Latest News

রন্টুর ছেঁড়া কার্টিলেজ রেখে দিয়েছেন স্ত্রী পনি, কৃশানুর স্মৃতিতে ডুব বন্ধু বিকাশের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এমন দিনে ঘরে বসে থাকতে ভাল লাগে না কৃশানু পত্নী পনির। সকাল সকাল অফিসে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। ঘরে বসে থাকলে মনে চলে আসে প্রয়াত স্বামীর কথা। এই দিনেই যে জন্ম হয়েছিল ভারতের মারাদোনা কৃশানু দে-র। বেঁচে থাকলে বয়স হয়ে যেত ৬০ বছর।

প্রেম দিবসে জন্ম, তিনি সারা ফুটবল জীবনে নানা স্মরণীয় ম্যাচ খেলে গিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন বাঁ-পায়ের শিল্পী ফুটবলার। কৃশানুর গোলের ঠিকানা লেখা পাস এখনও চোখে ভাসে বন্ধু বিকাশের। কত ম্যাচে ওই পাসই দু’দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। এই দিনটিতে বন্ধুর ছবির সামনে বসে প্রার্থনা করেন, ‘‘যেখানেই থাকিস না কেন ভাল থাকিস বন্ধু, একদিন নিশ্চয়ই দেখা হবে।’’ উদাস মনে বলে চলেন অভিন্নহৃদয় বন্ধু।

বিকাশের স্মৃতি কিলবিল করছে। ‘‘ওর জন্মদিনে রন্টুর বাড়িতে আমিই যেতাম। সেদিন লুচি ও শিমুইয়ের পায়েস খেতাম আমরা একসঙ্গে। রন্টু লুচি ও পায়েস খেতে খুব ভালবাসত।’’ বারবার সেই ঘটনা মনে চলে আসছে ময়দানের নামী প্রাক্তনের।

পাড়ার ক্লাবের হয়ে কালীপুজোর চাঁদা তুলতে গিয়েছিলেন রন্টু। সেই প্রথম দেখা পনির সঙ্গে। তারপর ক্রমে গাঢ় হয়েছে বন্ধুত্ব। দুই বাড়িই মেনে নিয়েছিল তাঁদের বিয়ে। রন্টু সেইসময় ভারতীয় ফুটবলের তারকা। কৃশানুর জীবনসঙ্গিনী এই বিশেষ দিনে ব্যথাতুর মনে আনমোনা হয়ে ভাবতে থাকেন। পুত্র সোহমের মধ্যে খোঁজেন অকালে চলে যাওয়া স্বামীকে।

নাকতলার রন্টুর স্মৃতি অবশ্য আগলে রেখেছেন পনি। চলে গিয়েছেন ১৯ বছর আগে। এমন এক দিনে কৃশানুর মৃত্যু, সেদিন আবার কোচ পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়ও চলে গিয়েছিলেন। শিক্ষক ও ছাত্রের একইদিনে চলে যাওয়া।

কৃশানুর পরিবার অবশ্য এখন আর নাকতলায় থাকেন না, চলে গিয়েছেন গড়িয়া ব্রক্ষ্মপুরে। সেই বাড়িতেই একটি বোতলে রন্টুর ছেঁড়া কার্টিলেজ রেখে দিয়েছেন চিরকালীন বন্ধু তথা তাঁর স্ত্রী। যেটি একসময় ডাঃ এম এস ঘোষ অপারেশন করে পনির হাতে তুলে দিয়েছিলেন। সেটিকেই স্মৃতি হিসেবে ধরে রেখেছেন পনি। পুত্র সোহম বলছিলেন, ‘‘আমাদের কাছে ওটাই বাপির বড় স্মৃতি। বোতলে জল পালটে ওই কার্টিলেজ রেখে দেওয়া রয়েছে। আমাদের কাছে ওটি বড় সম্পদ।’’

প্রতিবছরের মতো এবারও ইস্টবেঙ্গল ক্লাব কৃশানুর জন্মদিনে তাঁর ছবিতে মাল্যদান করেছে। এমনকি ক্লাব কর্তা দেবব্রত সরকারও ফোন করে স্ত্রী পনি ও পুত্র পেশায় সাংবাদিক সোহমের সঙ্গে কথা বলেছেন। লাল হলুদ ক্লাব বরাবরই পাশে রয়েছে কৃশানুর পরিবারের। শুধু কর্তারা কেন, এখনও আপামর ময়দানের ফুটবল সমর্থকরা কৃশানু নস্টালজিয়ায় দিন কাটান। তারর স্বপ্নের ফুটবলের আলোচনা এখনও ময়দানে কান পাতলে শোনা যায়।

 

You might also like