Latest News

নাকের ফুটোয় হুইস্কি! স্প্যানিশ ফ্লু থেকে বাঁচতে উদ্ভট সব উপায় খুঁজেছিল মানুষ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেড় বছর ধরে ভয়াবহ অতিমহামারীতে (Pandemic) বিপর্যস্ত গোটা পৃথিবী। কোভিড এসে মানুষের সাধারণ জীবনযাত্রায় বড়সড় বদল ঘটিয়েছে। বাড়ি থেকে বেরোতে গেলে এখন মুখে মাস্ক অনিবার্য। হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবহারও ‘নিউ নর্মাল’। তবে করোনার হাত থেকে বাঁচতে আবিষ্কার হয়েছে ভ্যাকসিন। ইতিমধ্যে অনেকেই ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ নিয়েও ফেলেছেন।

ঠাকুর দালানে নয়, দূর থেকেই দেখতে হবে বনেদি বাড়ির পুজো, বিধি মেনে প্রস্তুতি তুঙ্গে

আজ ১০০ বছর আগে যখন আরও এক মহামারীতে হাহাকার পড়ে গিয়েছিল পৃথিবীতে, তখন এত সহজে, এত দ্রুত ভ্যাকসিন আসেনি। বিজ্ঞান তখনও এত উন্নত হয়নি। স্প্যানিশ ফ্লু-এর (Spanish flu) হাত থেকে বাঁচতে অনেক কাঠখড় পোরাতে হয়েছিল সেদিন মানুষকে। রোগ নিরাময়ে একাধিক উদ্ভট আর অদ্ভুত উপায় অবলম্বন করা হয়েছিল সেসময়। সেদিনের মহামারী-দীর্ণ মানুষের কীর্তি শুনলে আজ অবাক হতে হয় বইকি।

শোনা যায়, ১৯১৮ সালের স্প্যানিশ ফু-তে চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল হুইস্কি। নিউজিল্যান্ডের এক নার্স নাকে কয়েক ফোটা হুইস্কি দিতেন রোগীদের। হুইস্কি দিয়ে গার্গল করতেও বলতেন। এতে নাকি যথেষ্ট কাজ হয়েছিল। এছাড়া তিনি কুইনাইন আর ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহারের পরামর্শও দিতেন রোগীদের।

সেই নার্স নিজে বলেছেন, শুধুমাত্র ব্র্যান্ডি আর দুধ খেয়ে ৬ সপ্তাহ বেঁচে ছিলেন তিনি। কুইনাইন, গরম লেবুর রসও উপকার করেছিল অনেক। সেখান থেকেই অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছিলেন ওই নার্স।

সিডনির এক ডাক্তার স্প্যানিশ ফ্লু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহার করেছিলেন ক্যালসিয়াম ল্যাকটেট। প্রতি চার ঘণ্টা অন্তর অন্তর ১ গ্রাম করে ক্যালসিয়াম ল্যাকটেট তিনি রোগীদের দিতেন। এতে মৃত্যু ঠেকাতে তিনি সক্ষম হয়েছিলেন। ইনফ্লুয়েঞ্জা আর নিউমোকোকাস ব্যাকটেরিয়া সম্পন্ন এক ভ্যাকসিনও তিনি ইয়বহার করেছিলেন।

১৯১৯ সালে গোমাংস থেকে তৈরি বোনোক্স নামের এক ওষুধ অস্ট্রেলিয়ার বাজারে বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। বলা হত বোনোক্স নিশ্চিতভাবে রোগমুক্তির অব্যর্থ উপাদান। যদিও এই সমস্ত রোগমুক্তির টোটকার কোনও প্রামাণ্য বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ছিল না। সবে সবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ তখন শেষ হয়েছে। বেশিরভাগ এলাকাতেই হাতের কাছে ডাক্তার পাওয়া যেত না। ফলে এই সমস্ত ঘরোয়া টোটকাই ব্যবহার করতেন সকলে। স্থানীয় সংবাদপত্রে এই ধরণের হাজারো টোটকার কথা প্রচার করা হত।

হুইস্কি ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয়। সঙ্গে ফ্লু-এর হাত থেকে বাঁচতে দুধও খেতেন অনেকে। বেশি করে অ্যাসপিরিনের ব্যবহারও সেসময় দেখা যাচ্ছিল। মাঝে মধ্যেই অ্যাসপিরিনের হাই ডোজ বিপদ ডাকত।

ফেনাসিটিন নামের একটি পেইন কিলার সেসময় সরকারের তরফে ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তবে এখন সেটার ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাতে কিডনির নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like