Latest News

মানিকের মেয়ে আমবাগান কিনেছিলেন কীভাবে, সেই গল্পও চার্জশিটে লিখেছে ইডি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনুব্রত মণ্ডল হোক বা মানিক ভট্টাচার্য—গত মাসখানেক ধরে দেখা যাচ্ছে দুর্নীতি মামলায় (TET SCAM) এঁদের মেয়ে-পরিবারকে নিয়েও টানাটানি হচ্ছে। কেন্দ্রীয় এজেন্সির (CBI , ED) তদন্তে এটাই উঠে আসছে যে বেআইনি ভাবে অর্জিত অর্থ পরিবার ও ছেলেমেয়েদের নামে রাখতে গিয়েই এ ভাবে সুকন্যা-স্বাতীদের (Sukanya Mondal, Swati Bhattacharya) বিপদের মুখে ফেলে দিয়েছেন অনুব্রত ও মানিক (Anubrata Mondal Manik Bhattacharya)। বাবা হয়ে মেয়েকে এমন সংকটে ফেলেছেন যে সিবিআই-ইডি দফতরে তাঁদের ছুটতে হচ্ছে। সমাজের সামনে দাঁড়ানোও মুশকিল হয়ে পড়ছে তাঁদের।

অনুব্রত মণ্ডলের মেয়ে সুকন্যা মণ্ডলের নামে অগাধ সম্পত্তি। খাতায় কলমে দেখা যাচ্ছে কোটি কোটি টাকার জমি বাড়ি রয়েছে সুকন্যার নামে। সেই সঙ্গে ব্যাঙ্কে গচ্ছিত রয়েছে বহু কোটি টাকা। আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী প্রাথমিক স্কুল শিক্ষিকা সুকন্যার বার্ষিক আয় ছিল এক থেকে দেড় কোটি টাকা।

সুকন্যার মতো স্বাতী তত ধনী নন। স্বাতী ভট্টাচার্য হলেন মানিক ভট্টাচার্যের মেয়ে। এনফোর্সেমেন্ট ডিরেক্টরেট তথা ইডি চার্জশিটে জানিয়েছে, স্বাতী নদিয়ায় আম বাগান (Mango Orchard) কিনেছিলেন। নদিয়ার ঘরাইক্ষেত্রে সেই আমবাগান কিনেছিলেন ৭ লক্ষ টাকা দিয়ে। তার মধ্যে ৪ লক্ষ টাকা তাঁকে নগদে দিয়েছিলেন তাঁর বাবা মানিক ভট্টাচার্য। কিন্তু গল্প ও বিস্ময় এখানেই থেমে নেই।

মানিকই ঝুটো করে দিয়েছিলেন হীরা-পান্নাকে, চার্জশিটে জানাল ইডি

তার আগে স্বাতী ভট্টাচার্য ও তাঁর স্বামী দত্তাত্রেয় বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় রাসবিহারী অ্যাভেনিউতে একটা ফ্ল্যাট কিনেছিলেন। স্বাতীর আমবাগান কেনার টাকা থাকলেও ফ্ল্যাট কিনতে টাকা কম পড়ে। সেই সময়ে তাঁর কাকা হীরালাল ভট্টাচার্য তাঁদের ১৫ লক্ষ টাকা উপহার দেন। কাকা গোল্ড লোন তথা সোনা বন্ধক রেখে সেই টাকা দিয়েছিলেন তাঁর ভাইঝিকে।

এ পর্যন্ত শুনে মনে হতেই পারে যে এমন কাকা ক’জনের ভাগ্যে জোটে। তবে ইডি তদন্ত করে জানতে পেরেছে যে সেই টাকা আসলে মানিকেরই। তা ঘুরপথে মেয়ের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দিয়েছিলেন মানিক ভট্টাচার্য।
কিন্তু এর পরেও নাকি ফ্ল্যাট কিনতে গিয়ে বিশ লাখ টাকা কম পড়ে। তখন স্বাতীকে তাঁর ভাই তথা মানিকের ছেলে সৌভিক ভট্টাচার্য এক জন ভদ্রলোকের কাছে নিয়ে যান। তাঁর নাম যশোদেব চৌধুরী। সরসীবালা দেবী ট্রাস্টের তখন ম্যানেজিং ট্রাস্টি ছিলেন তিনি। মানিকের এই ঘনিষ্ঠ স্বাতীকে ২০ লক্ষ টাকার চেক দিয়েছিলেন। তবে দুর্ভাগ্যবশত তা বাউন্স করে।

এখানেই শেষ নয়, আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কে নগদ জমা নিয়েও মানিকের জামাইকে জেরা করেছে ইডি। কখনও বারাসত কখনও বা সাঁইথিয়া থেকে ওই অ্যাকাউন্টে নগদ টাকা জমা পড়েছিল। আবার তাপস মণ্ডল ওই অ্যাকাউন্টে একবার ৪৬ হাজার টাকা ট্রান্সফার করেন। মা দুর্গা ইলেকট্রনিক্স থেকেও ওই অ্যাকাউন্টে একবার ৬০ হাজার টাকা জমা পড়ে। তবে এ সবের ব্যাখ্যা নাকি দিতে পারেননি মানিকের জামাই বা দত্তাত্রেয়র বাবা দিলীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

পার্থ বিএড কলেজের ছাড়পত্রের জন্য নিতেন ৮ লক্ষ, মানিক নিতেন ৫ লক্ষ: চার্জশিটে ইডি

You might also like