Latest News

৬০ হাজার ধর্ষণ, যৌন হেনস্থায় অভিযুক্ত রাষ্ট্রপুঞ্জের কর্মীরা, সামনে এল ভয়ঙ্কর তথ্য

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সর্ষের মধ্যেই ভূত।

লাগাতার শিশু ধর্ষণ, যৌন হেনস্থার মতো অপরাধ ঘটিয়ে চলেছে রাষ্ট্রপুঞ্জের কর্মীরা। হয় তারা কোনও এনজিওর কর্মী, অথবা কোনও উদ্ধারকারী দলের সদস্য। যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকাগুলিতে উদ্ধারকাজে যাওয়া কর্মীদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু ধর্ষক। ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ডিএফআইডি) অধিবেশনে এমনই ভয়ঙ্কর তথ্য সামনে আনলেন রাষ্ট্রপুঞ্জের এক শীর্ষস্থানীয় সরকারি আধিকারিক অ্যান্ড্রু ম্যাকলয়েড।

২০১৮ সালেও এমনই চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট পেশ করেছিলেন তিনি। অধ্যাপক, সমাজকর্মী অ্যান্ড্রু ম্যাকলয়েডের দাবি, গোটা বিশ্বেই ছড়িয়ে রয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জের বিভিন্ন সংস্থার এই কর্মীরা। পিছিয়ে পড়া দেশগুলিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করে ওই কর্মীরা। শিশু ধর্ষণ, শিশু ও নারী পাচারের মতো ঘৃণ্য অপরাধের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলাই যাদের কাজ, তাদের বেশিরভাগই শিশু ধর্ষণে জড়িত।

বহু বছর রাষ্ট্রপুঞ্জের এমার্জেন্সি কোঅর্ডিনেশন সেন্টারের প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন অ্যান্ড্রু ম্যাকলয়েড। কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, পাকিস্তান, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কাজ করেছেন তিনি। ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ব্রিটিশ সরকারের অনুদান প্রদানকারী সংস্থা ‘ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ডিএফআইডি) ইন্ডিয়ার’ সচিব প্রীতি পটেলের কাছে সমীক্ষার রিপোর্ট পেশ করে অধ্যাপক অ্যান্ড্রু ম্যাকলয়েড বলেছেন, রাষ্ট্রপুঞ্জের ছাতার তলায় থাকা বিভিন্ন সংস্থায় অন্তত ৩,৩০০ শিশু ধর্ষক লুকিয়ে রয়েছে। ভালো মানুষের মুখোশ পরে তারা এই জঘন্য অপরাধ ঘটিয়ে চলেছে বছরের পর বছর। শিশুরাই মূলত তাদের যৌন লালসার শিকার।

এই ভয়ঙ্কর অভিযোগকে অস্বীকার করতে পারেননি রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিও গুয়েতেরেস। অ্যান্ড্রু ম্যাকলয়েডের অভিযোগ মেনে নিয়ে তিনি বলেছেন, গত দু’দশকে অন্তত ৬০ হাজার ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জের বিভিন্ন সংস্থার কর্মীরা। এনজিও ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যেরাই তাদের মধ্যে বেশি। ২০১৬ সালের একটি রিপোর্টে দেখা গিয়েছিল, যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকাগুলিতে শান্তি ফিরিয়ে আনার কথা বলতে পাঠানো হয়েছিল যেসব কর্মীদের তাদের বেশিরভাগের বিরুদ্ধেই শিশু ধর্ষণ, যৌন হেনস্থার মতো অভিযোগ রয়েছে। এমন ৩৩১টি ধর্ষণের অভিযোগ জমা পড়ে, যার কোনওটারই কিনারা করা যায়নি। মেডিক্যাল স্টাফ, সিভিল সার্জনরাও এর বাইরে নয়।

ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে এসেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রীতি পটেল। অপরাধের বিরুদ্ধে বরাবরই কড়া অবস্থান নেওয়ার জন্য পরিচিত তিনি। প্রীতি পটেলের কাছেই বিশ্বজুড়ে ঘটে চলা এমন ভয়ঙ্কর অপরাধের রিপোর্ট পেশ করে অ্যান্ড্রু বলেন, শুধুমাত্র এনজিও নয়, ক্যাথোলিক চার্চের মধ্যেও এমন ধর্ষণের ঘটনা ঘটে চলেছে। শিশু ধর্ষণ এবং যৌন হেনস্থা মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়ছে গোটা বিশ্বেই।

কীভাবে এমন অপরাধ ঘটিয়ে চলেছে রাষ্ট্রপুঞ্জের কর্মীরা? অধ্যাপকের কথায়, নানা সূত্র থেকে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, রাষ্ট্রপুঞ্জের নানা সংস্থার দশ হাজার কর্মীর মধ্যে অন্তত দশ জন ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত। অথচ তাদের শনাক্ত করা যায়নি। কারণ দেখা গেছে ইউনিসেফের টি-শার্ট গলিয়ে, ভুয়ো পরিচয় দিয়ে তারা বিভিন্ন স্কুল বা হোমে এন্ট্রি নিয়েছে। শিশু শিক্ষার প্রচার চালানোর নামে নির্বিচারে ধর্ষণ করেছে শিশুদের।

You might also like