বসছে। দীপাবলি, ছটপুজোতে আতসবাজির বাড়বাড়ন্ত পেরিয়ে এখন শীতের কুয়াশা, গাড়ির ধোঁয়া, ফুলের রেণু, কালো ছায়ার মতো কার্বন-মনোক্সাইড সব মিলিয়ে প্রাণভরে শ্বাস নেওয়ার রাস্তাটুকুও বন্ধ। শিশু হোক বা বয়স্ক, অ্যাজমার টান উঠে টনটনিয়ে। অল্প হাঁটলেই বুকে ব্যথা, নাক আর শ্বাসের বাতাস টানতে পারছে না অগত্যা ইনহেলার, ঘুমোতে গেলেই বুকের ভেতর যেন সাইরেন বাজছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন হাঁপানি কখনও একেবারে সাড়ে না। এর প্রকোপকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, তার জন্য সামান্য কিছু নিয়ম মানলেই চলে। ওষুধের থেকে ঘরোয়া টোটকা সহজলভ্য আর আরামও মেলে বেশি।

    হাঁপানি হানা দেয় কেন?

    হাঁপানি বা অ্যাজমা (Ashthma) হয় মূলত শ্বাসনালীতে প্রদাহের কারণে। দীর্ঘকালীন প্রদাহের ফলে শ্বাসনালীর স্বাভাবিক ব্যস কমে যায় এবং সংবেদনশীলতা বাড়ে। ফলে ফুসফুসের ভিতর বায়ু ঢোকা ও বেরনোর পথ সংকীর্ণ হয়ে যায়। শ্বাসনালীর ভেতর মিউকাসের ক্ষরণ বাড়তে বাড়তে সেটা আরও সঙ্কুচিত হতে থাকে। সঠিক চিকিৎসা না হলে শ্বাসনালী পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। চিকিৎসকরা অনেক ক্ষেত্রেই বলেন অ্যাজমা বংশগত কারণে হতে পারে। তবে বর্তমান সময়ে যেভাবে ধুলো-দূষণ বাড়ছে তাতে হাঁপানির সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। আরও কিছু কারণে হাঁপানির টান বাড়তে পারে।

    আরও পড়ুন: বাতের ব্যথা মহামারী হয়ে উঠছে, গাঁটে-গাঁটে যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মিলবে কীভাবে

    হাঁপানির লক্ষণ—টান কি বাড়ছে?

    হাঁপানির লক্ষণ এক একজনের ক্ষেত্রে এক একরকমের। পালমোনোলজিস্টরা বলেন, সাধারণত অল্পেই হাঁপ ধরা, বুকে ব্যথা, শ্বাস নিতে গেলে সমস্যা, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাশি হওয়া, অনবরত হাঁচি, শ্বাস নিতে ও ছাড়তে গেলে বুকের ভেতর সাঁই সাঁই শব্দ, চোখ দিয়ে ক্রমাগত জল পড়া, চোখে জ্বালা—এইসবই হাঁপানির উপসর্গ। হাঁপানির সমস্যায় কখনও আগে টান ওঠে, পরে অন্যান্য লক্ষণ দেখা দেয়। আবার ঠিক এর উল্টোটাও হতে পারে।

    কী কী কারণে টান বাড়তে পারে–ফ্লু, নিউমোনিয়া জাতীয় শ্বাসযন্ত্রের কোনও রোগের ইতিহাস থাকলে ঠান্ডা বাড়লেই হাঁপানির টান বাড়তে থাকে।

    ভাইরাসের সংক্রমণ, ভাইরাল জ্বরে হাঁপানির সমস্যা অনেক বাড়ে।

    মেদবাহুল্য, অধিক পরিশ্রম, বেশি হাঁটাচলার কারণে টান বাড়তে পারে।

    পরিবেশ দূষণ অন্যতম কারণ। গাড়ির ধোঁয়া, বাতাসের ক্ষতিকর গ্যাস, স্মগ শ্বাসের সমস্যা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। অনেককেই পেশাগত কারণের জন্য রাসায়নিক বা ধপলো-ধোঁয়ার মধ্যে থাকতে হয়। সেক্ষেত্রে বিশেষভাবে সতর্ক থাকা উচিত।

    অ্যালার্জি থেকে বা অ্যালার্জি ইনডিউসড অ্যাজমায় আক্রান্ত হন বহু মানুষ। বাতাসে থাকা ফুলের রেণু, পোকামাকড়, বিশেষ কোনও খাবার, বালিশ, লেপ তোশকের ধুলো, পোষ্যের লোম ও স্যালাইভা, কোল্ড ড্রিঙ্ক—যে কোনও কিছু থেকে অ্যালার্জি হতে পারে।

