Latest News

সুদীপের উপর যেন সিতরাং আছড়ে পড়ছে, সুখী নেতা বলে ফের খোঁচা মদনের, তাপসের প্রশংসায় সৌগত

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূলের (TMC) মধ্যে থেকেই এখন ধারাবাহিকভাবে বিদ্ধ লোকসভার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় (Sudip Banerjee)। যেন ঘূর্ণিঝড় সিতরাং আছড়ে পড়ছে। আর সেই সমালোচনা হচ্ছে কোথায়? কালীপুজোর আগে শনিবার সন্ধেয় তা ঘটল একেবারে মধ্য কলকাতায়। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্র তো বটেই, তাঁর বাড়ি থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে।

এদিন তাপস রায়ের (Tapas Roy) কালীপুজো তথা যুবশ্রীর কালীপুজোর উদ্বোধন ছিল। সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র (Madan Mitra) বলেন, রাজা হওয়া কঠিন। রাজত্ব রাখা আরও কঠিন। নেতা হয় দু’রকম। সুখের রাজপুত্র আর দুখের রাজপুত্র। তাপস রায় কিন্তু সুখের রাজপুত্র নন। তাপস ফুটপাতের নেতা। পাড়ার নেতা। লোকের নেতা।

পরে মঞ্চ থেকে নেমে মদন মিত্র সাংবাদিকদের বলেন, “অনেক নেতা রয়েছেন দেখবেন, সাফারি স্যুট পরে, স্নো পাউডার মেখে, মিস্ট মেখে ঘোরেন। তাপস রায় মিস্ট মাখেন না। উনি মানুষের নেতা”। তাঁর কথায়, “সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে আমার কোনও কথা বলার ইচ্ছেও নেই। তবে সুদীপদা যখন যুব কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখন সুখের সময়। ১৯৭২ সাল। ইন্দিরা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী আর মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়। তিনি জীবনে একটাই আন্দোলন করেছিলেন। একবার তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে জানা গেল তিনি উত্তরবঙ্গে গিয়ে লুকিয়ে রয়েছেন।”

তাৎপর্যপূর্ণ ভাবেই এদিন তাপস রায়ের পুজোয় নেতা সমাগম ছিল দেখার মতো। মদন মিত্র, সৌগত রায়, সুজিত বসু, অর্জুন সিংরা, বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় সেই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। মদনের পর এদিন তাপস রায়ের প্রশংসা করেন দমদমের তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তিনি বলেন, “মদন বলেছেন নেতা দু’রকমের হয়। তাপস রায় সুখের রাজপুত্র ছিলেন না। ঠিকই বলেছেন মদন। তাপস রায় শক্তিশালী সংগঠক। মা ওঁকে আরও শক্তি দিক”।

পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, এই ঘটনা পরম্পরা একটা বিষয় নির্দেশ করে। তা হল খোলাখুলি ভাবে এরকম সুদীপের বিরোধিতা তৃণমূলে নজিরবিহীন। কোনও সাংসদের বিরুদ্ধে দলের একাধিক বিধায়ক ও সাংসদ প্রকাশ্যে বা ঠারেঠোরে যা বলছেন তাতে মর্যাদা অক্ষুন্ন রেখে রাজনীতিতে থাকা কঠিন বইকি। কারণ, বিরোধীরা তাঁর সমালোচনা করছেন না। তা করছেন তাঁর দলের সাংসদরাই। আর তাৎপর্যপূর্ণ হল, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে তাঁর স্ত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া আর কাউকে গলা তুলতে দেখা যাচ্ছে না। কোনও বিধায়ক বা সাংসদ তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে এখনও বলেননি যে মদন মিত্ররা যা করছেন তা ঠিক হচ্ছে না। অর্থাৎ উত্তর কলকাতার রাজনীতিতে সুদীপকে কিছু অসহায় ও একা দেখাচ্ছে। এহেন অবস্থায় সুদীপ অবশ্য এদিন একাধিক পুজোর উদ্বোধনে ছিলেন। তার মধ্যে অন্যতম হল ফাটাকেষ্টর পুজো। ওই পুজোয় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও ছিলেন কৃষ্ণনগরের বিধায়ক মুকুল রায়।

শুভেন্দুকে ঝাঁটা দেখানোর ডাক জয়প্রকাশের, দিলীপ বললেন, ‘উটকো নেতা নম্বর বাড়াচ্ছেন’

You might also like