Latest News

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের মামলা পুনর্বিবেচনা করতে বললেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ত্রিপুরায় হিংসা নিয়ে ‘ভুয়ো খবর’ (Fake News) ছড়ানোর অভিযোগে সাংবাদিক ও আইনজীবীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল রাজ্য সরকার। বিতর্কিত সন্ত্রাসদমন আইন ইউএপিএ-তে তাঁদের বিরুদ্ধে চার্জ আনা হয়। শনিবার ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে নির্দেশ দিলেন মামলাগুলি যেন খতিয়ে দেখা হয়। ইতিমধ্যে অভিযুক্তরা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে বলেছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ প্রত্যাহার করা হোক। শীর্ষ আদালত তাঁদের আবেদনে সাড়া দেয়। মামলায় অভিযোগকারীদের হয়ে সওয়াল করেছিলেন ন্যাশনাল কনফেডারেশন অব হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনের আইনজীবী আনসার ইন্দোরী ও পিপলস ইউনিয়ন ফর সিভিল লিবার্টিজের আইনজীবী মুকেশ।

বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও মানবাধিকার সংগঠন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ দমন আইন প্রয়োগ করার নিন্দা করে। তাদের অভিযোগ, ত্রিপুরা সরকার সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে চাইছে।

নভেম্বরের মাঝামাঝি জানা যায়, দিল্লির দুই মহিলা সাংবাদিককে গ্রেফতার করেছে ত্রিপুরা পুলিশ। দুই সাংবাদিকের নাম সমৃদ্ধি সকুনিয়া এবং স্বর্ণ ঝা। তাঁরা এইচডব্লু নিউজ নেটওয়ার্ক নামে এক সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত।

ত্রিপুরা পুলিশ বিবৃতি দিয়ে বলে, সমৃদ্ধি এক ব্যক্তির বাড়ির প্রার্থনাকক্ষের ছবি টুইট করেছিলেন। প্রার্থনাকক্ষটি অর্ধদগ্ধ অবস্থায় ছিল। সমৃদ্ধি দাবি করেন, ওই প্রার্থনাকক্ষে ধর্মগ্রন্থ পোড়ানো হয়েছে। পুলিশ খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, সেখানে কোনও ধর্মগ্রন্থ পোড়ানো হয়নি। দুই সাংবাদিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আগরতলা থানায় ডেকে পাঠানো হয়। পরে জানা যায়, দুই সাংবাদিক ত্রিপুরা ছেড়ে চলে গিয়েছেন।

দুই সাংবাদিক বলেন, তাঁরা যখন বিমান বন্দরে যাচ্ছিলেন, পথে পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করে। থানায় তাঁদের সাড়ে তিন ঘণ্টা আটক করে রাখা হয়। তারপরে ত্রিপুরা পুলিশের একটি এসকর্ট টিম আসে। দুই সাংবাদিক পুলিশকে বলেন, তাঁরা এখন কোথাও যাবেন না। তাঁদের আইনজীবী আসছেন শীঘ্রই। সেই শুনে পুলিশকর্মীরা চিৎকার করে বলেন, “এখন কেউ আসবে না”।

দুই সাংবাদিক অভিযোগ করেন, পুলিশ তাঁদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। একটি সূত্রে জানা যায়, পুলিশ দুই সাংবাদিককে নোটিশ দিয়েছে। দু’জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা খবর ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।

এইচডব্লু নিউজ নেটওয়ার্ক বিবৃতি দিয়ে বলেছে, দুই মহিলা হেনস্থার শিকার হয়েছেন। ত্রিপুরা পুলিশ সংবাদ মাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে চায়। এডিটরস গিল্ড অব ইন্ডিয়া টুইট করে বলে, যেভাবে দুই সাংবাদিককে আটকে রাখা হয়েছিল, তা নিন্দনীয়।

You might also like