Latest News

পোড়খাওয়া পাক জঙ্গিদের জন্যই নতুন করে অশান্তি কাশ্মীরে, জানালেন গোয়েন্দারা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গতে কয়েক বছরে কাশ্মীরে লক্সর ই তৈবা (Lashkar), জয়েশ ই মহম্মদ ও হিজবুল মুজাহিদিনের স্থানীয় নেতারা মারা পড়েছে নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে। তাদের শূন্যস্থান পূরণ করার জন্য পোড়খাওয়া পাকিস্তানি জঙ্গিদের কাশ্মীরে পাঠানো হয়েছে। এই জঙ্গিদের বয়স তিরিশের কোঠায়। তারা আগে একসময় কাশ্মীর উপত্যকায় সক্রিয় ছিল। গোয়েন্দারা সম্প্রতি এই খবর দিয়েছেন। একটি সূত্রে জানা যায়, পাকিস্তানি জঙ্গিরাই গত সপ্তাহে কাশ্মীরে সংখ্যালঘুদের ওপরে হামলা চালিয়েছিল। এর পিছনে ছিল ‘ছোটা ওয়ালিদ’ নামে এক পাকিস্তানি জঙ্গি।

গত মাসে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে কাশ্মীরে আসে ছোটা ওয়ালিদ। এর আগে দু’বার সে কাশ্মীরে ঘুরে গিয়েছে। ওয়ালিদ বাদে আরও কয়েকজন অপেক্ষাকৃত বয়স্ক জঙ্গি কাশ্মীরে ঢুকেছে। পুলিশের এক পদস্থ কর্তা বলেন, ছোটা ওয়ালিদ কয়েকটি স্লিপার সেল গড়ে তুলেছে। তারাই গত সপ্তাহে কয়েকজনকে খুন করেছে।

পুলিশের মতে, কাশ্মীরে পাকিস্তানের যে জঙ্গিরা রয়েছে, তাদের কারও জনপ্রিয়তা বুরহান ওয়ানি, সাবজার ভাট, রিয়াজ নিকো বা আব্বাস শেখের মতো নয়। পাকিস্তানি জঙ্গিরা কয়েক মাস ধরেই স্থানীয় জঙ্গিদের চাপ দিচ্ছিল যাতে সংখ্যালঘুদের টার্গেট করা হয়। কিন্তু স্থানীয় জঙ্গিরা সেকথা মানতে অস্বীকার করে। সেজন্যই পাকিস্তান থেকে কয়েকজন পোড়খাওয়া জঙ্গিকে কাশ্মীরে পাঠানো হয়েছে।

গত কয়েকদিনে যে সংখ্যালঘুরা জঙ্গিদের হাতে মারা গিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে আছেন কাশ্মীরী পণ্ডিত মাখন লাল বিন্দ্রো। তিনি ছিলেন ফার্মাসিস্ট। এছাড়া মারা গিয়েছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুপিন্দর কাউর, স্কুলশিক্ষক দীপক চাঁদ এবং বিহার থেকে আসা হকার বীরেন্দ্র পাসোয়ান। কেন্দ্রীয় সরকার কড়া ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, সাধারণ মানুষকে কেউ ভয় দেখাতে চাইলে বরদাস্ত করা হবে না।

জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের কর্তারা জানিয়েছেন, শ্রীনগরের আশপাশে রয়েছে জঙ্গিদের দু’টি মডিউল। তারা হালকা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নিরীহ মানুষকে আক্রমণ করছে। লস্কর জঙ্গিদের নেতৃত্ব দিচ্ছে এক পাকিস্তানি নাগরিক। সেই স্থির করছে, কাকে হত্যা করা হবে। কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে গত ৭ অক্টোবর বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। তখনি সিদ্ধান্ত নয়, জঙ্গি মডিউলগুলিকে পুরোপুরি ধ্বংস করে ফেলতে হবে।

গত সপ্তাহে সংখ্যালঘুদের ওপরে আক্রমণের পরে আপাতত উপত্যকায় থাকতে ভরসা পাচ্ছেন না হিন্দু পণ্ডিতরা। তাঁদের এক বড় অংশ ইতিমধ্যে অফিসে যাওয়া বন্ধ করেছেন। অনেকে জম্মুতে আশ্রয় নিয়েছেন।

একটি সূত্রের খবর, যে পণ্ডিতরা জম্মুতে পালিয়ে গিয়েছেন, তাঁরা জানিয়েছেন, কাশ্মীরে রীতিমতো ভয়ের পরিস্থিতি রয়েছে। প্রশাসন তাঁদের বলেছে, নিজেদের কলোনি ছেড়ে বেরোবেন না। যে জায়গাগুলি উত্তেজনাপ্রবণ সেখানে যাবেন না।

কাশ্মীরের মাট্টান কলোনি থেকে জম্মুতে আশ্রয় নেওয়া এক পণ্ডিত বলেছেন, “আমি সরকারি চাকরি করি। এক দশকের বেশি সময় আমি একটি কলোনিতে বাস করতাম। ২০০৩ সালে আমার কোনও ভয় ছিল না। ২০০৮-০৯ সালেও আমি ভয় পাইনি। এমনকি ২০১৬ সালে যখন বুরহান ওয়ানি মারা গেল, ২০১৯ সালে যখন ৩৭০ ধারা অবলুপ্ত করা হল, তখনও আমাদের কোনও ভয় ছিল না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। কাশ্মীরে সকলেই ভয় পাচ্ছে।”

You might also like