Latest News

একুশে’র মঞ্চেই কি ঋতব্রত তৃণমূলে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এখন তিনি দলহীন সাংসদ। সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনও দলেই যোগ দেননি সরকারি ভাবে। কিন্তু রাজনৈতিক মহলের অনেকেই বলছেন শারীরিক ভাবে এখনও হয়তো ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দল কিন্তু তাঁর মন চলে গিয়েছে তৃণমূলে। সেই সঙ্গে জল্পনা তাহলে কি এ বার ঋতব্রত সরকারিভাবেই তৃণমূলে যাচ্ছেন?

রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই ২১ জুলাই-এর শহিদ দিবসের মঞ্চ ‘উন্নয়নে’ সামিল হওয়ার মঞ্চ। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ছেড়ে আসা নেতা থেকে শুরু করে টালিগঞ্জ পাড়ার কলাকুশলীদের তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য একটা আলাদা পর্ব থাকে ধর্মতলার মহাসমাবেশে। এ বার কি ওই মঞ্চ থেকেই ঋতব্রতও সামিল হবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘উন্নয়নে?’ জল্পনা তুঙ্গে।

ঠিক কী কারণে এমন মনে হওয়া?

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মিছিলের প্রচারে ঋতব্রতর টুইট

পর্যবেক্ষকদের মতে, ঋতব্রতর টুইটার হ্যান্ডেল দেখলেই তা স্পষ্ট হয়ে যাবে। আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘পিপলস লিডার’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন এক সময়ের আলিমুদ্দিনের এই তরুণ তুর্কি। এরপর পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে কুণাল ঘোষের সঙ্গে প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে তৃণমূলকে ভোট দেওয়ারও আবেদন জানান পরোক্ষে। কিন্তু তার পর থেকেই গতি বাড়িয়েছেন রাজ্যসভার সাংসদ। টুইট করে, পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে যাদবপুর থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মিছিলের প্রচার করেন একদা বুদ্ধবাবুর স্নেহধন্য ঋতব্রত। সেখানে তিনি যুব তৃণমূল সভাপতি তথা ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘আইকনিক লিডার অফ দ্য ইউথ’ বলে সম্বোধন করেন। এমনকী ৩ জুন লোকনাথ বাবার তিরোধান দিবসে শ্রদ্ধা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে টুইট করেন, তাও রিটুইট করে দেন এক সময়ে মার্ক্সবাদে বিশ্বাসী এই নাস্তিক।

লোকনাথ বাবার তিরোধান দিবসে মুখ্যমন্ত্রীর টুইট। যা ঋতব্রত রিটুইট করেন।

ঋতব্রত শুধু তৃণমূলের গুণগান গাইছেন তা নয়, সমান্তরালভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন প্রাক্তন দল সিপিএম-এর সমালোচনাও। মহেশতলার উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের পর সিপিএম নেতাদের ‘কোটার নেতা’ বলে ঋতব্রত লেখেন, ‘সমস্ত বাম সমর্থকদের উচিত সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী লড়াইতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করা।’

বাম সমর্থকদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করার আহ্বান জানিয়ে টুইট

শাসক দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ঋতব্রতর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি এরকম কিছু শুনিনি।’ এরপর আরও স্পষ্ট করার জন্য তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, তাহলে কি এই সম্ভাবনা নেই? স্বীকার, অস্বীকার কোনোটাই না করে তিনি আবার বলেন, ‘আমি এরকম কিছু শুনিনি।’

অনেকে আবার এমনটাও বলছেন রাজ্যসভার সাংসদ পদের মেয়াদ থাকা পর্যন্ত ঋতব্রত সরকারিভাবে তৃণমূলে যোগ দেবেন না। তাহলে তাঁকে সাংসদ পদ ছাড়তে হতে পারে। দল ত্যাগ করে নির্দল হিসেবে সাংসদ পদ রাখা গেলেও দল পরিবর্তন করলে সেটা আইনি জটিলতা হতে পারে। তবে আদৌ কী হবে, বকলমে তৃণমূলের হয়ে প্রচার করে যাবেন ঋতব্রত নাকি সরাসরি যোগ দেবেন তা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২১ জুলাই পর্যন্ত।

 

 

You might also like