Latest News

নামমাত্র খরচে ‘সেরা চিকিৎসা’, চলে যান দুর্গাপুরের আইকিউ সিটি হাসপাতালে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্গাপুরের আইকিউ সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ১২০ দিনের জনকল্যাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করছে ৩১শে মে’ ২০১৯-এ।  নাম যেখানে জনকল্যাণ প্রকল্প, সেখানে যে স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কথা ভেবে অল্প খরচে সর্বাধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার কথা ভাবা হয়েছে, তা স্বাভাবিক।  মণিদেবী ঝুনঝুনওয়ালার স্মৃতির উদ্দেশে একটি ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে।  এই ট্রাস্টের পক্ষ থেকেই আইকিউ সিটি হাসপাতালে অভিনব এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  রাজ্যের যে কোনও প্রান্তের মানুষই আসতে পারেন এই চিকিৎসা নিতে।

এই জনকল্যাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করছেন, দুর্গাপুরের মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের মেয়র দিলীপ কুমার আগস্তি।  উপস্থিত থাকছেন আইকিউ সিটি ফাউণ্ডেশনের প্রেসিডেন্ট সঞ্জয় ঝুনঝুনওয়ালা, ট্রাস্টি ফ্রান্সিস অ্যান্থনি, হাসপাতালের প্রিন্সিপাল ডঃ নন্দকিশোর লাহোটি, হাসপাতালের সিওও সুপর্ণা সেনগুপ্ত এবং মণিগ্রুপের ডিরেক্টর সুদেষ্ণা গাঙ্গুলি।

১লা জুন থেকে ২৬ শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সুবিধা পাওয়া যাবে।  ৬০ টি বেড বিশিষ্ট কমিউনিটি হলের উদ্বোধন করা হচ্ছে।  এই হল-এ রোগীর আত্মীয়রা এক রাত করে থাকতে পারবেন।  ২৪ ঘণ্টা ৭ দিনই ক্যান্টিন খোলা থাকছে।  যাতে, রোগী এবং আত্মীয়দের খাবারের কোনও সমস্যা না হয়।  মূলত দক্ষিণবঙ্গ, বিহার এবং ঝাড়খণ্ডের প্রচুর রোগী আসেন এই হাসপাতালে।  এই প্রকল্পে রোগীর অসুবিধা কমাতে তাঁদের পরিষেবা দেওয়ার কথাও মাথায় রাখা হয়েছে।  তাঁদের দুর্গাপুরের সিটিসেন্টারের কাছাকাছি বা রেল স্টেশন পর্যন্ত ছেড়ে দিয়ে আসা হবে, এবং প্রয়োজনে তাঁদের বাড়ি থেকে নিয়ে আসাও হবে।

আইকিউ সিটি ফাউণ্ডেশনের প্রেসিডেন্ট সঞ্জয় ঝুনঝুনওয়ালা বলছেন, “মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই দুর্গাপুর ও সংলগ্ন জায়গাগুলোর বহু রোগী এই হাসপাতালের উপর ভরসা করেছে।  এটা দেখতে আমাদের ভালো লাগে।  আমরা চেষ্টা করি সবচেয়ে অল্প খরচে কী ভাবে সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা দেওয়া যেতে পারে তাঁদের।  আর সে কারণেই এই জণকল্যাণ প্রকল্পের ব্যবস্থা করলাম আমরা।  ”

