Latest News

Tripura: বিপ্লবই কি বকলমে মুখ্যমন্ত্রী? ১০ দিন মানিক ‘গৃহবন্দি’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এমনিতে উত্তর-পূর্বের সবকটি রাজ্যই ভূমিকম্প প্রবণ। মাঝেমধ্যেই শোনা যায় রিখটার স্কেলে কম্পন ধরা পড়ার কথা। মণিপুর, মেঘালয়, অসম, ত্রিপুরার (Tripura) মানুষের গা সওয়া। কিন্তু গত ১৪ মে ত্রিপুরার রাজধানীতে হঠাৎ যে রাজনৈতিক কম্পন অনুভূত হয়েছিল তা ধাতস্ত হতে অনেকেরই সময় লেগে যায়। মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে বিপ্লব দেবের ইস্তফা, তারপর দ্রুত পরিষদীয় দলের বৈঠক করে মানিক সাহাকে মুখ্যমন্ত্রী করে দেওয়ার মধ্যে দৃশ্যতই যুদ্ধকালীন তৎপরতা দেখা গিয়েছিল গেরুয়া শিবিরে। ছিল নাটকীয়তাও। তারপর ১০ দিন কেটে গেল। এখন আগরতলা থেকে আমবাসা, ধর্মনগর থেকে বিলোনিয়া—আলোচনা একটাই। মুখ্যমন্ত্রী আসলে কে? বিপ্লব দেব? নাকি মানিক সাহা?

কেন? (Tripura)

এই ১০ দিনে নতুন মুখ্যমন্ত্রী কী করলেন? দেখা যাচ্ছে আগরতলার নিউ ক্যাপিটাল কমপ্লেক্সে দুধ সাদা সচিবালয় ছেড়ে খুব একটা বেরোননি মানিক। বেরোলেও পার্টি অফিস আর কোনও কর্মীর বাড়িতে কালীপুজোয় যোগ দেওয়া ভিন্ন তৎপরতা দেখা যায়নি। সচিবালয়ে প্রতিদিন কারও না কারও সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করছেন মানিকবাবু। তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পেজেও সেসব ছবি উপচে পড়ছে।

আর বিপ্লব?

দেখা যাচ্ছে ত্রিপুরার জেলায় জেলায় চষে বেড়াচ্ছেন সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। পার্টি কর্মসূচি তো বটেই। প্রশাসনিক কর্মসূচিতেও বিপ্লব যাচ্ছেন। বক্তৃতা করছেন। বিরোধীরা এও অভিযোগ করছে, একজন সাধারণ বিধায়ক হয়ে বিপ্লব দেব এখনও ডিএম, এসপি-দের নির্দেশ দিচ্ছেন। কী ভাবে? ফলে এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছে, আসলে মুখ্যমন্ত্রী কে?

অন্ধ্রে শ্রীলঙ্কা মডেল, মন্ত্রীর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিল ক্ষুব্ধ জনতা

কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, এ ব্যাপারে রাজ্য বিজেপির মধ্যেও ঊষ্মা রয়েছে। আগরতলার পুরনো মোটর স্ট্যান্ড এলাকায় এক মহিলানেত্রী ঘনিষ্ঠবৃত্তে বলেছেন, বিপ্লব দেব চেয়ার ছেড়েছেন বটে। কিন্তু যে ভাবে এখনও মুখ্যমন্ত্রিত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন তা একরকমের গা জোয়ারি। এবং মানিক সাহার অপমান।

যদিও প্রকাশ্যে বিজেপি এটাই তুলে ধরতে চাইছে, বিপ্লব এবং মানিকের অটুট ঐক্য রয়েছে। দু’জন বোঝাপড়া করেই যা করার করছেন।

তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে বলছেন, চেয়ার বদল হলে রাজনীতিতে সবসময় পুরনো সম্পর্ক, সমীকরণ এক থাকে না। সম্প্রতি ত্রিপুরার শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ সংবাদমাধ্যমের সামনে আলটপকা কথা বলে বসেছিলেন। তিনি বিপ্লবকে মহিমান্বিত করতে গিয়ে বলেছিলেন, বিপ্লব দেব আইনস্টাইন, রবীন্দ্রনাথ, মহাত্মা গান্ধীর থেকেও মহান।

এ নিয়ে কয়েকদিন ধরেই ত্রিপুরায় আলোচনা চলছে। এ ব্যাপারে মানিক সাহাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জবাব দিয়েছেন, যিনি একথা বলেছেন। তিনিই এর ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। অর্থাৎ অনেকে মনে করেছেন, বিপ্লব সম্পর্কে রতনের বক্তব্যের সায় দেননি মানিক সাহা।

ত্রিপুরার প্রধান বিরোধী দল সিপিএমের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় সামগ্রিক ভাবে বিপ্লবের হয়ে কাজ করছে। একাধিক অফিসার এখনও বিপ্লবের জন্য ‘অ্যাসাইনড’ বলেও অভিযোগ দশরথ দেব ভবনের। এ নিয়ে মঙ্গলবার মানিক সাহার দৃষ্টি আকর্ষণ করে চিঠিও লিখেছে সিপিএম। তা ছাড়া কংগ্রেসের সুদীপ রায় বর্মনও অভিযোগ করেছেন, বিপ্লবকে সরিয়েও মর্যাদায় তাঁকেই মুখ্যমন্ত্রী রাখা হয়েছে। তাঁর নিরাপত্তাবলয় নিয়েও অভিযোগ করেছে কংগ্রেস। তাছাড়া এখনও কেন বিপ্লব দেব মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ছাড়েননি তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সাবেক দল।

সব মিলিয়ে ত্রিপুরাজুড়ে এখন গুঞ্জন, মুখ্যমন্ত্রী আসলে কে? কেন গৃহবন্দি মানিক? এটা কি মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারের অমর্যাদা নয়?

You might also like