Latest News

প্রজাতন্ত্র দিবসের ট্যাবলো বাছাইয়ে কেন্দ্রের পদ্ধতি কতটা যুক্তিযুক্ত, কেন বাতিল বাংলার মডেল

রফিকুল জামাদার

চিঠিচাপাটিতে হালকা করে হলেও প্রজাতন্ত্র দিবসের ট্যাবলো নিয়ে একপ্রস্থ ঠোকাঠুকি হয়ে গিয়েছে নবান্ন-নয়াদিল্লির। প্রধানমন্ত্রীকে লেখা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠি। তারপর কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যাখ্যা। মঙ্গলবার ফের মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের চিঠি—সেই ঠোকাঠুকি মালুম হয়েছে। শেষ পর্যন্ত যা দাঁড়িয়েছে তা হল, বাংলার ট্যাবলোর চাকা ঘুরবে না ২৬ জানুয়ারির দিল্লির কুচকাওয়াজে।

কেন্দ্রের বক্তব্য, বাংলার ট্যাবলো নির্বাচিত হয়নি। বাতিল হয়েছে তামিলনাড়ু এবং কেরলের ট্যাবলোও। মমতা বন্দ্যোপধ্যায়ের বক্তব্য, এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের প্রতি অবমাননা। সুভাষ চন্দ্র বসুকে অসম্মান।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কী ভাবে এই ট্যাবলো বাছাই করে কেন্দ্রীয় সরকার? কেনই বা বাদ গেল বাংলার ট্যাবলো?

ট্যাবলো চূড়ান্ত করার পদ্ধতি

কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে প্রজাতন্ত্র দিবসের দিল্লির কুচকাওয়াজ পরিচালনার ভার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের। সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ তারা সমস্ত রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রকের থেকে পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন চায় ট্যাবলো নিয়ে। সেই প্রেজেন্টেশন দেখে অল্প কিছু কাটছাঁট করে প্রতিরিক্ষামন্ত্রক পাঠায় বিশেষজ্ঞ কমিটির কাছে। তারপর তারা বাছবিচার করে চূড়ান্ত করে কোন কোন ট্যাবলো প্রদর্শন করা হবে।

এবার যেমন ৫৬টি প্রেজেন্টেশন বিশেষজ্ঞ কমিটির কাছে পাঠিয়েছিল প্রতিরক্ষামন্ত্রক। সেখান থেকে চূড়ান্ত করা হয়েছে ২১টি। কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, বিশেষজ্ঞ কমিটিই চূড়ান্ত বাছাইয়ে শেষ কথা। সেই কমিটিতে সংস্কৃতি, সঙ্গীত জগতের বিশিষ্টরা থাকেন। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে মমতা বন্দ্যোাধ্যায়ের বক্তব্য খণ্ডন করে বলা হয়, সুভাষ চন্দ্র বসুকে অসম্মানের প্রশ্নই ওঠে না। কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্থা সিপিডব্লুডির ট্যাবলোর বিষয় নেতাজি।

নবান্নের যুক্তি

রাজ্য সরকারের তথ্যসংস্কৃতি দফতরের এক আধিকারিক বলেন, আমাদের জানানোই হয়নি ঠিক কী কারণে বাংলার ট্যাবলো বাদ। নবান্নের কর্তাদের বক্তব্য, বিশেষজ্ঞ কমিটি তো নির্দিষ্ট কারণে বাদ দিয়েছে। সেটা কেন জানানো হল না। তাঁরা এও বলছেন, কে কি থিম জমা দিচ্ছে তা জানা সম্ভব নয়। বাংলা যা জমা দিয়েছে তা যেমন অন্য রাজ্যের পক্ষে জানা সম্ভব নয়, তেমন কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও মন্ত্রক কী থিমে টযাবলো নামাচ্ছে তাও বাংলার পক্ষে জানা সম্ভব নয়। তাহলে বিকল্প থিম কেন চাওয়া হল না? সেক্ষেত্রে তো রাজ্য সরকার বাংলার ট্যাবলোর থিম নিয়ে বিকল্প প্রেজেন্টেশন দিতে পারত। এক্ষেত্রে তো অন্যায় ভাবে বাংলার প্রতিনিধিত্ব রুখে দেওয়া হল। তাছাড়া একটি মডেল বাতিল হলে আর একটি মডেল বিবেচনা করার পথ খোলা রাখা উচিৎ। সেই সুযোগ না থাকায় রাজ্যের প্রতিনিধিত্বই থাকছে না। এই পদ্ধতির পরিবর্তন প্রয়োজন। চলতি পদ্ধতি কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের পরিপন্থী এবং একটি প্রজাতন্ত্রের প্রতি অবমাননা।

তৃণমূলের বক্তব্য

ট্যাবলো বাদ নিয়ে তৃণমূলের মুখপাত্র তথা রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় বলেছেন, ‘সিপিডব্লিউডি রাস্তা নির্মাণ করে। তারা নেতাজির ট্যাবলো নির্মাণ করছে আর বাংলারটা বাদ। অজুহাতেরও একটা সীমা থাকে। তিনি এও বলেছেন, উত্তরাখণ্ড ও উত্তরপ্রদেশের ট্যাবলোর সঙ্গে জাতীয় সংহতি, স্বাধীনতা সংগ্রামের কোনও সম্পর্ক নেই, কিন্তু তাদের ট্যাবলোর চাকা গড়াবে দিল্লির কুচকাওয়াজে! অথচ বাংলার ট্যাবলো বাদ, যেটির বিষয় সুভাষচন্দ্র বসুর মত মহান বিপ্লবী ও দেশের কৃতী সন্তান। আসলে সবটাই ভোটকেন্দ্রিক।’

নেতাজির ট্যাবলো থাকছে, দাবি কেন্দ্রের

কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বলা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভাবে নেতাজিকে অসম্মান করার অভিযোগ তুলেছেন তা ভিত্তিহীন। কারণ নেতাজির ট্যাবলো ওইদিন থাকবে। তা তৈরি করেছে সিপিডব্লিউডি। ফলে একই থিমের দুটি ট্যাবলো বিশেষজ্ঞ কমিটি অনুমোদন দেয়নি। তাই বাংলারটা বাদ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র এও বলেছে, শুধু বাংলা নয়। তামিলনাড়ু, কেরলের ট্যাবলোও ঠাঁই পাচ্ছে না ২৬-এর কুচকাওয়াজে।

You might also like