Latest News

কমছে সংক্রমণ, তেলঙ্গানায় উঠে যাচ্ছে লকডাউন, থাকছে না কোনও বিধিনিষেধও

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ‘রাজ্য বিধানসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, লকডাউন পুরোপুরি তুলে নেওয়া হবে।’ শনিবার ফেসবুকে এমনই জানিয়েছে তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রীর অফিস। এদিন সকালে জানা যায়, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ১৪০০ জন। মারা গিয়েছেন ১২ জন। রাজ্যে এখন পজিটিভিটি রেট ১.১৪ শতাংশ।

এর পরেই রাজ্যের মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নেয়, লকডাউন পুরোপুরি তুলে নেওয়া হবে। সরকারের বিভিন্ন দফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়, লকডাউনের সময় যেসব বিধিনেষেধ আরোপ করা হয়েছিল, সেসবই আর কার্যকরী হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর অফিস থেকে বলা হয়েছে, রাজ্যে সংক্রমণ কমেছে। পজিটিভিটি রেটও এখন যথেষ্ট কম। আমরা করোনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি।

বিশেষজ্ঞরা যখন অতিমহামারীর তৃতীয় ওয়েভ নিয়ে বারবার সতর্ক করে দিচ্ছেন, তখন তেলঙ্গানা সরকার বিধিনিষেধ পুরোপুরি তুলে নেওয়ায় অবাক হয়েছেন অনেকে। এদিনই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব অজয় ভাল্লা রাজ্যগুলিকে চিঠি দিয়ে বলেছেন, কোভিড সংক্রমণ কমলেও রাশ আলগা করা চলবে না। সংক্রমণ কার্ভ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কী কী করা দরকার তা নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রসচিব। তিনি বলেছেন, কোভিড রুখতে ‘পাঁচ স্ট্র্যাটেজি’ মেনে চলতে হবে—কোভিড নিয়ে সচেতনতা, করোনা পরীক্ষা (টেস্ট), কনট্যাক্ট ট্রেসিং (ট্র্যাক), চিকিৎসা (ট্রিটমেন্ট) ও টিকাকরণ। ভিড় ও জমায়েতে লাগাম টানতে হবে সবচেয়ে আগে। তাছাড়া হাত ধোওয়া, পারস্পরিক দূরত্ব, মাস্ক পরা এগুলো ঠিকঠাকভাবে হচ্ছে কিনা তা খেয়াল রাখতে হবে। কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ের পরে তৃতীয় ঢেউ আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তাই সতর্কতা ও সচেতনতা সবদিক দিয়েই দরকার।

করোনা পরীক্ষা আরও বাড়াতে হবে। দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা কমলেও কোভিড টেস্ট কমিয়ে দিলে চলবে না। বস্তুত, কোভিড পরীক্ষার মাধ্যমেই দ্রুত সিম্পটোমেটিক ও অ্যাসিম্পটোমেটিক বা উপসর্গহীন রোগীদের শনাক্ত করা যায়। প্রয়োজন হলে প্রতিটি কনটেইনমেন্ট জ়োনকে সংক্রমণের নিরিখে আরও ছোট ছোট এলাকা বা মাইক্রো-কনটেইনমেন্ট জ়োনে ভাগ করতে হবে। মাইক্রো-কনটেইনমেন্ট এলাকাগুলিতে আরও বেশি কোভিড টেস্ট ও কনট্যাক্ট ট্রেসিং করতে হবে।

এর মধ্যে এইমসের প্রধান রণদীপ গুলেরিয়া বলেছেন, দেশে সংক্রমণের হার যেভাবে বেড়েছিল তাতে কোভিডের ‘থার্ড ওয়েভ’ অনিবার্য। আগামী ৬-৮ সপ্তাহের মধ্যেই আছড়ে পড়তে পারে।

করোনা সংক্রমণ নিয়ে মানুষের সচেতনতার অভাবই এই বিপর্যয়ের কারণ বলে ব্যাখ্যা করেছেন এইমস প্রধান। তাঁর বক্তব্য, আনলক পর্যায়ে কোভিড নিয়ে গা ছাড়া মনোভাব ছিল বেশিরভাগ মানুষেরই। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া কোভিড গাইডলাইন মেনে চলা হয়নি বেশিরভাগ জায়গাতেই। উৎসব-অনুষ্ঠানও চলেছে দেদার। এইসব কারণেই সংক্রমণ বেশি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। করোনার একাধিক নতুন প্রজাতিও ছড়িয়ে পড়েছে দেশে। গুলেরিয়া বলছেন, কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ থামলেও তৃতীয় ঢেউ আসবেই। তার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত হতে হবে।

You might also like