Latest News

রণক্ষেত্র ভাটপাড়া, নেতাজির গলায় মালা দেওয়া নিয়ে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোট, পুজো, শীত, গরম—ভাটপাড়া আছে ভাটপাড়াতেই। রবিবার নেতাজি জয়ন্তীর সকালে ফের তেতে উঠল উত্তর ২৪ পরগনার এই জনপদ। নেতাজির গলায় কারা আগে মালা দেবে, তৃণমূল না বিজেপি, সেই নিয়ে সংঘাত এমন জায়গায় পৌঁছল যে নামাতে হল র‍্যাফ। ব্যারাকপুর কমিশনারেটের বিরাট বাহিনী পৌঁছেছে এলাকায়।

তারপরেও দফায় দফায় সংঘর্ষ হচ্ছে দু’পক্ষের। সকাল ১১টার খবর, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। পুলিশ কার্যত হিমশিম খাচ্ছে। বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং বনাম ভাটপাড়ার পুরপ্রশাসক গোপাল রাউতের বাহিনীর সম্মুখ সমর চলছে ভাটপাড়ার রাস্তায়। অনেকে মনে করছেন, সুভাষ বসুকে নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত যে ভাবে এগিয়েছে তারই রেশ এদিনের ভাটপাড়ার ঘটনা।

তৃণমূলের দাবি, তাদের আগে থেকেই কর্মসূচি ছিল গোপাল রাউত এসে জাতীয় পতাকা তুলবেন এবং নেতাজির মূর্তিতে মালা দেবেন। কিন্তু তৃণমূল পৌঁছনোর আগেই সেখানে পৌঁছে যান অর্জুন। রয়েছেন তাঁর ছেলে তথা ভাটপাড়ার বিধায়ক পবন সিংও। তৃণমূলের এক নেতা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, অশান্তি করবে বলেই অর্জুন বাহিনী এই পরিকল্পনা করেছে।

পাল্টা অর্জুন শিবিরের দাবি, নেতাজির উপর দখল কায়েম করতে চাইছে তৃণমূল। একজন সাংসদকে মালা দিতে দেওয়া হচ্ছে না। অশান্তি ওরাই পাকিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দু’পক্ষের সংঘর্ষে বোমাবাজিও হয়েছে। তৃণমূলের এক নেতার দাবি, গুলিও চালিয়েছে অর্জুনের লোকজন। তবে পুলিশ এখনও গুলি চলার বিষয় নিশ্চিত করে বলেনি।

২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকেই ভাটপাড়া বারবার সংবাদ শিরোনামে এসেছে। অস্ত্রের ঝনঝনানি, মানুষের মৃত্যু, গোষ্ঠী সংঘর্ষ, বাড়িঘর লুঠ, আগুন—কিছুই বাদ যায়নি জগদ্দল, ভাটপাড়া, কাকিনাড়া অঞ্চলে। সেই সময়ে এমন পরিস্থিতি হয়েছিল যে তৎকালীন রাজ্য পুলিশের ডিজি সি বীরেন্দ্রকে মাঝ পথ থেকে গাড়ি ঘুরিয়ে কলকাতায় ফিরে আসতে হয়েছিল। তিনি ঢুকতেই পারেননি ভাটপাড়ায়।

ভাটপাড়ার বর্তমান পুরপ্রশাসক গোপাল রাউত একসময় ছিলেন অর্জুন সিংয়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। কিন্তু অর্জুন গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়ার পর, সাংসদ হওয়ার পর এই এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণটাই বদলে গিয়েছে। এলাকার দখল কার হাতে থাকবে তা নিয়ে সংঘাত কার্যত রুটিনে পরিণত হয়েছে। তা ছাড়া ভাটপাড়ায় যে কোনও ঘটনা হলেই যে ভাবে অস্ত্র বেরিয়ে পরে তাতে অনেকেরই বক্তব্য, বারুদের স্তূপের উপর রয়েছে এই এলাকা। গত কয়েক বছরে একাধিকবার ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার বদলেও ভাটপাড়াকে শান্ত করা যায়নি। এদিন নেতাজি জয়ন্তীতেও সংঘাতের বাতাবরণ তৈরি হল ভাটপাড়ায়।

You might also like