Latest News

অনুব্রতকে কি সাসপেন্ড করবে পার্টি, কী জানাল তৃণমূল?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee) গ্রেফতার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তৃণমূল (TMC) সাংগঠনিক ভাবে কোনও পদক্ষেপ করেনি। দ্বিতীয় দফায় অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাট থেকে টাকা উদ্ধারের পরে পরই পার্থকে প্রথমে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর সেদিন বিকেলে দল থেকে সাসপেন্ড করে তৃণমূল। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) ক্ষেত্রে কী করবে শাসকদল?

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ প্রশ্নের জবাব দিল তৃণমূল কংগ্রেস।

অনুব্রত মণ্ডল বীরভূমের জেলা সভাপতির পাশাপাশি জাতীয় কর্মসমিতিরও সদস্য। গরু পাচার মামলায় বৃহস্পতিবার তাঁকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। এদিন বিকেলে তৃণমূলের তরিফে সাংবাদিক সম্মেলন করেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং প্রাক্তন বিধায়ক সমীর চক্রবর্তী। চন্দ্রিমা জানিয়েছেন, দলে শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি রয়েছে। সর্বোপরি নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রয়েছেন। যথা সময়ে যা হওয়ার হবে।

অনুব্রতর ১০ দিনের সিবিআই হেফাজত ঘোষণা করল আসানসোলের বিশেষ আদালত

তালড্যাংরার প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূল মুখপাত্র সমীর চক্রবর্তী চন্দ্রিমার পাশে বসে আবার বলেন, পার্থবাবু গ্রেফতার হওয়ার পাঁচ দিন পর দল তাঁকে সাসপেন্ড করেছিল। অনুব্রত গ্রেফতার হয়েছেন মাত্র কয়েক ঘণ্টা হল। ধৈর্য ধরুন।

সমীর চক্রবর্তী তৃণমূলে বুয়া নামে পরিচিত। তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেও সুবিদিত। এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে বার বার এটাই স্পষ্ট হয়েছে যে এ ব্যাপারে অভিষেকের মতের গুরুত্ব রয়েছে। যেমন চন্দ্রিমা বলেছেন, অভিষেক জানিয়ে দিয়েছেন, দুর্নীতির প্রশ্নে জিরো টলারেন্স নিয়ে চলবে দল। ফলে সাংবাদিক বৈঠক দেখে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, সমীরবাবু কীসের ইঙ্গিত করছেন? তা হলে কি সময় গড়ালে অনুব্রতকেও সাসপেন্ড করা হবে?

রাজ্য মন্ত্রিসভায় যেদিন রদবদল হয় সেদিনই সাংগঠনিক স্তরে বড় রদবদল করেছিল তৃণমূল। সেখানে বহু জায়গায় জেলা সভাপতি বদল করা হলেও বীরভূমে অনুব্রত মণ্ডলকেই রেখে দিয়েছিল কালীঘাট। শুধু তাই নয়, অনেক জেলাকে একাধিক সাংগঠনিক জেলায় ভাঙলেও বীরভূমের ক্ষেত্রে সে পথে হাঁটেনি শাসকদল।

অনুব্রতর ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ তৃণমূল নেবে সেটা যেমন কৌতূহলের তেমন সমান কৌতূহলের বিষয় হল, কেষ্টকে যদি তৃণমূল সাসপেন্ড করে তাহলে কে হবেন বীরভূমের জেলা সভাপতি? ইতিমধ্যেই এ ব্যাপারে দুজনের নাম ভাসতে শুরু করেছে। তাঁদের একজন হলেন চন্দ্রনাথ সিনহা— যিনি নাকি একদা অনুব্রত মণ্ডলের প্রোমোটিং ব্যবসার পার্টনার ছিলেন এবং অন্যজন হলেন অভিজিৎ সিংহ ওরফে রানা। চন্দ্রনাথ এখন রাজ্যের মন্ত্রী। তৃণমূল আর মন্ত্রীদের সাংগঠনিক দায়িত্বে রাখছে না। কার্যত এক ব্যক্তি, এক পদ নীতি কার্যকর করে ফেলেছে শাসকদল। সেক্ষেত্রে চন্দ্রনাথকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দিয়ে জেলা সভাপতি করা হবে নাকি রানাকে বসানো হবে অনুব্রতর চেয়ারে তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়ে গেছে বীরভূমের রাজনীতিতে।

You might also like