১৯৮০তে যখন মণিগ্রুপ প্রথম রিয়েল এস্টেটের ব্যবসা শুরু করে, সঞ্জয় ঝুনঝুনওয়ালার লক্ষ্যই ছিল, যে মানুষরা পরিমাণের বদলে গুণমান নিয়ে বেশি ভাবেন, তাঁদের জন্যই এই গ্রুপ ব্যবসা করবে।  অর্থাৎ কোনও পরিষেবার ক্ষেত্রেই সবচেয়ে ভালোটাই লক্ষ্য এই গ্রুপের।  প্রায় ৩৫ বছর ধরে এই গ্রুপের উপর ভরসা করে এসেছেন রাজ্যের সাধারণ মানুষজন।  পঁচাত্তর লক্ষ স্কোয়ারফিটে প্রায় ২২০০ পরিবারকে জায়গা দিয়েছে এই গ্রুপ।  এখনও প্রায় ১ কোটি স্কোয়ারফিট জায়গায় চলছে কাজ।  তবে এখন আর শুধু রাজ্যে নয়, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, ওডিশাতেও মণি গ্রুপ নিজের শাখা বিস্তার করেছে, তাদের গুডউইলে ভরসা করেই।  আর শুধু রিয়েল এস্টেটে আটকে নেই এই ব্যবসা।  ছড়িয়ে পড়েছে এডুকেশন, হসপিটালিটি, রিটেল এবং হেল্থকেয়ারের দুনিয়াতেও।

এখানে এই অফারে নর্ম্যাল ডেলিভারি ২০০০ টাকায়, সি সেকশন সার্জারি ৫০০০, হিসেকটমি অপারেশন ১২,৫০০ (৫ দিনে), চোখের ফেকো সার্জারি ৬৫০০ টাকায়, গ্লকোমা চিকিৎসায় ১২০০ টাকা, অ্যাঞ্জিওগ্রাম (ডে কেয়ারে) ৫০০০ টাকা, অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি ১০০০০ টাকায়—এরকম নানা সুবিধা থাকছে।  যা এক কথায় অনবদ্য!

এই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথম ব্যাচ পড়াশোনা শুরু করে ২০১৩ তে, সেই ছাত্ররা পাশ করে গিয়েছেন, আপাতত তাঁরা ২০১৮ –এর মার্চ থেকে ইন্টার্নশিপও করছেন।  এই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি ২০১৮ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রির জন্য অনুমোদন পায়।  ২০১৮ এর প্রথম দিকে এখানে এমডি কোর্সও শুরু করা হয়েছে।  এমডি কোর্সে এখানে মোট ছটি বিষয় পড়ানো হচ্ছে।  ইতিমধ্যেই মেডিকেল কাউন্সিল অফ ইণ্ডিয়ার স্বীকৃতিও পেয়েছে এই কলেজ।  যত সময় যাচ্ছে তত ব্যাচের সংখ্যাও বাড়ছে এই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।  আইকিউ সিটি নার্সিং কলেজের ছাত্রীদের প্রথম ব্যাচটা পাশ করে গেছে।  মেডিকেল কলেজ এবং নার্সিং কলেজে মোট ২০০ জন দক্ষ শিক্ষক রয়েছেন।  তাঁদের দক্ষতা, মূল্যবোধ সবই এই শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রচণ্ড বেশি করে গুরুত্ব পায়।

এ তো গেল হাসপাতালের পড়ালেখার দিক, আর যে দিকটা নিয়ে রোগীর মাথাব্যথা অর্থাৎ চিকিৎসাক্ষেত্রের ব্যবস্থাপনা, তাতেও ত্রুটি নেই এখানে।  রয়েছে ৭৯৮ টি বেড, কার্ডিওলজি, কার্ডিওথোরাসিক সার্জারি, নিউরোলজি, ইউরোলজি, গ্যাসট্রোএনটেরোলজি, নেফ্রলজি, ডায়ালিসিস ইউনিট, পেডিয়াট্রিক সার্জারি, প্লাস্টিক সার্জারির মতো ব্যবস্থাও।  ২০১২ র ১৩ই এপ্রিল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই হাসপাতালের উদ্ধোধন করেন।  মণি গ্রুপের ১০০ একর জায়গা জুড়ে এই হাসপাতাল তৈরি হয়েছে।
কাজেই আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ এই সুবিধা পেতে চাইলে যোগাযোগ করুন এই হাসপাতালেই।

You might also like