Latest News

ভঙ্গুর হাড়, শরীরের জটিলতা নিয়েও কেরলে মুমূর্ষুদের ত্রাতা তিন ফুটের ইউনুস

দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাড়ের জটিল রোগে আক্রান্ত কেরলের ইউনুস (Yoonus Parassery)। ইউনুস পরাসেরির রোগের নাম অস্টিওজেনেসিস ইম্পারফেক্টা (Kerala)। শরীরের সমস্ত হাড় এই রোগের ছোবল ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। জটিল রোগ দেহে পুষে ছ’বছর আগে পর্যন্তও ঘরের চার দেওয়ালেই বন্দি থাকতেন ইউনুস। কিন্তু একদিন বদলে যায় তাঁর জীবন। ঘরবন্দি তিন ফুট উচ্চতার সেই ইউনুস এখন কেরলের বহু মানুষের ত্রাতা। নিজের রোগকে তুচ্ছ করে দিয়ে তিনি সকলের সেবা করে বেড়ান, সেবাতেই খুঁজে পান মুক্তি।

আরও পড়ুন: পাক হকি তারকাদের সঙ্গে রোজা করছেন দলের ডাচ কোচও

ইউনুসের বয়স ৪০। কেরলের তিরুর জেলার থেক্কান কুট্টুর এলাকার বাসিন্দা তিনি। সমাজসেবাকেই বানিয়ে ফেলেছেন জীবনের ব্রত। রোগের যাবতীয় জটিলতা যার কাছে তুচ্ছ হয়ে গেছে। মুমূর্ষু রোগীর রক্ত জোগাড় করে দেওয়া থেকে শুরু করে খাবার, ওষুধ, সব কিছুই মেলে তাঁর কাছে। কেরলের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘মালয়ালম চ্যারিটি’র হয়ে কাজ করেন তিনি। বিভিন্ন ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্তের জোগান দেন। অভুক্তদের মুখে তুলে দেন খাবার। মুমূর্ষু রোগীর ওষুধ জোগাড় করেও প্রাণ বাঁচিয়েছেন অনেকের। অথচ তাঁর নিজের শরীরই রোগে জর্জরিত। শারীরিক প্রতিকূলতাকে জয় করে আজ জীবনের সংগ্রামে জিতেছেন ইউনুস। বহু মানুষের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন নিজের অজান্তেই।

Yoonus Parassery

ইউনুস বলেন, ‘আমার মতো আরও অনেক মানুষ রয়েছেন, যাঁদের জীবনটা হয়তো কেটে যায় ঘরের চার দেওয়ালে বন্দি হয়েই। হয়তো তাঁরাও বিছানায় শুয়ে শুয়ে রোজ দেখছেন টিকটিকি বা মাকড়সার চলাফেরা, গতিবিধি, ঠিক যেমন কয়েকবছর আগে আমি করতাম। এই বিশেষভাবে সক্ষম মানুষগুলোর খুব মন খারাপ হয় যখন তাঁরা দেখেন পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ঘুরতে যাচ্ছেন তাঁদের একা রেখে। এই ধরনের মানুষদের ঘরের বাইরের জগতটার সঙ্গে পরিচয় করানো দরকার। তখন জীবনের মানে খুঁজে পাবেন তাঁরাও। ওঁদের পথ দেখানোর মানুষ দরকার।

ইউনুসের যখন চার মাস বয়স তখন তাঁর রোগ ধরা পড়েছিল। তারপর থেকে দীর্ঘ সময় ঘরবন্দি হয়ে কেটেছে তাঁর। আজ বাইরের জগতের স্বাদ পেয়েছেন তিনি, নতুন করে সাজিয়ে তুলেছেন নিজের জীবন, নিজেকেই যেন নতুন করে আবিষ্কার করেছেন।

এক স্বেচ্ছাসেবীর সংস্পর্শে এসেই বদলে যায় ইউনুসের জীবন। তিনি বলেন, নাজের কুট্টুর নামের এক ভদ্রলোক ৬ বছর আগে প্রথম আমার সমস্যাগুলি ধরতে পারেন। তার আগে আমি মনে করতাম বাইরে বেরোলে আমার সমস্যা আরও বেড়ে যাবে। কিন্তু নাজের আমায় বোঝান আমার মতো আরও অনেকেই আছেন যাঁরা জীবনটাকে আরও সুন্দরভাবে সাজিয়েছেন। ওঁর জন্যেই আমি কন্যাকুমারী, তিরুবনন্তপুরমের মতো জায়গা নিজের চোখে দেখতে পেরেছি। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে সমাজসেবার কাজে হাতেখড়ি হয় ইউনুসের। কোভিডের সময়ও মুমূর্ষু অসহায়দের জন্য জান লড়িয়ে দিয়েছিলেন ইউনুস। নিজের এই দুরন্ত কর্মদক্ষতার জন্য ইউনুস এখন গোটা এলাকার চোখের মণি হয়ে উঠেছেন।

You might also like