Latest News

সংসদে কাল মোদী সহায় কংগ্রেস-তৃণমূল সংঘাত, হাতের ধারে কাছে নেই জোড়াফুল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাপের মুখে নরেন্দ্র মোদীর কৃষি আইন বাতিলের সিদ্ধান্তকে বিরোধীরা আগেই সরকার ও শাসক দলের নৈতিক পরাজয় বলে দাবি করেছে। সোমবার সংসদে এ নিয়ে সরব হতে বিরোধী দলগুলি নিজের নিজের মতো করে পরিকল্পনা নিচ্ছে। সরকারকে চেপে ধরতে জ্বালানির অগ্নিমূল্য, নিত্যপন্যের আকাশ ছোঁয়া দাম ইত্যাদিও তাদের ইস্যু। সব মিলিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার রীতিমতো চাপের মুখে।

কিন্তু এমনই সংকট মূহূর্তে নরেন্দ্র মোদীর জন্য স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সংসদে বিরোধী অনৈক্য। যার মূলে আছে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের ক্রমবর্ধমান বিবাদ। জোড়া ফুল শিবির স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে তারা সংসদে কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও ধরনের ফ্লোর কো-অর্ডিনেশনে যাবে না। তৃণমূলের সিদ্ধান্তকে ফের দিদি-মোদী বোঝাপড়া বলে আক্রমণ শুরু করেছে কংগ্রেস। যদিও অধীর চৌধুরীর মতো কংগ্রেসেরও অনেকেই তৃণমূলকে দূরে রাখারই পক্ষে।

আগামীকাল সোমবার সংসদের শীতকালীন অধিবেশন শুরু হবে। প্রথম দিনেই তিন কৃষি আইন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে রিপিল বিল পেশ করার কথা কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমরের। তখনই সরকারকে চেপে ধরে আন্দোলনে নিহত কৃষকদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নীরবতা পালন ও মৃতের পরিবাবের ক্ষতিপূরণের দাবিতে সরব হওয়ার কথা বিরোধীদে। এই বিষয়ে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে কংগ্রেসের রাজ্যসভার নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে বৈঠকে ডেকেছেন বিজেপি বিরোধী দলগুলিকে। সংসদে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসাবেই বৈঠক ডাকা হয়েছে খাড়গের ঘরে। কিন্তু তৃণমূল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে তারা ওই বৈঠকে যাবে না।

বস্তুত, সংসদের আগের অধিবেশন থেকেই কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূল দূরত্ব তৈরি করতে শুরু করেছে। তখনও খাড়গের সব বৈঠকে হাজির থাকেননি তৃণমূল সাংসদেরা। ঘটনাচক্রে সেবার ওই সব বৈঠক চলাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে ছিলেন। খাড়গের বৈঠকের সময় দলের সাংসদদের মধ্যাহ্নভোজে ডেকেছিলেন নেত্রী। সেবার রাহুল গান্ধীর ডাকা একটি বৈঠকেও থাকেনি তারা।

এবার সংসদ বসার দিনে তৃণমূলের অনেক সাংসদ সেখানে অনুপস্থিত থাকতে পারেন বলেন দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে। কারণ, তৃণমূল নেত্রী দলের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক ডেকেছেন কলকাতায়।
কংগ্রেসের সঙ্গে ফ্লোর কো-অর্ডিনেশনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে তৃণমূল এক ঢিলে অনেকগুলি পাখি মারতে চাইছে। প্রথমত, আপাতত খাস ফুল শিবির চাইছে রাজ্যে রাজ্যে কংগ্রেস ভাঙানোর কাজ চালিয়ে যেতে।

দ্বিতীয়ত, তারা কংগ্রেস বিরোধী দলগুলিকে নিজেদের দিকে টানতে চাইছে। যাতে লোকসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলই হতে পারে বিজেপি বিরোধী জোটের প্রধান মুখ।

তৃতীয়ত, তৃণমূলের এজেন্ডা পৃথক। তারা ত্রিপুরা নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে জাতীয় স্তরে সরব হতে চায়। ইতিমধ্যেই ত্রিপুরার পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করে বাংলার শাসক দল জাতীয় রাজনীতিতে প্রচারের আলো অনেকটাই দখল করে নিতে পেরেছে। দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অফিসের সামনে ধর্নায় বসে। চাপের মুখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তৃণমূল সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক করে ত্রিপুরায় সন্ত্রাস বন্ধের আশ্বাস দেন। মুখ্যমন্ত্রী কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে।

কিন্তু তারপরও বিপ্লব দেবের রাজ্যে ভোট-সন্ত্রাসের অভিযোগে বিরোধীরা সরব। তৃণমূল চাইছে, এই বিষয়ে পৃথকভাবে সরব হতে। সেই কারণেও তারা আপাতত সংসদে কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও ধরনের বোঝাপড়ায় যেতে নারাজ।

You might also like