Latest News

Women Power: নারীশক্তির অনন্য নজির! এই গ্রামের সব বাড়ির নেমপ্লেটেই মহিলাদের নাম

দ্য ওয়াল ব্যুরো

সে রাজ্যের প্রত্যন্ত গ্রামটির নাম আগে কখনও সামনে আসেনি। তেমন কোনও কৃতিত্ব বা গৌরবের ঘটনারও সাক্ষী হয়নি গ্রামটি। কিন্তু সেই গ্রামের মানুষই সম্প্রতি এমন এক কাণ্ড ঘটিয়েছেন, যে সারা দেশের সামনে নতুন এক উদাহরণ তৈরি করেছে গ্রামটি (Women Power)। সাম্প্রতিক সময়ে যখন লিঙ্গ বৈষম্য যখন দেশের একটা বড় সমস্যা, তখন এই গ্রামের প্রতিটি বাড়ির নেমপ্লেটে লেখা হচ্ছে মেয়েদের নাম (Women Power)! এমনকী রাস্তার নামকরণও হচ্ছে এলাকার বিশিষ্ট মহিলাদের নামে। নারীশক্তির প্রতি সম্মান জানাতেই পাঞ্জাবের ভাতিন্ডা জেলার হিম্মতপুরা গ্রামে এমন ব্যবস্থা চালু হয়েছে সম্প্রতি।

তবে হিম্মতপুরা প্রথম নয়। এর আগেও, ২০১৫ সালের জুলাই মাসে হরিয়ানার বিবিপুর গ্রামের নাম জানা গিয়েছিল এই একই কারণে। কন্যাভ্রূণ হত্যা, ধর্ষণ, সম্মানরক্ষার্থে খুনের মতো ঘটনায় হরিয়ানার নাম বারবার সামনে এলেও, বিবিপুর গ্রামের নিয়ম বদলে দিয়েছিলেন বাসিন্দারা। মহিলাদের আলাদা সম্মান দিতে সারা গ্রামের প্রতিটি বাড়ির নেমপ্লেটে লিখেছিলেন বাড়ির মহিলার নাম (Women Power)।

এবার তেমনটাই ঘটল পাঞ্জাবের হিম্মতপুরায়। গোটা রাজ্যের প্রায় সমস্ত বাড়ির নেমপ্লেটে পুরুষদের নামই লেখা। সারা দেশের পরিসংখ্যানও প্রায় তেমনটাই। এমনই একটা সময়ে হিম্মতপুরা গ্রামের ৩৫০টি পরিবার বদলে দিয়েছে বাড়ির নেমপ্লেটে পুরুষের নাম থাকার সেই চিরাচরিত নিয়ম। তারা বাড়ির নেমপ্লেটে মহিলা সদস্যদের নাম রাখার পাশাপাশি নারীশক্তি-সম্পর্কিত একটি স্লোগানও লিখে রাখছে (Women Power)।

লিঙ্গবৈষম্যের বেড়া ভেঙে গেছে এ গ্রামে (Women Power)

সম্প্রতি পাঞ্জাবের স্বাস্থ্য দফতরের একটি রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে, যে এই গ্রামে মহিলাদের জন্মের হার বেশি। ১০০ জনের মধ্যে ৫৫ জনই মহিলা। গ্রামের বাসিন্দারা বেশির ভাগই চাষাবাদের কাজে যুক্ত। পুরুষদের সঙ্গে একই ভাবে হাতে হাত লাগিয়ে কাজ করেন মহিলারাও। শুধু তা-ই নয়, ওই গ্রামের ছয় সদস্যের পঞ্চায়েতের প্রধানও এক জন মহিলা। তিনি ছাড়াও আরও দু’জন মহিলা সদস্য রয়েছে পঞ্চায়েতে (Women Power)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত মহিলাদের অনুপ্রাণিত করার জন্য এবং সম্মান জানানোর জন্যই গ্রামের রাস্তা ও বাড়ির নেমপ্লেটে তাঁদের নাম লেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এর জন্য গ্রাম পঞ্চায়েতের এক সদস্য গ্রামবাসীদের ১০ হাজার টাকা অনুদানও দেন (Women Power)।

শুধু তাই নয়। নেমপ্লেট বদলানোর অভিযানের পাশাপাশি, গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে একটি বিশেষ ফান্ডও তৈরি হয়। যা থেকে প্রতিটি মেয়ের বিয়ের সময় ৫,১০০ টাকা ও জন্মের সময় ১,১০০ টাকা উপহার দেওয়ার প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। সেই সঙ্গে যদি গ্রামের কোনও মেয়ে পড়াশোনা বা খেলাধুলোয় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে, তাদের পুরস্কৃতও করা হয় (Women Power)।

এই প্রসঙ্গে গ্রামের সরপঞ্চ মালকিত কৌর বলেন, “গ্রামে কোনও দিনই মেয়েদের সম্মানের অভাব হয়নি। কিন্তু বাড়ির গেটে থাকা নেমপ্লেটে তাঁদের নাম লেখা চালু হওয়ার পর থেকেই গ্রামের মহিলাদের আত্মবিশ্বাস বেড়ে গিয়েছে।” (Women Power)

এর পাশাপাশি গ্রামের নাবালিকা মেয়েদের বিয়ে রুখতে তাদের পড়াশোনা ও খেলাধুলোর জন্য আলাদা করে অনুপ্রেরণাও দেন মালকিত নিজে। তিনি জানান, “আসলে আমাদের মূল লক্ষ্য হল, যে ভাবেই হোক মেয়েদের সাবলম্বী করে তোলা। স্বনির্ভরতা অনেক ক্ষেত্রেই বৈষম্যের শিকার হওয়া থেকে বাঁচায় মেয়েদের।” (Women Power)

ভারতের একমাত্র মহিলা কমব্যাট ট্রেনার সীমা রাও

You might also like