Latest News

ড্রোন থেকে দেখা গেল মাওবাদীদের গতিবিধি, টহলদারি বাড়াচ্ছে পুলিশ

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত কয়েকদিনে মোট তিনবার ছত্তিশগড় থেকে তেলঙ্গানায় ঢুকেছে মাওবাদীরা। পুলিশের ধারণা, ছত্তিসগড় সীমান্তে তেলঙ্গানার ভদ্রাদ্রি-কোথাগুদাম জেলায় তারা নতুন করে ঘাঁটি বানানোর চেষ্টা করছে। এর পরেই ওই জেলার নানা এলাকায় পুলিশের টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, গত কয়েকদিনের মধ্যে তারা তিনবার ছত্তিসগড় পেরিয়ে তেলঙ্গানায় ঢুকেছে। নানা জায়গায় গ্রামবাসীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে।

পুলিশ জানতে পেরেছে, মাওবাদী পার্টির যে তেলুগুভাষী ক্যাডাররা ছত্তিসগড়ে কাজ করছে, তাদের সঙ্গে স্থানীয় কর্মীদের শুরু হয়েছে গোলমাল। তেলুগুভাষী ক্যাডারদের তাই তেলঙ্গানায় ও অন্ধ্রপ্রদেশের ইস্ট গোদাবরী জেলায় ফিরে যেতে বলা হয়েছে।

গত এক মাসে ছত্তিসগড়ে ও মহারাষ্ট্রে নিহত হয়েছে আট মাওবাদী। বুধবার রাতে ভদ্রাদ্রি-কোথাগুদেম জেলার চেন্নাপুরম অরণ্যে তিন মাওবাদীকে গুলি করে মারা হয়। তাদের মধ্যে দু’জন মহিলা। জেলার পুলিশ সুপার সুনীল দত্ত বলেন, বুধবার বিকালে চিরুনি তল্লাশি চালানোর সময় পুলিশের সঙ্গে মাওবাদীদের গুলিবিনিময় হয়। তখনই তিন মাওবাদী মারা যায়। কয়েকজন পালায়।

কিছুদিন আগে কোমারাম ভীম আসিফাবাদ জেলায় নকশালদের গতিবিধি লক্ষ করা যায়। সেখানে দুই মাওবাদী পুলিশের গুলিতে মারা পড়ে। ৩ সেপ্টেম্বর ভদ্রাদ্রি কোথাগুদেম জেলায় আর এক মাওবাদী পুলিশের গুলিতে মারা যায়। মাওবাদী দল থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, পুলিশ ভুয়ো সংঘর্ষে তাদের দলের কয়েকজনকে হত্যা করেছে।

কিছুদিন আগে জানা যায়, মাওবাদীদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা বাংলার জঙ্গলমহলে নিয়মিত আসছেন। গত জুলাই মাসে সিপিআই মাওবাদীর পলিটব্যুরোর বৈঠক হয় ঘাটশিলায়। সেখানেই ঠিক হয়, বাংলার জঙ্গলমহলে ভেঙে পড়া সংগঠনকে ফের ঘুরে দাঁড় করাতে সর্ব শক্তি দিয়ে সংগঠন প্রসারের কাজ করবে তারা। এখবর গোয়েন্দাদের কাছেও রয়েছে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে ওড়িশার জঙ্গলে চার মাওবাদীকে নিকেশ করে স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ তথা এসওজি। মাওবাদীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জখম হয়েছেন এক জওয়ানও।

ওড়িশা পুলিশের তরফে বলা হয়েছে, এসওজি জওয়ানদের কাছে গোপন সূত্রে খবর আসে যে, নির্দিষ্ট একটি জায়গায় জড়ো হয়েছে মাওবাদী স্কোয়াডের সদস্যরা। তারপরই সেখানে যৌথ অপারেশন চালায় এসওজি ও ডিস্ট্রিক্ট ভলান্টিয়ারি ফোর্স। প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে চলে দু’পক্ষের গুলি বিনিময়।

যেহেতু জায়গাটি অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার সীমান্ত এলাকা তাই অন্ধ্র প্রশাসনকেও সতর্ক করা হয়েছে। বেশ কয়েক জন মাওবাদী স্কোয়াড সদস্য জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে ওই দিকেই পালিয়েছে বলে.সন্দেহ গোয়েন্দাদের।

ওড়িশা পুলিশের তরফে বলা হয়েছে, গত চার মাস ধরে নতুন নতুন এলাকায় গতিবিধি বাড়িয়েছে মাওবাদীরা। নবীন পট্টনায়েক সরকারের পুলিশ জানাচ্ছে, গেরিলা মোকাবিলায় তারা সদা তৎপর।

You might also like