Latest News

ত্রিপুরায় সেকেন্ড কে, তৃণমূল না সিপিএম? পরিসংখ্যান কী বলছে দেখুন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ত্রিপুরার (Tripura) পুরভোটের ফল প্রকাশের পর তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় টুইট করে বলেছিলেন, তৃণমূলই এখন ত্রিপুরা রাজ্যে প্রধান বিরোধী দল। এবার আসল খেলা হবে।

স্বাভাবিক ভাবেই কৌতূহল জাগে, উত্তর-পূর্বের রাজ্যটির প্রধান বিরোধী দল সিপিমকে সরিয়ে কি তাহলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল তৃণমূল? এ ব্যাপারে রাজনৈতিক যুক্তি বা পাল্টা যুক্তির মধ্যে না গিয়ে দেখা যাক পরিসংখ্যানটা কী—

ত্রিপুরায় যে ২০টি পুরসভা বা নগরপঞ্চায়েতে ভোট ছিল তার মোট ওয়ার্ড সংখ্যা ৩৩৪টি। এর মধ্যে ১২২টি ওয়ার্ডে বিজেপি আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে গিয়েছিল। অর্থাৎ সিপিএম বা তৃণমূল কেউই সেখানে প্রার্থী দিতে পারেননি। সেই যেমন বাংলায় পঞ্চায়েত ভোটের সময়ে উন্নয়ন রাস্তা দাঁড়িয়ে থাকার জন্য যেমন ষোল আনা আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে গিয়েছিলে অনুব্রত মণ্ডলরা। ত্রিপুরাতেও পুরভোট হয়েছিল কেবল ২১২টি ওয়ার্ডে।

ভোটের ফল ঘোষণার পর দেখা গিয়েছে, ৩ টি ওয়ার্ড জিতেছে বামেরা। মানে ২১২ টি ওয়ার্ডের মধ্যে কেবল ৩টি আসন। আর তৃণমূল জিতেছে সবেধন ১ টি ওয়ার্ড। আর একটি ওয়ার্ডে তিপ্রা মোথা জয়ী হয়েছে। অর্থাৎ সিপিএমের ভোট সাফল্য হল ০.৮৯ শতাংশ। আর তৃণমূলের সাফল্য হল ০.২৯ শতাংশ।

এখন প্রশ্ন, দ্বিতীয় স্থানে সিপিএম-তৃণমূল কার কোথায় কী অবস্থা!

যে ২১২টি ওয়ার্ডে ভোট হয়েছে তার মধ্যে দেখা যাচ্ছে ১৪৯টি ওয়ার্ডে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বামেরা। ৫৬টি ওয়ার্ডে দ্বিতীয় হয়েছে তৃণমূল। ৭ টি ওয়ার্ডে সেকেন্ড পজিশনে রয়েছে কংগ্রেস। সেদিক থেকে বলা যেতে সিপিএম অবিসংবাদিত ভাবে ত্রিপুরায় এখনও দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি।

তাহলে তৃণমূল কেন নিজেদের প্রধান বিরোধী বলে দাবি করছে?

পরিসংখ্যান বলছে, ত্রিপুরার পুরভোটে তৃণমূলের স্ট্রাইক রেট দুরন্ত। তারা মোট তিনটি পুর এলাকায় প্রার্থী দিয়েছিল। আগরতলার ১০০ শতাংশ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। আমবাসা ও তেলিয়ামুড়ায় অধিকাংশ আসনে জোড়াফুলের প্রার্থী ছিল। দেখা গেল, এই তিনটি পুরসভার অধিকাংশ ওয়ার্ডেই তৃণমূল দ্বিতীয় হয়েছে। বিশেষ করে নজর কাড়ছে আগরতলা কর্পোরেশনে তৃণমূলের বিরোধী হিসেবে উত্থান। ত্রিপুরার রাজধানী শহরে মোট ওয়ার্ড সংখ্যা ৫১টি। ভোটের ফলাফলে দেখা গিয়েছে সব আসন বিজেপির দখলে। কিন্তু ২৬টি ওয়ার্ডে তৃণমূল দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। আর ২৫টিতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিপিএম।

তবে তৃণমূলকে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে মানতে চায়নি সিপিএম। দলের ত্রিপুরা রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী দ্য ওয়াল-কে বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে দাবি করেছেন তার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই।” কেন? প্রাক্তন সিপিএম সাংসদের বক্তব্য, “ত্রিপুরার ২০টি পুরসভা ও নগরপঞ্চায়েতের মধ্যে ১৩টিতে ভোট হয়েছিল (সাতটি আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেছিল বিজেপি)। তাঁর মধ্যে আগরতলার সব আসন, আমবাসা ও তেলিয়ামুড়ার অধিকাংশ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল তৃণমূল। বাকি আর কোথাও তারা প্রার্থী দিতে পারেনি। তাহলে হিসেবটা দাঁড়াল এই রকম, মোট ২০টির মধ্যে ১৩টিতে লড়াই করেছে সিপিএম। তিনটিতে লড়াই করেছে তৃণমূল।” এই পরিসংখ্যান দিয়েই সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক বোঝাতে চান, তিনটি পুরসভায় প্রার্থী দিয়ে কী ভাবে তৃণমূল ‘প্রিন্সিপাল অপজিশন’ হবে?

বিজেপি-ও সিপিএমকেই প্রধান বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে। ত্রিপুরা বিজেপির মুখপাত্র নব্যেন্দু ভট্টাচার্য বলেছেন, “ত্রিপুরার পুরভোটের ফল দেখিয়ে দিল এ রাজ্যের বিরোধীরা এবং রাজ্যের বাইরে থেকে আসা বিরোধীরা যে কুৎসা করেছিল, তাকে মানুষ ছুড়ে ফেলে দিয়েছে।” তবে তিনি স্পষ্টি বলেছেন, তৃণমূল যে ভাবে নিজেদের বিরোধী দল বলে জাহির করার চেষ্টা করছে তা একেবারেই ভিত্তিহীন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী সিপিএমই এখানকার বিরোধী দল। তবে তারাও টিমটিম করে জ্বলছে। মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের ওএসডি সঞ্জয় মিশ্র বলেন ভোট শতাংশ, আসন—দুই দিক থেকে তৃণমূলের চেয়ে সিপিএম এগিয়ে রয়েছে এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই।

You might also like