Latest News

বাবার টিবি, একশো দিনের কাজে মেধাবী, চাঁদা তুলে উচ্চশিক্ষার খরচ চালাচ্ছেন স্কুলের শিক্ষকেরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো:‌ বিভিন্ন শংসাপত্র প্রত্যয়িত করতে স্কুলে গিয়েছিল মেধাবী ছাত্রটি (Student)। তখন পড়াশুনোর খোঁজখবর নিচ্ছিলেন শিক্ষকরা (Teachers)। বিষয়টি জানাজানি হয় তখন।

গতবছর থেকেই কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাইস্কুলের প্রাক্তনী, মেধাবী পড়ুয়া অনির্বাণের বাবা গোপাল চন্দ্র মাইতি টিবি আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। চিকিৎসা চলছে তাঁর। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিলেন তিনি। যেকারণে চণ্ডীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েও পড়াশোনায় ইতি টেনে ফিরে আসে পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার ওই তরুণ। বাবাকে সুস্থ্য করার পাশাপাশি পরিবারের হাল ধরতে একশো দিনের কাজ শুরু করে সে। পাশাপাশি কাজ নেয় একটি কারখানায়। সেইসঙ্গে শুরু হয় বিভিন্ন চাকরির চেষ্টা।

বঙ্গোপসাগরে ফের দানা বাঁধছে জোড়া ঘূর্ণাবর্ত, রবিবার থেকে বড় দুর্যোগের আশঙ্কা

আবেদনপত্রের সঙ্গে পরীক্ষার শংসাপত্রের কপিতে স্কুলের শিক্ষকদের দিয়ে প্রত্যায়িত করাতে স্কুলে গিয়েছিল সে। সেখানেই শিক্ষকরা তাঁর পরবর্তী পড়াশোনা নিয়ে জানতে চান। অনির্বাণ জানায় বাবার অসুখের কথা। তাঁর পড়াশোনার অনিশ্চয়তার কথা। এই পরিস্থিতিতে কী করবে সে, ভেবে কুল পাচ্ছিল না। শিক্ষকরা দেখতে পাচ্ছিলেন অনির্বাণের স্বপ্নভঙ্গের আশঙ্কা। যন্ত্রণাকাতর, মেধাবীর যন্ত্রণাকাতর মুখ।

বরাবর মেধাবী অনির্বাণ উচ্চমাধ্যমিকে ৯৩ শতাংশ নম্বর পেয়েছিল। মাধ্যমিকে ৮৫ শতাংশ। সমস্যার কথা শুনে শিক্ষকরা সিদ্ধান্ত নেন, মেধাবী পড়ুয়ার পাশে দাঁড়াবেন। চণ্ডীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে হোটেল ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়াশোনা করতে চায় অনির্বাণ। তাঁর কথায়, ‘ওখানে খরচ তুলনামূলকভাবে কম।’ ভর্তিও হয়েছিল তাই। বছরে পড়ার খরচ প্রায় দেড়লক্ষ টাকা। আচমকা ওই বিপর্যয়ের জন্য পড়া মাঝপতে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয় অভাবী পরিবারের অনির্বাণকে। তবে শিক্ষক–শিক্ষিকারা তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন, পড়াশোনা ছাড়তে হবে না তাঁর। টাকার ব্যবস্থা হয়ে যাবে।

শিক্ষকদের এভাবে পাশে দাঁড়ানোর আপ্লুত অনির্বাণ। তাঁর কথায়, ‘ওদের প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।’ ছেলের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে আর সমস্যা হবে না জেনে শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞ তাঁর পরিবারও।

ইতিমধ্যেই প্রথম সেমেস্টারের জন্য প্রয়োজনীয় ৫৪ হাজার টাকা সংগৃহ হয়েছে। বাকি টাকার জন্য বিভিন্নভাবে আবেদন করছেন শিক্ষকরা। নিজেরাই চাঁদা তুলে তহবিল তৈরি করেছেন। সাহায্যের আর্জি জানিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কাছে। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, তাঁদের মনে প্রশ্ন জেগেছিল, যদি এই রকম অসহায় অবস্থার মধ্যে তাঁদের পড়তে হত?‌ ছাত্রছাত্রীরা তো সন্তানতুল্যই। তাদের প্রতি কর্তব্যও তো আমরা অস্বীকার করতে পারি না। শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতাও অনুপ্রাণিত করেছে। সাহায্য করার জন্য তাঁরা অর্নিবাণের ব্যাঙ্কের বিবরণ দিয়েছেন।

নাম – অনির্বাণ মাইতি
স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া

শাখা–কৃষ্ণচন্দ্রপুর

অ্যাকাউন্ট নম্বর–
35019822669

আইএফএসসি কোড – SBIN0005735

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like