Latest News

কমনওয়েলথে ভারতীয় কুস্তির দাপট, বন্দরের নোটিসে কপালে ভাঁজ কলকাতার পালোয়ানদের!

সুকমল শীল

ক্রিকেট-ফুটবল-টেনিসের রমরমায় খেলার দুনিয়ায় কুস্তি এখন দুয়োরানি হলেও কলকাতা-সহ বিভিন্ন জেলার কিছু ছেলেমেয়ে আজও মেতে কুস্তির (Wrestling Kolkata) মারপ্যাঁচে। চলতি কমনওয়েলথ গেমসে (CWG 2022) ভারতীয় কুস্তিগীরদের জয় জয়কার। সাক্ষী মালিক, রবিকুমার দাহিয়া, ভিনেশ ফোগত-সহ ভারতীয় কুস্তিগীরদের হাত ধরে চলতি কমনওয়েলথে ৬টি সোনা এসেছে ভারতের ঝুলিতে। মোট পদক এসেছে ১১টি। কমনওয়েলথে সাফল্যের পর ফের উৎসাহ ফিরলেও কপালে ভাঁজ কলকাতার উঠতি পালোয়ানদের।

Image - কমনওয়েলথে ভারতীয় কুস্তির দাপট, বন্দরের নোটিসে কপালে ভাঁজ কলকাতার পালোয়ানদের!
চলছে জোর লড়াই।

মল্লিকঘাট ফুলবাজার সংলগ্ন ছটুলাল ঘাটের পাশে ৭০ বছরের পুরোনো ‘সিয়ারাম ব্যায়াম আখড়া’ এখন অস্তিত্ব সঙ্কটে। সম্প্রতি বন্দর কর্তৃপক্ষ মল্লিকঘাটে নোটিস টাঙিয়ে জানিয়ে গেছেন, বাণিজ্যিক হারে ভাড়া দিতে আখড়ার। নাহলে ১৫ দিনের মধ্যে আখড়া উচ্ছেদ করে দেওয়া হবে। এরপর থেকেই চিন্তায় পড়েছেন পালোয়ানরা। শিঁকেয় উঠেছে মুগুরভাজা।

লক্ষ্য সেনের লক্ষ্যভেদ, ব্যাডমিন্টনে ফের সোনার মুকুট ভারতের

এই আখড়ার সম্পাদক ও ‘গুরুজি’ জোয়ালা তিওয়ারি বললেন, ‘আমরা বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিই। কুস্তির প্রশিক্ষণ নিতে আসা ছেলেমেয়েরা বেশিরভাগই অভাবী পরিবারের। প্রায় ৬০-৭০ জন ছেলেমেয়ে এখানে প্রশিক্ষণ নেয়। ভোর পাঁচটা থেকে মাটি মেখে শুরু হয় কুস্তি। এতদিন আমরা ৪৭০ টাকা মাসিক বিল দিতাম। বন্দরের দাবি এখন এই আখড়া বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, তাই ৭৬ হাজার টাকা বিল চাওয়া হয়েছে।’

আগ্রহ বেড়েছে কুস্তির।

এই আখড়াতেই প্রশিক্ষণ নিয়েছেন জাতীয় স্তরের কুস্তিগীর সুরজ তিওয়ারি। একাধিক পদক জিতেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘বন্দর ডোমেস্টিকের বদলে, কমার্শিয়াল হিসাবে বিবেচনা করছে এই আখড়াকে। তাই টাকার অঙ্ক এক ধাক্কায় কয়েক হাজার গুণ বেড়ে গেছে। এতে সমস্যায় পড়বে উঠতি কুস্তিগীররা।’

Image - কমনওয়েলথে ভারতীয় কুস্তির দাপট, বন্দরের নোটিসে কপালে ভাঁজ কলকাতার পালোয়ানদের!

অবশ্য কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি ওই আখড়া ছাড়াও আলাদা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় মল্লিকঘাটে। যা চালান ওই আখড়ার পালওয়ানরাই। ওই জায়গা জবরদখল করে রাখা হয়েছে। সেকারণেই নিয়ম অনুযায়ী ভাড়া দিতে হবে। যে কারণেই ওই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, আগে কলকাতায় বহু জায়গায় কুস্তির চর্চা হলেও এখন তা বন্ধের মুখে বললেই চলে। বাগবাজার তরুণ সঙ্ঘেও একসময় কুস্তির আখড়া ছিল বলে দাবি করলেন স্থানীয় সমীর দাস। তিনি বললেন, ‘এখন আর কেউ নিজের ছেলেমেয়েদের কুস্তি শেখাতে চান না। সেই জায়গা নিচ্ছে টেনিস, ক্রিকেট, জিম ইত্যাদি। সেইসঙ্গে এখন শরীরচর্চা হিসেবে শেখানো হচ্ছে হিপহপের মতো নাচ।’

You might also like