Latest News

‌University-Mamata Banerjee: আচার্য পদে শিক্ষাবিদ নয় কেন, প্রশ্ন বিরোধীদের, শিক্ষা মহলেরও

দ্য ওয়াল ব্যুরো:‌ বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ঠিক হয়েছে, রাজ্যের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (University-Mamata Banerjee)।

রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত (University-Mamata Banerjee) ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক ও শিক্ষা মহলে। কারও মতে এই সিদ্ধান্ত ঠিক। কেউ তীব্র বিরোধিতা করছেন।

বিজেপির কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) ‘‌দ্য ওয়াল’‌কে বলেন, ‘‌সম্পূর্ণ ক্ষমতা একহাতে নিতেই এই সিদ্ধান্ত। এটা স্বৈরাচারের চরম পর্যায়। রাজ্যে একনায়কতন্ত্র চলছে। এরপর হয়ত সংবিধানকেও অগ্রাহ্য করার প্রস্তাব দেবে তৃণমূলের মন্ত্রিসভা। রাজ্য দূর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। নিজেই নিজেকে সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার দিচ্ছেন। সবকিছুর একটা সীমা থাকা দরকার।’‌

বিরোধিতা করছেন আরও এক বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যও। তাঁর কথায়, ‘‌নজিরবিহীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষাব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারা ঢাকতেই এ ধরণের সিদ্ধান্ত।’

কটাক্ষ ও বিরোধিতায় সরব সিপিএম নেতারাও। দলের তরফে সুজন চক্রবর্তী কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘‌এটা খুবই ভালো সিদ্ধান্ত। যে মুখ্যমন্ত্রী এপাং ওপাং ঝপাং, আমরা সবাই ড্যাং ড্যাং লিখতে পারেন, তিনি ছাড়া রাজ্যে আচার্য হওয়ার জন্য আর কে যোগ্য আছে। ওঁর থেকে বেশি যোগ্য আর কেউ নেই রাজ্যে। শিক্ষা দফতর বুঝে গেছে, যে শিক্ষক নিয়োগে দূর্নীতি ধামাচাপা দিতে মুখ্যমন্ত্রীকেই আচার্য করতে হবে।’

বিষয়টির প্রতিবাদে মুখ খুলেছেন শিক্ষানুরাগীরাও। প্রেসিডেন্সি যখন কলেজ ছিল তখন দীর্ঘদিন সেখানকার অধ্যক্ষ ছিলেন অমল মুখোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘রাজ্যপালই বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য হন। ইংরেজ আমল থেকেই ওই নিয়ম। মুখ্যমন্ত্রী আচার্য হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি স্বাতন্ত্র হারাবে। শিক্ষার সর্বনাশ হবে।’‌

তবে বিষয়টির সমর্থন করেছেন পুরাণ বিশেষজ্ঞ নৃসিংহ প্রসাদ ভাদুড়ী। তাঁর মতে এটা খুবই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।

পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীকে আচার্য পদে বসানোর প্রতিবাদে সরব হয়েছে রাজ্যের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠনগুলিও। পশ্চিমবঙ্গ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সম্পাদক, কেশব ভট্টাচার্য বিষয়টিতে জানান, উপাচার্য হিসেবে রাজ্যপাল আচার্যের পদে বসুক তাঁরা চাননা। তেমনই মুখ্যমন্ত্রীকেও ওই পদ দেওয়ার বিরোধী তাঁরা। তাঁদের দাবি, আচার্যের পদে কোনও শিক্ষাবিদকে বসানো হোক। ‌

একই দাবি ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক পার্থিব বসুর। তাঁর বক্তব্য দেশে অনেক শিক্ষাবিদ রয়েছেন। তাঁদের আচার্যের পদে বসানো হোক। কোনও রাজনৈতিক নেতা বা সাংবিধানিক প্রধান নয়। দেশে কখনও কোনও মুখ্যমন্ত্রী আচার্যের পদে বসেছেন বলে তাঁরা শোনেননি।

অধ্যাপক সংহতি মঞ্চের তরফেও বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, রাজ্যপাল যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে হস্তক্ষেপ চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তা যেমন কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়; আবার সেই পদে মুখ্যমন্ত্রীকে বসিয়ে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত নয়। শিক্ষার স্বাধিকারকে মর্যাদা দিতে হলে রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি নয়, শিক্ষাবিদদের এই পদে বসাতে হবে।

নজির গড়ছেন মমতা, দেশে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনিই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য হচ্ছেন

You might also like