    বিটা ব্লকার, অ্যাসপিরিন ও কিছু পেনকিলার অ্যাজমার সমস্যা বাড়ায়।

    মানসিক চাপ থেকেও রোগের উপসর্গ বাড়ে।

    কোনও কোনও মহিলা ঋতুস্রাবের আগে অ্যাজমার টানে ভোগেন। প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ার ফলে এমনটা হয়।

    আরও পড়ুন: স্তনবৃন্তে অস্বস্তি, লালচে দাগ! ব্রেস্ট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে পুরুষদের! অজ্ঞতা ডেকে আনছে মৃত্যু

    হাঁপানি থাকুক বশে

    ঠান্ডা লাগার ধাত থাকলে গরম পোশাক, সোয়েটার, স্কার্ফ সঙ্গে রাখা দরকার। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অফিসে কান-মাথা ভাল করে চাদরে জড়িয়ে বসলে ভাল।

    সঙ্গে সবসময় ইনহেলার রাখা জরুরি। ঋতুপরিবর্তনের সময় সর্দিজ্বর হলে হাঁপানির প্রবণতা বাড়ে। অনেক সময় অতিরিক্ত কায়িক পরিশ্রম করলেও টান ওঠে, যাকে ডাক্তারি ভাষায় বলে এক্সারসাইজ ইন্ডিউসড অ্যাজমা। সেক্ষেত্রে ইনহেলার সঙ্গে রাখা প্রয়োজনীয়। ইনহেলারের সাহায্যে ওষুধ নিলে তা সরাসরি শ্বাসনালীতে পৌঁছে যায়। রোগী দ্রুত আরাম পায়।

    অ্যালার্জি এই অসুখের এক অন্যতম কারণ। ধুলো, ধোঁয়া, বাতাসে ভেসে থাকা ফুলের রেণু, পোষা পশুপাখির লোম, রান্নাঘর ও বিছানার ধুলো, তুলোর আঁশ ইত্যাদি শ্বাসনালীর প্রদাহ সৃষ্টি করে। এর থেকে হাঁপানির টান বাড়ে। পশু-পাখির রোমে অ্যালার্জি থাকলে ঋতুবদলের সময় পোষ্যদের সঙ্গও এড়িয়ে চললে ভাল হয়।

    গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স বা অ্যাসিডিটি হলে অ্যাজমার কষ্ট বাড়ে। সেক্ষেত্রে খাবারদাবারে সচেতন থাকা প্রয়োজন। গরম চা হাঁপানির টানে উপশমের কাজ করে। গ্রিন টি বা লিকার চা খেলে কষ্ট কমে।

    ইউক্যালিপটাস তেল হাঁপানিতে খুব কার্যকর। গরমজলে দু‍‌’ফোটা এই তেল ফেলে ভেপার নিলে উপশম পাওয়া যায়। সর্ষের তেলে বুকে-পিঠে মালিশ করলেও আরাম পাওয়া যায়।

    আরও পড়ুন: 

    সুস্থ থাক নারীগর্ভ, পিছু হটো হিসটেরেকটমি, জানুন মেয়েরা কীভাবে সতর্ক থাকবেন

    এই শীতে ভাইরাল হেমোরেজিক জ্বরের ভয়, জানুন কোন কোন লক্ষণ দেখলেই ডাক্তারের কাছে যাবেন

    প্রতিদিন সকালে উষ্ণ গরম জলে পাতিলেবু ফেলে খেলে দূরে থাকবে হাঁপানি। ভিটমিন সি শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। তাছাড়া বিশেষজ্ঞরা বলেন, রাতে শোওয়ার আগে এক চামচ মধু খেয়ে শুলেও হাঁচি-কাশি থেকে অনেকটা রেহাই মেলে।

    ধূমপান অ্যাজমার ঝুঁকি বাড়ায়। প্যাসিভ স্মোকাররাও কিন্তু সুরক্ষিত নন।

    আট থেকে আশি যে কোনও বয়সেই অ্যাজমা হতে পারে। এদের প্রত্যেকেরই উচিত বাধ্যতামূলক ভাবে নিউমোনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও চিকেন পক্সের টিকা নেওয়া। কেননা, হাঁপানির সঙ্গে সঙ্গে নিউমোনিয়া বা চিকেন পক্স হলে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More