Latest News

কংক্রিটের রাস্তায় ভারী যান চলাচল, কম্পনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় জয়দেবের প্রাচীন মন্দির

শুভদীপ পাল, বীরভূম: ইলামবাজারের কেঁদুলি। অজয়ের ধারে এই গ্রামেই জন্মেছিলেন কবি জয়দেব। আর তাঁরই স্মৃতিতে এখানে মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বর্ধমানের রাজা কীর্তিচাঁদ বাহাদুর। সালটা ছিল ১৬৮৩। সম্প্রতি কংক্রিটের রাস্তা তৈরি হয়েছে প্রায় সাড়ে তিনশো বছরের পুরনো সেই মন্দিরের পাশ দিয়ে। আর সেই রাস্তা ধরে শুরু হয়েছে ভারী যান চলাচল। এতেই চিন্তায় মন্দির কর্তৃপক্ষ। একে কম্পন, তায় দূষণ, রক্ষা করা যাবে তো ঐতিহ্যের জয়দেব মন্দির ?

বোলপুর থেকে ইলামবাজার হয়ে পানাগড় যেতে অজয় নদীর উপর ইলামবাজার সেতুই ধরতেন সবাই। কিন্তু বেহাল হওয়ায় ওই সেতুর উপর দিয়ে ভারী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। ফলে এখন পানাগড় থেকে বীরভূম অথবা বীরভূম থেকে দুর্গাপুর বা বর্ধমান যাওয়ার জন্য ভারী গাড়িগুলি জয়দেবের রাধা বিনোদ মন্দিরের পাশের এই  রাস্তাটিই বেছে নিচ্ছে। কারণ এই রাস্তা দিয়ে অজয় নদীর ফেরিঘাট পেরিয়ে খুব সহজেই ঢুকে যাওয়া যায় বর্ধমান জেলাতে। আর এতেই বেধেছে বিপত্তি।

১৬৮৩ খ্রিস্টাব্দে বর্ধমানের তৎকালীন রাজা কীর্তিচাঁদ বাহাদুর চুনসুরকি দিয়ে তৈরি করেছিলেন ৬০ ফুটের এই মন্দির। ভিতরে রয়েছে রাধা বিনোদের দামি কষ্টি পাথরের মূর্তি। মন্দিরের বাইরের দেওয়ালে অসাধারণ কারুকার্যে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে রামায়ণ ও মহাভারতের বিভিন্ন গল্প কথা। বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনবরত ভারী ট্রাক ও বাস যাতায়াতের ফলে এলাকায় প্রচণ্ড দূষণ হচ্ছে যা মন্দিরের বাইরের এই অপূর্ব কাজ নষ্ট করে দিচ্ছে। কম্পনের ফলে প্রাচীন এই মন্দিরের ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও তাঁদের অভিযোগ।

মন্দিরের পূজারী বেণীমাধব অধিকারী বলেন, “মন্দিরের পাশের রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন এত গাড়ি যাতায়াত করছে। এতে মন্দিরের মধ্যে কম্পনের সৃষ্টি হচ্ছে। এ ভাবে চলতে থাকলে কোনওদিন হয়তো মন্দির ভেঙে পড়বে। প্রশাসনকে বারবার জানিয়েছি কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি।”

মন্দিরে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরাও। বিশ্বভারতীর কলাভবনের অধ্যাপক শিশির সাহানা বলেন, “কিছুদিন আগেই আমরা দেখলাম ওইখানে কংক্রিটের রাস্তা তৈরি হয়েছে। সেই রাস্তায় ভারী গাড়ি চললে বেশি কম্পনের সৃষ্টি হয়। এত মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।”

তবে বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিকাশ রায়চৌধুরী বলেন, “জয়দেব মন্দির বীরভূম জেলার ঐতিহ্য। সেই মন্দিরের কোনও ক্ষতি হোক আমরা সেটা কখনওই চাই না। এই সমস্যাকে দূর করতে আমরা বিকল্প পথের চিন্তাভাবনা করছি।”

কবে হবে সেই বিকল্প পথ সেদিকেই তাকিয়ে জয়দেব মন্দিরের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়া এলাকার মানুষজন।

 

You might also like