Latest News

অক্সিজেন শেষ, ভয়ে ডাক্তাররা লুকিয়ে ক্যান্টিনে, তালাবন্ধ আইসিইউতে পড়ে ৬টি নিথর দেহ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইসিইউ তালাবন্ধ, খাঁ খাঁ করছে হাসপাতালের করিডোর। আর ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের কাঁচের ঘরে নিঃসাড় পড়ে রয়েছে ৬টি দেহ। প্রাণহীন, মৃত।

শুক্রবার কোভিডের থাবায় প্রাণ গেছে গুরগাঁওয়ের কৃতি হাসপাতালের রোগীদের। মনে করা হচ্ছে অক্সিজেনের অভাবেই মৃত্যু হয়েছে তাঁদের। আর হাসপাতালে অক্সিজেন ফুরিয়ে যাওয়ার পর রোগীদের ফেলে রেখেই চম্পট দিয়েছেন ডাক্তার নার্সরা। রোগীর পরিবারের লোকজন যখন হাসপাতালে যান, রিসেপশন থেকে শুরু করে আইসিইউ পর্যন্ত কোথাও কোনও কর্মীকেই দেখতে পাননি তাঁরা। ফলে তীব্র হয়েছে ক্ষোভ।

গোটা ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। দিন পাঁচেক আগের সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, রোগীর আত্মীয়রা হাসপাতালে ঢুকে দেখছেন আইসিইউ তালা বন্ধ। এরপর কোনওরকমে তার ভিতর ঢুকে তাঁরা দেখেন সারে সারে নিথর দেহ পড়ে রয়েছে। এক ব্যক্তির গলাও শোনা যাচ্ছে ওই ভিডিওতে, যিনি এক এক করে দেখে বলছেন ‘মারা গেছে’। আরও এক ব্যক্তি বলছেন, “কোনও ডাক্তার নেই, কেমিস্ট নেই, রিসেপশনে কেউ নেই, এমনকি কোনও গার্ডও নেই।”

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছন দুজন পুলিশ অফিসার। ক্ষোভে তাঁদেরকেই ঘিরে ধরেন মৃতের পরিবাররা। কীভাবে রোগী ফেলে রেখে ডাক্তাররা চলে যেতে পারেন তার জবাব চাওয়া হয় পুলিশের কাছে।

ভাইরাল ভিডিওটি এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সেই সঙ্গে তিনি লিখেছেন, “এটা খুন। তারপর তা ধামাচাপা দেওয়া। মৃতদের পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা রইল।”

আত্মীয়দের সকলেই অভিযোগ করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অক্সিজেন দিতে পারেনি। তাই রোগী ফেলে রেখে চলে গেছেন তাঁরা। এমনকি পরিবারকেও অক্সিজেন জোগাড় করতে বলা হয়েছে একাধিক বার।

তবে পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁরা জানান ডাক্তার ও অন্যান্য কর্মীরা সেদিন হাসপাতালেই ছিলেন। কিন্তু তাঁরা ক্যান্টিনে লুকিয়ে পড়েছিলেন। তাঁরা জানতেন রোগীর বাড়ির লোকেরা এসে হামলা চালাতে পারেন।

গোটা ঘটনায় হাসপাতালের হাত পা বাঁধা ছিল বলেই দাবি করা হয়েছে। ডিরেক্টর স্বাতী রাঠোর বলেন, “বিকেল থেকেই আমরা রোগীদের আত্মীয়দের বলেছিলাম অন্য কোথাও রোগী নিয়ে যেতে। কারণ আমাদের হাসপাতালে অক্সিজেন নেই। সরকারকেও আমরা জানিয়েছিলাম। কিন্তু কেউ আমাদের সাহায্য করেনি। রাত ১১টা নাগাদ ৬ জন মারা যায়।” তিনি নিজেই সকলকে গণরোষের হাত থেকে বাঁচার জন্য ক্যান্টিনে লোকাতে বলেছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বাতী রাঠোর।

You might also like