Latest News

কাবুলে আরও বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে আইসিস, আশঙ্কা মার্কিন সেনার! কড়া পাহারা সর্বত্র

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাবুলে গোটা বিমানবন্দর জুড়ে হাহাকারের রোল। কিছু ভিডিও সামনে এসেছে, যা দেখলে রীতিমতো শিউরে উঠতে হয়, চোখ ঢাকতে হয়। বিমানবন্দরের গেটের সামনে সারি দিয়ে পড়ে রয়েছে মৃতদেহ। বিশ্বের ইতিহাসে এক চরম মর্মান্তিক অধ্যায় হয়ে রইল গতকালের কাবুল বিস্ফোরণ।

তবে এখানেই শেষ নয়। মার্কিন সেনার তরফে খবর, আরও বিস্ফোরণ হতে পারে। ফলে গোটা এলাকা যেন থমথম করছে। নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হলেও আশঙ্কা এড়ানো যাচ্ছে না কিছুতেই। কারণ গতকালও খবর থাকার পরেও কার্যত এড়ানো যায়নি বিপর্যয়।

মার্কিন সেনা সূত্রের খবর, গতকালই আশঙ্কা ছিল কিছু ঘটার। আমেরিকা আফগানিস্তানে তাদের নাগরিকদের সতর্ক করে বলেছিল, কেউ কাবুল বিমান বন্দরের কাছে যাবেন না। কারণ সেখানে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ হতে পারে। সেই আশঙ্কা সত্যি করে বৃহস্পতিবার বিস্ফোরণ ঘটে কাবুল বিমান বন্দরের কাছে। একটা নয়, পরপর দুটো।

জানা গেছে, গতকাল প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটার পরেই কাবুলে ফ্রান্সের দূত সম্ভাব্য দ্বিতীয় বিস্ফোরণ সম্পর্কে সতর্ক করে দেন। ফরাসি দূত ডেভিড মার্টিনন টুইট করে বলেন, “আফগান বন্ধুদের উদ্দেশে বলছি, আপনারা যদি বিমান বন্দরের গেটের কাছে থাকেন, অবিলম্বে সরে আসুন। কোনও নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিন। কারণ যে কোনও সময় আর একটি বিস্ফোরণ হতে পারে।”

এর পরেই ঘটে দ্বিতীয় বিস্ফোরণও। কিছুই করা যায়নি তার আগে। রক্তবন্যায় ভেসে গেছে সারি সারি ছিন্নভিন্ন দেহ। আফগান রিপোর্টার বিলাল সারওয়ারি বলেন, স্থানীয় মানুষ জানিয়েছেন, এক আত্মঘাতী বোমারু ভিড়ের মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটায়। তারপরে আরও একটা। একজন গুলিও চালাতে থাকে। বিস্ফোরণে ও গুলিতে অনেকের মৃত্যু হয়েছে।

এখানেই শেষ নয়, আরও বিস্ফোরণের আশঙ্কা রয়েছে বলেই মনে করছে মার্কিন বাহিনী।

ইতিমধ্যেই পেন্টাগন জানিয়েছে, গতকাল কাবুল বিমানবন্দরের ভয়াবহ বিস্ফোরণে শুধু আফগানরা নন, কয়েকজন মার্কিন নাগরিকও মারা গিয়েছেন। এর পরে আফগান স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে জানা যায়, যে ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে তার মধ্যে চারজন মার্কিন নৌবাহিনীর জওয়ানও রয়েছে। আরও পরে মার্কিন মুখপাত্র জন কিরবি জানান, ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১০ জন মেরিন সেনা ও একজন নৌ ডাক্তার রয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৮ জন।

ঘটনার পর থেকেই হোয়াইট হাউসের কন্ট্রোল রুমে বসে প্রতি মুহূর্তের আপডেট নেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বাতিল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

অন্যদিকে, এসবের মধ্যেই প্রতিদিন কাবুল বিমান বন্দর থেকে উড়ছে ভারতের দু’টি বিমান। আফগানিস্তান থেকে ভারতীয় নাগরিকদের ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সে কাজে বাধা পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর জানিয়েছেন, ১৫ হাজার মানুষ আফগানিস্তান থেকে পালানোর জন্য ভারত সরকারের কাছে সাহায্য চেয়েছেন। আপাতত ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনার ওপরেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। জয়শংকর পরে জানান, ভারতীয়দের অধিকাংশকেই আফগানিস্তান থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বুধবারের ফ্লাইটে কয়েকজন ফিরতে পারেননি। ভারতীয়দের জন্য ই-ভিসা চালু করা হয়েছে। যত শীঘ্র সম্ভব সরকার প্রত্যেক ভারতীয়কেই ফিরিয়ে আনবে।

You might also like