Latest News

মমতা চার মন্ত্রীকে কেন বাদ দিলেন ক্যাবিনেট থেকে?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ ও রদবদল করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এই পরিবর্তনে নতুন যেমন ৮টি মুখ এসেছে মন্ত্রিসভায়। তেমনই চার জনকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁরা হলেন, পরেশ অধিকারী, প্রাক্তন আইপিএস অফিসার হুমায়ুন কবীর, সৌমেন মহাপাত্র ও রত্না দে নাগ।

কেন সরানো হল তাঁদের?

জানিয়ে রাখা ভাল, মন্ত্রিসভা থেকে চার-পাঁচ জনকে সরিয়ে দলের কাজে ব্যবহার করার কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই জানিয়েছিলেন। তবে অনেকের মতে, এই চার জনকে সরানোর নেপথ্যে অন্য কারণও রয়েছে।

পরেশ অধিকারী

স্কুল সার্ভিসে দুর্নীতির অভিযোগে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী তথা শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত করেছেন মমতা। শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর নামও জড়িয়েছে দুর্নীতি কাণ্ডে। মেধা তালিকায় তাঁর উপরে থাকা প্রার্থীকে টপকে চাকরি পেয়েছিলেন পরেশের মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারী। অঙ্কিতাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট, সেই সঙ্গে পরেশের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পর পরেশের মন্ত্রিত্ব যাওয়া নিয়ে সংশয়ের অবকাশ ছিল না।

পরেশকে মন্ত্রিসভা থেকে সরালেন মমতা, মেয়ের চাকরির পর বাবার কাজও গেল!

হুমায়ুন কবীর

একুশের ভোটের আগে এই আইপিএস অফিসার চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁকে ডেবরা থেকে প্রার্থী করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হুমায়ুন ভোটে জেতার পর তাঁকে কারিগরী শিক্ষা দফতরের মন্ত্রী করেছিলেন দিদি। কিন্তু সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগকারী একজন স্নাতক, নাম, সবিতা লায়েক। সবিতার অভিযোগ, কারিগরি শিক্ষা দফতরে অস্থায়ী চাকরি দেওয়ার নামে তাঁকে দিয়ে কসবায় নিজের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করাতেন মন্ত্রী। হুমায়ুন যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। কিন্তু অনেকের মতে, হুমায়ুনকে মন্ত্রিসভা থেকে সরানোর নেপথ্যে সেটাও একটা কারণ হতে পারে।

সৌমেন মহাপাত্র

শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর পূর্ব মেদিনীপুরে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি মজবুত ভিতের উপর রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। দলের অনেকে মনে করছিলেন, সে জন্য একজন প্রবীণ নেতার পূর্ণ সময় দেওয়া উচিত। সম্ভবত সেই কারণেই সৌমেন মহাপাত্রকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে তমলুক সাংগঠনিক জেলার সভাপতি করা হয়েছে।

রত্না দে নাগ

গত লোকসভা ভোটে রত্না দে নাগ বিজেপির কাছে পরাস্ত হওয়ার পর তৃণমূলের অনেকেই ব্যক্তিগত ভাবে দুঃখ পেয়েছিলেন। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির এই নেত্রীর সংসদে পারফরম্যান্স ছিল অসামান্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁর প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। তাই একুশের ভোটে তিনি জেতার পর তাঁকে মন্ত্রী করা হয়। কিন্তু সূত্রের খবর, রত্না দে নাগের শরীর ভাল নয়। তিনি অসুস্থ। সেই কারণেই তাঁকে মন্ত্রিসভার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

You might also like