Latest News

বিয়েবাড়ি থেকে ফেরার পথে বন্যার কবলে বাস, বেঙ্গালুরুতে রাতভর আটকে রইলেন ৫৫ জন যাত্রী

দ্য ওয়াল ব্যুরো : রবিবার চিক্কাবানাভারা অঞ্চল থেকে বাসে চড়ে বিয়েবাড়ি (Wedding ceremony) গিয়েছিল ৫৫ জন। তাদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধরাও ছিল। কিন্তু বাড়ি ফেরার পথে ইয়েলাহাঙ্কা অঞ্চলে বন্যার মধ্যে আটকে পড়ে তাদের বাস। রাস্তার ওপর তখন জলের উচ্চতা ছিল চার ফুট। তার স্রোতও ছিল যথেষ্ট। জলের মধ্যে বিএমটিসি-র বাসটি এক ইঞ্চিও এগোতে পারেনি। প্রবল বৃষ্টির মধ্যে রাতভর দাঁড়িয়ে থাকে সেই বাস।

সরোজাম্মা নামে এক বাসযাত্রী বলেন, ইয়েলাহাঙ্কার কিছু আগে আমরা আটকে পড়ি। আমাদের সামনে আরও অনেক বাস দাঁড়িয়েছিল। স্রোতের মধ্যে অনেকগুলি বাস ভেঙে গিয়েছিল। আমাদের বাস ছিল সবার শেষে। তাই প্রবল স্রোত থেকে রক্ষা পেয়েছে। ভেঙে পড়া বাসের ড্রাইভার ও কন্ডাকটরেরা আমাদের বাসে আশ্রয় নিয়েছিল।

সরোজাম্মার পরিবার বিয়েবাড়িতে যাওয়ার জন্য বিএমটিসি-র বাস ভাড়া করে। তিনি জানান, আমি নাতিকেও সঙ্গে নিয়েছিলাম। একসময় বাসের মধ্যে জল ঢুকে গিয়েছিল। আমরা সারা রাত বাসের মধ্যে দাঁড়িয়েছিলাম। সাড়ে পাঁচটা অবধি বাসের মধ্যে আটকে থাকার পরে যাত্রীরা মুক্তি পান। তখন বৃষ্টি কমে আসে। বন্যার জলও কমে যায়।

রবিবার রাত থেকে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে দক্ষিণের দুই রাজ্য তামিলনাড়ু ও কর্নাটকে। তার ফলে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে বেঙ্গালুরুর উত্তরের কয়েকটি অঞ্চল এবং চেন্নাইয়ের মানালি এলাকা। আল্লাসান্দ্রা হ্রদ উপচে পড়ে বেঙ্গালুরুর অবস্থা হয়ে পড়েছে শোচনীয়। হ্রদের আশপাশের এলাকা হয়ে পড়েছে জলমগ্ন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এলহানকা, নাগাওয়ারা, কোগিলু ক্রস ও বিদ্যারণ্যপুরা অঞ্চল। গত ২৪ ঘণ্টায় এলহানকা অঞ্চলে বৃষ্টি হয়েছে ১৩৪ মিলিমিটার।

গত সপ্তাহ থেকে প্রবল দুর্যোগের কবলে পড়েছে পুরো দক্ষিণ ভারত। গত বৃহস্পতিবার থেকে টানা বৃষ্টি হচ্ছে অন্ধ্রপ্রদেশে। তাতে অন্নমায়া বাঁধ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার জানা যায়, রাজ্যে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে রাজ্যে মারা গিয়েছেন ১৭ জন। নিখোঁজ হয়েছেন শতাধিক। তিরুপতি শহরে তোলা ভিডিও চিত্রে দেখা গিয়েছে, প্রবল বন্যার মধ্যে আটকে পড়েছেন কয়েকশ তীর্থযাত্রী। তিরুপতি মন্দির তিরুমালা পাহাড়ের ওপরে অবস্থিত। বৃষ্টিতে জল জমে পাহাড়ে ওঠার রাস্তাগুলি বন্ধ রয়েছে।

বন্যাদুর্গত অঞ্চলে ত্রাণের জন্য পাঠানো হয়েছে ন্যাশনাল ও স্টেট ডিজাস্টার রিলিফ টিম। বৃষ্টিতে সড়ক ও রেল পরিবহণ বিঘ্নিত হচ্ছে। কাদাপা বিমান বন্দরও ২৫ নভেম্বর অবধি বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। রাজ্যে রয়ালসীমা অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবচেয়ে বেশি।

এর আগে নভেম্বরের শুরুতে প্রবল বর্ষণে জলবন্দি হয়ে পড়ে চেন্নাই। তামিলনাড়ুর  রাজধানী শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা চলে যায় জলের তলায়। দু’দিনের জন্য স্কুল, কলেজ, অফিস-কাছারি বন্ধ রাখা হয়। চেন্নাইয়ের পাশের তিনটি জেলারও প্রবল বৃষ্টিপাতে অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ে। জাতীয়  বিপর্যয় মোকাবিলা, ত্রাণ ও উদ্ধার বাহিনীকে (এডিআরএফ) মোতায়েন করা হয় মাদুরাই, কুড্ডালোরে। মাদ্রাজ হাইকোর্টে কাজ চলতে থাকে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে।

You might also like