Latest News

Teacher : বঞ্চিতদের চাকরি দিতে অতিরিক্ত পদ, ভুয়ো নিয়োগের কী হবে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজ্য সরকার শিক্ষিক-অশিক্ষকের (Teacher) ৬৮৬১টি অতিরিক্ত পদে নিয়োগের যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে তা এককথায় নজিরবিহীন। ওই সব পদেই বিভিন্ন সময়ে মেধা তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও চাকরি থেকে বঞ্চিতদের নিয়োগ করা হবে।

শিক্ষা দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, (Teacher) নিয়োগ প্যানেলে ধাপের অদলবদলের কারণে গুরুতরভাবে বঞ্চিতদের জন্য এই পদগুলি তৈরি করা হয়েছে। অনিয়ম শব্দটি ব্যবহার না করলেও সরকার প্যানেলে ত্রুটির কথা এই প্রথম লিখিতভাবে মেনে নিল। সেই ত্রুটি সরকারের মৌখিক বয়ান অনুযায়ী কম্পিউটারের সফটওয়্যারের গোলযোগের কারণেই নাকি কোনও চক্র এর পিছনে কাজ করেছে, প্রভাবশালী কারও হাত তাতে ছিল কি না, সে সবই এখন খতিয়ে দেখা শুরু করেছে সিবিআই। সেই তদন্ত শুরুর মুখে রাজ্য সরকার অতিরিক্ত পদ তৈরি করে বঞ্চিতদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে দেওয়ার নির্দেশ দিল। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, আপাতত মুখ রক্ষার রাস্তায় হাঁটা শুরু করল রাজ্য সরকার।

সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কর্মশিক্ষা, শারীরশিক্ষা, নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক এবং গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি-পদে অপেক্ষমান তালিকায় থাকা প্রার্থীদের নিয়োগ করা হবে। এই সব পদের ক্ষেত্রেই মেধা তালিকার মেয়াদ ২০১৯-এর ১৮ নভেম্বর শেষ হয়ে গিয়েছিল। মামলায় মামলায় জেরবার হয়েই শেষ পর্যন্ত বঞ্চিত প্রার্থীদের চাকরি দিয়ে মেয়াদ উত্তীর্ণ মেধা তালিকাকে মান্যতা দেওয়া হচ্ছে।

কিন্তু ইতিমধ্যেই শিক্ষামহলে প্রশ্ন উঠেছে, বঞ্চিতদের জায়গায় যাদের বেআইনিভাবে নিয়োগ করা হয়েছে, তাদের কী হবে? নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে জানার পরও প্রশাসন কি হাত গুটিয়ে থাকবে?

শিক্ষা দফতরের এক আধিকারিকের কথায়, বিষয়টি জটিল। বেআইনি নিয়োগগুলি বাতিল করতে গেলে বহু স্কুলেই শিক্ষক-অশিক্ষকের অনেক পদ শূন্য হয়ে যাবে। তবে এই ব্যাপারে আদালত কোনও নির্দেশ দিলে তখন পদক্ষেপ করতেই হবে। যেমন গ্রুপ-ডি ও গ্রুপ-সি পদে নিয়োগে অনিয়মের প্রমাণ মেলায় হাইকোর্ট বেতন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। মামলায় শেষ পর্যন্ত আদালত যদি নিয়োগ অবৈধ বলে চূড়ান্ত রায় দেয়, তখন ওই সব কর্মীকে চাকরি থেকে বসিয়ে দেওয়া ছাড়া কোনও উপায় থাকবে না।

বৃহস্পতিবার রাতে যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে কর্মশিক্ষা ও শারীরশিক্ষার জন্য যথাক্রমে ৭৫০ ও ৮৫০টি অতিরিক্ত পদে নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। নবম ও দশম শ্রেণির জন্য ১৯৩২টি সহকারী শিক্ষক এবং একাদশ ও দ্বাদশের জন্য ২৪৭টি সরকারী শিক্ষকের অতিরিক্ত পদ তৈরি করেছে শিক্ষা দফতর। গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি পদের জন্য অতিরিক্ত পদ তৈরি করা হয়েছে যথাক্রমে ১১০২টি ও ১৯৮০টি।

আরও পড়ুন : Teachers Recruitment: এসএসসি কেলেঙ্কারি নিয়ে তোলপাড়ের মধ্যেই ৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি শিক্ষা দফতরের

You might also like