Latest News

শাশুড়ি রাবড়িকে সাক্ষী রেখে লালুর পুত্র-পুত্রবধূকে বিবাদ মিটিয়ে নিতে বলল হাইকোর্ট

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কী নিয়ে বিবাদ সেটাই স্পষ্ট হচ্ছে না আদালতের কাছে। পারিবারিক আদালতও বলেছিল, ডিভোর্সের (Tejpratap Yadav Devorce Case) মামলার কোনও গ্রাউন্ড খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁরা বলেছেন, ইগো ছেড়ে একসঙ্গে থাকার চেষ্টা করুন। সেই রায় পছন্দ হয়নি পাত্রের। তিনি আবেদন করেন হাইকোর্টে। সাফ কথা, এই মহিলার সঙ্গে ঘর করা যায় না।

মামলাকারী তেজপ্রতাপ যাদব (Tejpratap Yadav Devorce Case) যে সে লোক নন। বিধায়ক, বিহারের প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দম্পতি লালু প্রসাদ যাদব ও রাবড়ি দেবীর বড় ছেলে।

কম যান না তাঁর স্ত্রী ঐশ্বর্যা রাইও। তিনিও বিহারের আরেক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দারোগা প্রসাদ সিংয়ের নাতনি। বাবা চন্দ্রিকা প্রসাদ রাই জনতা দল ইউনাইটেডের প্রথমসারির নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী। এখন যেমন নীতীশ কুমারের ছায়া সঙ্গী, তেমনই একটা সময় ছিলেন লালুপ্রসাদের অভিন্ন হৃদয় বন্ধু ও রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা। সেই সূত্রেই দুই যাদব পরিবারের মধ্যে বিবাহের সম্পর্ক হয়েছিল। যেমন লালু প্রসাদ তাঁর মেজো মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন মুলায়ম সিংয়ের এক নাতির সঙ্গে। বিহারে রাই পদবীধারীরা হলেন জাতিতে যাদব।

আরও পড়ুন: বিজনেস টাইকুন পালোনজি মিস্ত্রি প্রয়াত, রইল কিংবদন্তি সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য

২০১৮- র মে মাসে তেজপ্রতাপ-ঐশ্বর্যার বিয়ে ছিল পাটনায় এক মেগা ইভেন্ট। কিন্তু ছয় মাসও ঠিকঠাক কাটেনি সম্পর্ক। শাশুড়ি রাবড়ি দেবী, ননদ মিসা ভারতী, স্বামী তেজপ্রতাপের বিরুদ্ধে থানায় গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ দায়ের করেন ঐশ্বর্যা। পাল্টা অভিযোগ করেন রাবড়ি। অন্যদিকে পরিবার আদালতে বিচ্ছেদের মামলা ঠুকে দেন তেজপ্রতাপ। থানা পুলিশ হওয়া, শেষে মিডিয়ার ঝাঁপিয়ে পড়ার পর একদিন লালু-রাবড়ির বাংলো ছেড়ে বেরিয়ে যান ঐশ্বর্যা। সেই থেকে বাপের বাড়িতে থাকেন তিনি।

কেন বিচ্ছেদ চাইছেন তেজপ্রতাপ? শাশুড়ি রাবড়ি দেবী, ননদ মিসা যে তাঁকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে তার কোনও প্রমাণ দাখিল করতে পারেননি ঐশ্বর্যা। অন্যদিকে, তেজপ্রতাপও জোরালো যুক্তি ও প্রমাণ দাখিল করতে পারেননি যে কেন সম্পর্ক ভেঙে দিতে চান।

আজ হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের শুনানিতে তেজপ্রতাপ ও ঐশ্বর্যা উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন রাবড়িদেবী এবং চন্দ্রিকা রাইও। দু’পক্ষের সঙ্গে একান্তে কথা বলে হাইকোর্ট জানায়, আদালত এই ডিভোর্সে সায় দিচ্ছে না। বরং সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার পক্ষে। আদালত তেজপ্রতাপ ও ঐশ্বর্যাকে বলে মুখোমুখি বসে বিবাদ মিটিয়ে নিন।

আরও পড়ুন: দারোয়ানের সঙ্গে দুর্ব্যবহার! ছেলেকে কড়া শাসন করেন মুকেশ আম্বানি, চিরকাল মাটিতেই পা তাঁর

জানা যাচ্ছে, লালু-রাবড়ির পুত্র ও পুত্রবধূর বিরোধ এবং তাতে দুই পরিবারের জড়িয়ে পড়ার পিছনে আছে তাদের রাজনৈতিক ওজন নিয়ে ইগোর লড়াই। তেজপ্রতাপের খামখেয়ালিপনা এবং যাঁকে যা নয় তাই বলার দুর্নাম আছে। লালুপ্রসাদ বড় ছেলের উপর তেমন নির্ভর করেন না। রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী হিসাবে বেছে নিয়েছেন ছোট ছেলে তেজস্বীকে। তা নিয়ে পারিবারিক বিবাদ এবং দুই ভাইয়ের বিগত কয়েক বছর যাবৎ মুখ দেখাদেখি বন্ধ। কিন্তু তাতে কী! স্ত্রীকে তাঁদের পারিবারিক, রাজনৈতিক ওজন নিয়ে গঞ্জনা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ আছে তেজপ্রতাপের বিরুদ্ধে। পাল্টা শুনিয়েছেন ঐশ্বর্যাও। ফলে বিবাদের মূলে ইগোর লড়াই। তাতে জড়িয়ে পড়েছে দুই পরিবারও।

You might also like