Latest News

তিব্বত সফরে চিনের প্রেসিডেন্ট, সীমান্ত বিরোধ নিয়ে পরোক্ষে বার্তা ভারতকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : চিনের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরে চলতি সপ্তাহে প্রথমবার তিব্বত সফরে গেলেন শি জিনপিং। সেখানে তিনি জানালেন, হিমালয়ে পরিকাঠামো নির্মাণে আরও জোর দেওয়া হবে। আজ থেকে ৭০ বছর আগে তিব্বতে চিনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই উপলক্ষে শি স্থানীয় সংখ্যালঘু জনজাতিদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, তাঁরা যেন দেশকে রক্ষার কাজে সেনাবাহিনীকে সাহায্য করেন। তিব্বতে লাল ফৌজের শিবির নাইঙ্গত্রিতেও যান শি।

এই সফরের মাধ্যমে চিনের প্রেসিডেন্ট ভারতকেই বার্তা দিতে চেয়েছেন বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা। চিনের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত বিরোধ গত বছর তীব্র আকার নেয়। এই পরিস্থিতিতে তিব্বতে চিনারা পরিকাঠামো তৈরি করলে সেনাবাহিনীর যাতায়াতে সুবিধা হবে। শি কার্যত ভারতকে জানাতে চেয়েছেন, সীমান্ত বিরোধ নিয়ে আদৌ নরম হবে না চিন।

ব্রিটিশ লেখক তথা তিব্বত বিশেষজ্ঞ রিবার্ট বার্নেট বলেন, “শি-র বার্তা ভারতের পক্ষে যথেষ্ট উদ্বেগজনক।” সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি কয়েকটি ভিডিও আপলোড করেছেন। তাতে দেখা যাচ্ছে, চিনের প্রেসিডেন্ট তিব্বতের স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন। বার্নেটের মতে, শি বোঝাতে চেয়েছেন, ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধের বিষয়টি তাঁর সরকার যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

গত ২০০৮ সালে তিব্বতে চিনের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা দেয়। তিব্বতীদের অভিযোগ ছিল, চিনের সরকার তাদের ধর্মে হস্তক্ষেপ করেছে। সেই বিক্ষোভে অন্তত ১২ জন নিহত হন। কয়েক বছর বাদে চীনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়ে কয়েকজন তিব্বতী আত্মাহুতি দেন।

গত বৃহস্পতিবার তিব্বতের রাজধানী লাসায় পৌঁছন শি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন উপপ্রধানমন্ত্রী লিউ হে এবং মিলিটারি কমিশনের চেয়ারম্যান ঝাং ইউক্সিয়া। লাসায় এক বৌদ্ধ মঠে গিয়ে শি বলেন, তিব্বতের সংস্কৃতিকে সম্মান করতে হবে। বিভিন্ন জনজাতির মধ্যে রক্ষা করতে হবে সম্প্রীতি। তিব্বতের বৌদ্ধদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, সমাজতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তোলার কাজে তাঁরা যেন সহায়তা করেন।

একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিব্বতীদের এক জমায়েতের সামনে শি বলছেন, “আমি নিশ্চিত, তিব্বতের সব জনজাতি সুখী ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে। আমি প্রত্যেকের সুখী জীবন ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি।”

উত্তর ভারতে প্রতিষ্ঠিত প্রবাসী তিব্বতী সরকারের মুখপাত্র তেনজিন লেকশায় বলেন, শি-র উচিত তিব্বতীদের আশা-আকাঙ্খার কথা বোঝা। চিনের সঙ্গে তিব্বতের বিরোধ মেটানোর জন্য তাঁর উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

You might also like