Latest News

সুদীপ কেন গেছিলেন বিজেপি নেতার বাড়িতে, তাপসের তোপে বেআব্রু তৃণমূলের কোন্দল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রবল বাম জমানায় সিপিএমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ লক্ষ্মী দে’র সঙ্গে যুঝে রাজনীতি করেছেন তিনি। দীর্ঘদিন ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতি থেকে তিনবার তৃণমূল (TMC) বিধায়ক। সোমেন মিত্রদের হাত ধরে রাজনীতি করতে আসা কংগ্রেসি ঘরানার যে নেতারা এখনও রাজনীতির মূল স্রোতে রয়েছেন তাঁদের মধ্যে তাপস রায় (Tapas Roy) অবিসংবাদী। সেই তিনি বরানগরের তৃণমূল বিধায়ক কার্যত কামান দাগলেন উত্তর কলকাতার তৃণমূল সাংসদ তথা জেলা সভাপতি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Sudip Banerjee) বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার বউবাজারের বাড়িতে সাংবাদিকদের ডেকে সুদীপের বিরুদ্ধে ক্ষোভের জ্বালামুখ খুলে দেন তাপস রায়। সেই সাংবাদিক বৈঠকে নাম করেই তিনি অভিযোগ করেছেন,“তমোঘ্ন ঘোষের বাবা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠ। তাঁদের বাড়িতেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্গাপুজোর অষ্টমীর দিন গিয়েছিলেন। সেখানে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী এবং কল্যাণ চৌবে।”

কে এই তমোঘ্ন?

সোমবার তমোঘ্নকে বিজেপি উত্তর কলকাতার সাংগঠনিক জেলা সভাপতি হিসেবে নিয়োগ করেছে। এদিন তাপস রায় বলেন, “পার্টিতে এখন ডেডিকেটেড লয়ালিস্ট আর আর ডিভাইডেড লয়ালিস্ট – দুই ভাগ রয়েছে। ডিভাইডেড লয়ালিস্টরা অন্য দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।”

আসলে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে তৃণমূলের একাংশ নেতার উষ্মার আরও কারণ রয়েছে। রোজভ্যালি চিটফান্ড কাণ্ডে ভুবনেশ্বরের জেলে বন্দি ছিলেন সুদীপ। তার পর শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি জামিনে ছাড়া পান। তৃণমূলের অনেক নেতা ঘরোয়া আলোচনায় বলেন যে, পাছে তাঁকে আবার সিবিআই টানাটানি করে সেজন্য সুদীপ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কিংবা অমিত শাহ-রাজনাথ সিংহদের তলে তলে তোয়াজ করে চলেন। যেমন ক’দিন আগে সুদীপ প্রধানমন্ত্রীর পরা এক জওহরকোটের এমন তারিফ করেছিলেন যে শেষে মোদী তাঁকে ছিট কাপড় কিনে পাঠিয়ে দেন। সেই ছিট কাপড়ের জওহরকোট বানিয়ে তা পরে মোদীকে দেখান সুদীপ। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাহ্ ভাল মানিয়েছে তো!’

Image - সুদীপ কেন গেছিলেন বিজেপি নেতার বাড়িতে, তাপসের তোপে বেআব্রু তৃণমূলের কোন্দল

তাপস রায় ও তাঁর মতো তৃণমূল নেতাদের বক্তব্য, একদিকে যখন বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে তখন যদি কাউকে এরকম আদিখ্যেতা করতে দেখা যায় তা দলের কর্মীদের গায়ে লাগতে বাধ্য। এই নির্লজ্জ তোয়াজ বন্ধ হওয়া উচিত।

মঙ্গলবার তাপস রায় একথাও বলেছেন যে, এই তমোঘ্নকে টিএমসিপির সভাপতি করার জন্য যে সুদীপ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে দরবার করেছিলেন তা দলের অনেকেই জানে। সেই তমোঘ্নই কি না বিজেপির জেলা সভাপতি। সুদীপই তমোঘ্নকে বিজেপির জায়গা পাকা করে দিয়েছেন কিনা সেই জল্পনাও উস্কে দিয়েছেন তাপস।

উত্তর কলকাতার রাজনীতিতে সুদীপ-তাপস আদায়-কাঁচকলায় সম্পর্কের কথা সর্বজনবিদিত। একুশের ভোটের পর তাপসকে উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূলের সভাপতি করেছিলেন দিদি। পরে সুদীপ আবার মমতার কাছে আর্জি জানান, তাঁকে ওই পদ ফিরিয়ে দেওয়া হোক। মমতা সেকথা সর্বসমক্ষে বলেই তাপসের জায়গায় সুদীপকে এনেছিলেন। আবার ঘটনা হল, তৃণমূলের নতুন ভবন উদ্বোধনের দিন মমতার সামনেই সুদীপ-তাপসের একপ্রস্থ বচসা হয়ে যায়। কারণ, এ ব্যাপারে তাপস রায় রীতিমতো আপসহীন।

অনেকের মতে, তৃণমূলের এই কঠিন সময়ে যে কয়েকজন পরিচ্ছন্ন নেতা সামনে দাঁড়িয়ে রাজনীতি করছেন তাঁদের মধ্যে তাপস রায় অন্যতম। ব্যক্তিগতভাবে অতি বড় রাজনৈতিক শত্রুও তাঁর বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহার, দুর্নীতির অভিযোগ তুলতে পারেন না। সেই তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে হয়তো বার্তা দিতে চাইলেন, যিনি লোকসভায় দলের নেতা তিনি কিনা বিজেপি নেতার বাড়িতে গিয়ে শুভেন্দুদের সঙ্গে প্রসাদ ভাগ করে খাচ্ছেন?

যদিও এসব নিয়ে সুদীপ এখনও পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি।

মানিকের পরিবারের সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল টাকার হদিশ, আদালতে জানাল ইডি

You might also like