Latest News

‘সুশান্ত বিপদে আছে, ফেব্রুয়ারিতেই পুলিশকে জানিয়েছিলাম’: ভিডিও বার্তায় দাবি অভিনেতার বাবার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের একটি নতুন ভিডিও বার্তা প্রকাশ করলেন মাস দেড়েক আগে আত্মঘাতী অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের বাবা, কেকে সিং। তাঁর দাবি, এ বছরের গোড়ার দিকেই নাকি তিনি বুঝেছিলেন, ছেলে বিপদে মধ্যে রয়েছেন। এ বিষয়টি নাকি মুম্বাইয়ের বান্দ্রা থানায় জানিয়েছিলেন বাবা। অভিযোগ, পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেনি তার পরেও। শেষমেশ ১৪ জুন নিজের ঘর থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় সুশান্তর। এখনও তদন্ত আশানুরূপ গতিতে এগোয়নি বলেও দাবি করেন কেকে সিং। সে জন্যই পাটনা থানায় তাঁকে অভিযোগ দায়ের করতে হয়েছে।

সুশান্তর বাবার এই নতুন দাবি নিয়ে এখনই কোনও মন্তব্য করতে চাননি মুম্বই পুলিশ কমিশনার পরমবীর সিং। এদিনের ভিডিও বার্তায় মুম্বই পুলিশকে আগাম খবর দেওয়ার দাবি করার পাশাপাশি সুশান্তর বাবা, ৭৪ বছরের বৃদ্ধ আরও একবার অভিযোগের আঙুল তোলেন রিয়া চক্রবর্তীর দিকে। তাঁর দাবি, বিহার পুলিশ রিয়ার বয়ান রেকর্ড করার চেষ্টা করলেও সহযোগিতা করেননি সুশান্তের বান্ধবী। তিনি বিহার সরকারের কাছে অনুরোধও জানান, যাতে তাঁর ছেলের মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হয়।

সুশান্তর বাবার আইনজীবী সঞ্জয় সিং কয়েক দিন আগেই একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে বান্দ্রা পুলিশকে জানানো হয়েছিল অভিনেতার চারপাশে বিশ্বাসঘাতক মানুষ ভরে গিয়েছে। তার পরেও কারও বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেনি। এ বিষয়ে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এমনকী অভিযুক্ত রিয়ার বিরুদ্ধেও কোনও পদক্ষেপ করেনি, উল্টে তাঁকে ক্লিনচিট দিয়েছে।

এসবের মধ্যেই গুজব রটেছে, রিয়া চক্রবর্তী নাকি নিখোঁজ। যদিও মুম্বই পুলিশ জানিয়েছে, তিনি বয়ান দিয়েছেন, তদন্তে সহযোগিতাও করছেন। বিহার পুলিশ এখনও শমন পাঠায়নি রিয়াকে। পাশাপাশি, বিহার পুলিশের তদন্তকারী আইপিএস অফিসার বিনয় তিওয়ারিকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। এর পেছনে মুম্বই পুলিশের হাত আছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সবমিলিয়ে, ক্রমেই যেন জটিলতর হয়ে উঠছে সুশান্তর মৃত্যুর তদন্ত। তাঁর পরিবারের তরফে বারবার দাবি করা হয়েছে, সুশান্ত যে ধরনের মানুষ ছিলেন সুশান্ত, তাতে তাঁর পক্ষে এত সহজে নিজেকে শেষ করে দেওয়া অস্বাভাবিক ব্যাপার। তাই তাঁর মৃত্যুর পিছনে হয় কোনও ষড়যন্ত্র ছিল, কিংবা পরিকল্পিত ভাবে তীব্র মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল।

আর এই সবকিছুর পেছনে সুশান্তর পরিবার আঙুল তুলেছে সুশান্তর প্রাক্তন বান্ধবী রিয়ার বিরুদ্ধে। দিন দিন যেন বেড়ে চলেছে রিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা৷ সুশান্তের কেরিয়ার ধ্বংস করা, তাঁর টাকা নিয়ে নেওয়া, তাঁকে পরিবারে থেকে দূরে সরিয়ে রাখা, তাঁকে কড়া ডোজের ওষুধ খাওয়ানো, মানসিক অবসাদে ডুবিয়ে দেওয়া, এমনকি হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে রিয়ার বিরুদ্ধে।

এসবের মধ্যেই ক্রমে প্রকট হচ্ছে বিহার পুলিশ ও মুম্বই পুলিশের দ্বন্দ্ব। অভিযোগ উঠেছে, বিহারের তদন্তকারী দল সুশান্তর ত্যুর তদন্ত করতে মুম্বই পৌঁছলেও তাদের সাহায্য করছে না মুম্বই পুলিশ।

যদিও মুম্বই পুলিশ কমিশনারের বক্তব্য, অভিনেতার মৃত্যুর পর থেকে তাঁর আত্মীয় ও অনাত্মীয়, ঘনিষ্ঠ কর্মচারী, বান্ধবী ও তাঁর পরিবারের লোকজন সহ মোট ৫৬ জনের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। প্রত্যেকের জবানবন্দি নিয়েই নাকি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে সুশান্ত বাইপোলার ডিসঅর্ডারে ভুগছিলেন। তার জন্য চিকিৎসা চলছিল। তিনি নিয়মিত ওষুধও খেতেন। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে যন্ত্রণাহীন মৃত্যুর উপায়, বাইপোলার ডিসঅর্ডার নিয়ে গুগলে কেন সার্চ করছিলেন সুশান্ত, সেটাই ভাবাচ্ছে।

কমিশনার পরমবীর বলেছেন, ঠিক কী পরিস্থিতিতে অভিনেতার মৃত্যু হয়েছে, এই মৃত্যুর সঙ্গে কোন কোন ঘটনা জড়িয়ে রয়েছে সেটাই এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য।

You might also like