Latest News

নেতাজি স্মরণ নিয়ে রাজ্যের কমিটির বছর পেরোতে চলল, বৈঠক একবার, সরব বিরোধীরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো:‌ নেতাজির ট্যাবলো নিয়ে রাজ্য–কেন্দ্র টানাপোড়েনের মধ্যে নতুন বিতর্ক!‌ বিরোধীদের প্রশ্ন, নেতাজির ট্যাবলো বাতিল নিয়ে এত কথা, অথচ সুভাষচন্দ্র বসু স্মরণ নিয়ে রাজ্যের তৈরি করা কমিটি কোথায়, কোথায় ঘোষণার বাস্তবায়ন‌?‌

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী পালনের জন্যে গতবছর বিশেষ কমিটি গড়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিটির চেয়ারপার্সন হয়েছিলেন তিনি নিজেই। কমিটির সদস্য ছিলেন দুই নোবেলজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন ও অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছিলেন সুগত বসু, নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ি, যোগেন চৌধুরী, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, জয় গোস্বামী, সুবোধ সরকার প্রমুখ। তখন মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘‌নেতাজির ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গোটা বছর ধরে অনুষ্ঠানের দায়িত্ব নেবে ওই বিশেষ কমিটি।’‌

বিরোধীদের দাবি, ঘোষণা হয়েছিল রাজ্যে নেতাজির নামে তৈরি হবে বিশ্ববিদ্যালয়। বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ থাকবে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের। রাজারহাটে তৈরি হবে আজাদহিন্দ ফৌজের নামাঙ্কিত সৌধ। কিন্তু তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি।

জানা গেছে, নবান্নে ওই কমিটির প্রথম বৈঠক হয়েছিল গতবছর জানুয়ারিতে। তবে বছর ঘুরে গেলেও আর একটিও বৈঠক হয়নি। বিজেপির প্রশ্ন, নেতাজি নিয়ে রাজ্যের তৈরি কমিটিই নিস্ক্রিয়। অথচ মুখ্যমন্ত্রী নেতাজির ট্যাবলো বাতিল নিয়ে সরব হয়েছেন। তাঁদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী আসলে কথায় কথায় কমিটি তৈরি করেন। কিন্তু কোনও কাজ হয়না।

 

বিষয়টিতে সুজন চক্রবর্তী দ্য ওয়ালকে জানান, গতবছর কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারই দুটো ঢাউস উদযাপন কমিটি ঘোষণা করেছিল। কোনও কমিটিই সভা ও কর্মসূচী নেয়নি। ১২৫তম জন্মদিনে নেতাজি স্মরণে নাকি ভোটের অঙ্ক কষা?‌ ২৩ জানুয়ারি ‘‌দেশপ্রেম দিবস’‌ পালনের ব্যবস্থা না করে শুধুই ভাষণবাজি–মাননীয়া?‌ এই একই কথা লিখে তিনি একটি টুইটও করেছেন।

বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘‌আমিও বিষয়টিতে টুইট করেছি। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমার অনুরোধ নেতাজিকে নিয়ে সঙ্কীর্ণ রাজনীতি করবেন না। আগে নিজের দেওয়া ঘোষণাগুলি পূরণ করুন। ট্যাবলো নিয়ে রাজনীতি করবেন না।’‌ গতবছর ২৩ জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টুইট করেছিলেন নেতাজির নামে বিশ্ববিদ্যালয় ও আজাদ হিন্দ ফৌজের নামে স্মারকের কথা। সেই টুইটকে রিটুইট করে ওই কথাগুলিই লিখেছেন অগ্নিমিত্রা।

 

বিষয়টিতে ওই কমিটির সদস্য নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ির সঙ্গে দ্য ওয়ালের তরফে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘‌গতবছর বৈঠক হয়েছিল। তারপর আর বৈঠক হয়নি। এই ২৩ জানুয়ারি অন্য সদস্যদের সঙ্গে দেখা হবে’। সুগত বসুও জানিয়েছেন, হ্যাঁ শেষ বৈঠক হয়েছিল, গতবছর জানুয়ারিতে।

উল্লেখ্য, সাধারণতন্ত্র দিবসে নেতাজির ওপর পশ্চিমবঙ্গের একটি ট্যাবলো দিল্লির কুচকাআওয়াজে অংশ নেওয়ার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তা বাতিল করে কেন্দ্র। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। চিঠি লেখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। চিঠিতে কেন্দ্রের আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি লেখেন, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে তিনি মর্মাহত। কোনও কারণ না দেখিয়েই বাংলার ট্যাবলো বাতিল করা হয়েছে। স্বাধীনতার ৭৫তম বর্ষে এই ট্যাবলোর তালিকায় বাংলার অংশগ্রহণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার জন্যও আবেদন করেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের বিরোধীদলগুলির দাবি, নেতাজিকে নিয়ে রাজনীতি করছেন মমতা। না হলে তাঁর তৈরি করে দেওয়া কমিটি কোথায়?‌ নেতাজিকে শ্রদ্ধা জানানোর সদিচ্ছা থাকলে কমিটি একবছরে একটিও কর্মসূচী ঘোষণা করল না কেন?

You might also like