
এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেট চার্জশিটে বলেছে, কাউকে ঠকিয়ে টাকা নিয়ে প্রমাণপত্র বেমালুম লোপাট করে দিতেন পাউলোস। সুকেশ বন্দি হয়েছেন শুনেই তিনি স্বামীর সব কুকীর্তির নমুনা লোপাট করে দেন। ইডি-র প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্বামীর টাকা তছরুপের ব্যাপারে কিছুই জানতেন না। সুকেশের অপরাধের কথা যাতে ফাঁস না হয়, সেজন্য তার তিন সঙ্গী অরুণ মুথু, আনন্দ মূর্তি এবং জগদীশকে হুমকি দিয়েছিলেন পাউলোস।
সম্প্রতি ওই মামলায় পিঙ্কি ইরানি নামে এক মহিলা গ্রেফতার হয়েছেন। তিনিই বলিউডের অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্ডেজের সঙ্গে সুকেশের আলাপ করিয়ে দেন। সুকেশ ও ইরানিকে আলাদা করে জেলে জেরা করা হয়েছে। এর আগে অভিনেত্রীকেও ২০০ কোটি টাকা প্রতারণার মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করে ইডি। নোরা ফাতেহি নামে এক অভিনেত্রীকেও প্রশ্ন করা হয়। ইডির ধারণা, আরও অনেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে টাকা তছরুপের সঙ্গে জড়িত ছিল। তাদেরও সন্ধান চলছে।
ইডির ধারণা, তছরুপ হওয়া অর্থ বিদেশে বিনিয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে। সম্ভবত চন্দ্রশেখরই ওই বিনিয়োগ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ২১ টি মামলা আছে। অদিতি সিং নামে এক মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে ইডি সুকেশের বিরুদ্ধে এফআইআর করে। অদিতির স্বামী শিবিন্দর মোহন সিং ছিলেন রেলিগেট এন্টারপ্রাইজেসের মালিক। টাকা তছরুপের দায়ে ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে তিনি গ্রেফতার হন।
অভিযোগ, সুকেশ ও তাঁর সঙ্গীরা সরকারি অফিসার সেজে অদিতিকে ঠকিয়েছিলেন। তাঁরা আশ্বাস দিয়েছিলেন, টাকার বিনিময়ে শিবিন্দরকে জামিন পাইয়ে দেবেন। জেল থেকেই অদিতিকে ফোন করতেন সুকেশ। তাঁকে টাকা দিতে বলতেন। টাকা তছরুপের দায়ে গত সেপ্টেম্বরে সুকেশ ও পাউলোস গত সেপ্টেম্বরে গ্রেফতার হন। ওই মামলায় দিল্লি পুলিশ এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করেছে ১৩ জনকে। ইডির ধারণা, জেল থেকেই আরও অনেককে ঠকিয়েছেন সুকেশ।
গত অক্টোবরে ইডি চেন্নাইতে চন্দ্রশেখরের বাংলোয় তল্লাশি চালায়। সেখানে মোট ১৬ টি বিলাসবহুল গাড়ি পাওয়া যায়।