Latest News

চরম দারিদ্র দূর করার জন্য ‘হিউম্যান মিরাকল’ করেছে চিন, দাবি শি জিনপিং-এর

দ্য ওয়াল ব্যুরো : আর কোনও দেশ এত অল্প সময়ের মধ্যে লক্ষ লক্ষ মানুষকে দারিদ্রসীমার ওপরে তুলে আনতে পারেনি। বৃহস্পতিবার বেজিং-এ এক ঝলমলে অনুষ্ঠানে এই দাবি করলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এদিন তিনি গ্রামোন্নয়ন দফতরের অফিসারদের পদক দেন। অফিসারদের অনেকে তাঁদের আঞ্চলিক পোশাক পরে এসেছিলেন। এই উপলক্ষে শি বলেন, “চরম দারিদ্র দূর করার জন্য হিউম্যান মিরাকল করেছে চিন।” অবশ্য ‘হিউম্যান মিরাকল’ বলতে কী বোঝাতে চাইছেন, শি তা স্পষ্ট করেননি। এছাড়া চিনের কমিউনিস্ট পার্টি কোন মাপকাঠি থেকে ‘চরম দারিদ্র দূর করার’ কথা বলছে, তাও পরিষ্কার নয়।

শি বলেন, দারিদ্র দূরীকরণে চিন যা সাফল্য পেয়েছে, সেই অভিজ্ঞতা থেকে অন্য দেশও লাভবান হতে পারে। গত বছরও চিন দাবি করেছিল, সেদেশের কেউই এখন আর দারিদ্রসীমার নীচে পড়ে নেই। যে ব্যক্তির দৈনিক রোজগার ২.৩০ মার্কিন ডলার তাকেই চিনে দরিদ্র বলে ধরা হয়। বিশ্ব ব্যাঙ্কের মাপকাঠি অনুযায়ী যে ব্যক্তির দৈনিক রোজগার ১.৯০ ডলার, তিনি দরিদ্র। সেই তুলনায় চিনের মাপকাঠিতে দরিদ্রদের দৈনিক রোজগার সামান্য বাড়িয়ে ধরা হয়েছে।

বিশ্ব ব্যাঙ্কের মতে, সাতের দশকের শেষদিকে চিনে বাজার অর্থনীতি চালু হওয়ার পরে ৮০ কোটি মানুষের দারিদ্র দূর হয়েছে। চিনের প্রেসিডেন্টের দাবি, সেদেশের সব মানুষেরই দারিদ্র দূর হয়েছে। শুধু তাই নয়, এখনও যে দেশগুলি দারিদ্র দূর করতে পারেনি, তাদেরও সাহায্য করছে চিন।

২০২০ সালে চিনের কমিউনিস্ট পার্টির ১০০ বছর পূর্তি হচ্ছে। ২০১৫ সালে শি ঘোষণা করেছিলেন, ’২০ সালের মধ্যে দেশ থেকে দারিদ্র দূর করবেন। সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করার জন্য চিন সরকার পরিকাঠামোয় শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করে। দেশ জুড়ে অনেক রাস্তা ও আবাসন তৈরি হয়। গ্রামে দারিদ্র দূর করার জন্য করছাড় ও ভরতুকি দিতে থাকে।

আন্তর্জাতিক মহল স্বীকার করেছে, সাতের দশকের পরে চিনের নাগরিকদের একাংশের জীবনযাত্রায় নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। তাঁরা এখন এমন অনেক পণ্য ও পরিষেবা কিনতে পারছেন, যা তাঁদের আগের প্রজন্ম চিন্তাই করতে পারত না। কিন্তু চিন সত্যিই চরম দারিদ্র দূর করতে পেরেছে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ আছে অনেকের। অর্থনীতিবিদদের একাংশ বলছেন, দারিদ্রের জন্যই চিনে বৃদ্ধি পেয়েছে দুর্নীতি। সেদেশের সরকারি তথ্যও কতদূর বিশ্বাস করা যায়, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

You might also like