Latest News

‘ক্রেডিট কার্ডের খামই খুলিনি, কেটে নিল কয়েক হাজার টাকা!’ অভিযুক্ত এসবিআই, দেখুন ভিডিও

আকাশ ঘোষ

কারও কেটেছে ১০ হাজার টাকা, কারও আবার ২০, কারও হাজার পঞ্চাশেক। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষের অভিযোগ কম-বেশি একই। সমস্যা, এসবিআইয়ের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার না করলেও টাকা কেটে নেওয়ার মেসেজ আসছে!

অনলাইন প্রতারণা এখন খুব বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুবিধার জন্য ক্রেডিট কার্ড দেওয়া হয়েছে ব্যাঙ্কের তরফেই। কিন্তু তারপর থেকেই একে একে টাকা কাটা শুরু হতে চলেছে। কিন্তু খোদ এসবিআইয়ের কার্ডেও যে এমন কাণ্ড ঘটতে পারে এত বেশি পরিমাণে, তা ভাবতে পারেননি কেউ।

প্রতারিত গ্রাহকদের অভিযোগটা ঠিক কী?

নতুন ক্রেডিট কার্ড বাড়িতে আসার পরেই ভেরিফকেশনের জন্য ফোন আসে। সেই ফোন ধরলেই নানাভাবে ভেরিফিকেশন করা হয় কার্ড ও তার গ্রাহকের। অনেকেই না বুঝেই জানতে চাওয়া প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দেন। তার পরেই মোবাইলে আসে ওটিপি। যদিও ওটিপি শেয়ার করতে বারণ করা হচ্ছে ওই ফোনকলটিতেই, শেয়ার করছেনও না গ্রাহকরা, কিন্তু তাতেও টাকা কাটা যাচ্ছে গ্রাহকদের।ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত এইসব একাধিক অভিযোগ নিয়ে বহু মানুষ আজ, বৃহস্পতিবার পৌঁছন পার্কস্ট্রিটের এপিজে হাউসের ‘এসবিআই কার্ডস এন্ড পেমেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড’ অফিসে। সকাল থেকে অপেক্ষা করার পরে তাঁরা ঢুকতে পারেন ভিতরে। অনেক্ষণ অপেক্ষা করেও মেলেনি কোনও সন্তোষজনক উত্তর।

বাঙ্গুর অ্যাভিনিউ থেকে এসেছেন চন্দ্রানী গাঙ্গুলি পোদ্দার। তাঁর অভিযোগ, ‘আমি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করি। দিনকয়েক আগে আমার কার্ডে ১১ হাজার টাকার ব্যালেন্স দেখাচ্ছিল বাকি আছে বলে। তখন এসবিআই কাস্টমার কেয়ারে ফোন করলে জানানো হয়, ওই কার্ড বন্ধ করে দেওয়া হবে। সে জন্য বলা হয়, মেসেজে যাওয়া তথ্য ডাউনলোড করতে। আমি তাই করি, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই আমার মেসেজ ঢোকে চারটি লেনদেনের। যার মূল্য প্রায় ৪১ হাজার টাকা!’

দেখুন ভিডিও।

গড়িয়ার বাসিন্দা অঞ্জু সাহার সমস্যা আবার অন্য। নতুন কার্ড বাড়িতে আসে। চালু করার জন্য ভেরিফিকেশনের ফোন যায় তাঁর কাছে। দু’তিনদিন একাধিক ফোন আসে। শেষে ওটিপি শেয়ার অপশন আসে। আর তখনই তাঁকে বলা হয়, তা দিতে। তা দেওয়ার দিন কয়েক পরে আবার একটা ফোন আসে। তাতেই তিনি খবর পান তাঁর কার্ডে ১৭ হাজার টাকার লেনদেন হয়েছে! এসবের পরে কার্ডটি বাতিলই করে দেন তিনি।এর পরের পর্ব আরও সাংঘাতিক। বাতিল করে দেওয়া হলেও ফের একটি কার্ড পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। আর নতুন কার্ড লগইন করতে গিয়েই চোখ কপালে উঠেছে অঞ্জুদেবীর। তাঁর কথায়, ‘নতুন কার্ড যখনই আমি লগইন করতে যাই, দেখি আমার কার্ডে ২০ হাজার টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে!’ তিনি বুঝেই উঠতে পারছেন না কেন কাটা হল তাঁর টাকা? অগত্যা ব্রাঞ্চে যোগাযোগ করলে তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এপিজে হাউসের স্টেট ব্যাঙ্কের ক্রেডিট কার্ড ডিপার্টমেন্ট-এ, সেখানেই আজ এসেছেন তিনি। কিন্তু সুরাহা অধরাই।

এমনই অভিযোগ সিটিআইটি রোডের বাসিন্দা কুদরতুল্লা আহমেদেরও। তাঁর কথায়, ‘আমি কার্ড ব্যবহার পর্যন্ত করিনি, প্যাকেটই খুলিনি। কিন্তু মাসে মাসে আমার কার্ডে মেনটেনেন্স কেটে নেওয়া হয়েছে।’ পরিমাণটাও কম নয়। ৭-৮ হাজার টাকার বেশি। যদিও মেনটেনেন্স চার্জ বছরে মাত্র ৮০০ টাকা।শ্যামনগরের বাসিন্দা দীনেশ কুমার কেশরির অভিযোগ, যখন তিনি স্থানীয় ব্রাঞ্চে যান, তাঁকে বিভিন্ন কাগজের মধ্যে ক্রেডিট কার্ড ফর্মে সই করে নেওয়া হয়। তারপর বাড়ি এসে বিষয়টি জানালে পরিবারের তরফে তাঁকে তৎক্ষণাৎ কার্ড বাতিল করার জন্য বলা হয়। ব্রাঞ্চে গেলে জানানো হয়, কার্ড ইস্যু হয়ে গেছে কার্ড হাতে পেলেই তবে কার্ড ক্যানসেল করা যাবে, তাও ব্রাঞ্চ থেকে হবে না, করতে হবে কলকাতার পার্কস্ট্রিটের অফিসে।

সেই কারণেই সকাল থেকে এপিজে হাউজের এসবিআই কার্ডের অফিসে অপেক্ষা করে দেখা করেন অধিকারিকদের সঙ্গে। তাঁর অভিযোগ, শেষে তাঁকে জানানো হয় যে কার্ড বাতিল হবে, কিন্তু গুনতে হবে চার হাজার টাকা! কেন? তার সদুত্তর মেলেনি কর্তৃপক্ষের তরফে।এদিন এপিজে হাউসে আসা একাধিক মানুষেরই অভিযোগ, এসবিআইয়ের সার্ভিস নিয়ে। কারও সঙ্গে দেখা করার সুযোগই মেলে না। উঠছে হয়রানির অভিযোগও। এই বিষয় নিয়ে এসবিআই-এর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলে জানানো হয়, যাঁর সঙ্গে কথা বলা যাবে তিনি কলকাতার বাইরে আছেন। অর্থাৎ এই মুহূর্তে কারও সঙ্গেই কথা বলা যাবে না। শাখার ম্যানেজারও দেখা করেননি। তাই কেন এমন নানা অভিযোগ উঠছে তার সদুত্তর মেলেনি।

You might also like