Latest News

Tapasi Malik CBI: ‘তাপসী বিচার পায়নি, হাঁসখালির মেয়েটিও পাবে না’, সিবিআই তদন্তে হতাশ সিঙ্গুরে ধর্ষিতার বাবা মনোরঞ্জন

শোভন চক্রবর্তী, সিঙ্গুর

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাঁসখালি ধর্ষণ মামলার তদন্তও সিবিআইয়ের হাতে দিয়েছে হাইকোর্ট। কারণ, আদালত জানিয়েছে, যে হেতু মূল অভিযুক্ত শাসক দলের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতার ছেলে, তাই তদন্তের নিরপেক্ষতার বিষয়ে মানুষকে আশ্বস্ত করতেই সিবিআইকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তাৎপর্যপূর্ণ হল, সিবিআই নিয়ে আদালত এতটা আস্থা দেখালেও, কেন্দ্রীয় এই তদন্ত এজেন্সি সম্পর্কে ভরসা উঠে গিয়েছে তাপসী মালিকের বাবা মনোরঞ্জন মালিকের (Tapasi Malik CBI)।

সিঙ্গুর স্টেশনের পাশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করে দেওয়া বুড়োশান্তি মাঠের দোকানে বসে বুধবার সকালে মনোরঞ্জন বললেন, “তাপসী কোনও বিচার পায়নি। এরাও (পড়ুন হাঁসখালির পরিবার) পাবে না।”

হাঁসখালি তদন্তে সিবিআই, ‘ওরা সর্বরোগহর নয়, নিরপেক্ষও নয়’: তৃণমূল

২০০৭-এর ১৮ ডিসেম্বর। সিঙ্গুরের কারখানা সংলগ্ন মাঠে তাপসীর অর্ধদগ্ধ দেহ উদ্ধার হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, সিপিএমের লোকজন তাপসীকে ধর্ষণ করে খুন করে দেয়। তারপর দেহ পুড়িয়ে দিয়ে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখন বিরোধীনেত্রী। বাংলার পাড়ায় পাড়ায় তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল তৃণমূল। তাপসীর ছবি টাঙিয়ে তার পাশে জুড়ে দেওয়া হয়েছিল তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ছবি। সিবিআই তদন্তের দাবিতে উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন মমতা। শেষমেশ সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিতে বাধ্য হয় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সরকার। সিবিআই গ্রেফতার করে স্থানীয় সিপিএম কর্মী দেবু মালিক ও তৎকালীন সিপিএমের সিঙ্গুর জোনাল সম্পাদক সুহৃদ দত্তকে।

সেই সুহৃদবাবু কার্যত শয্যাশায়ী। দেবুরও টিকি পাওয়া যায় না। এদিন তাপসীর বাবা বলেন, “১৫ বছর হয়ে গেল। কী করল সিবিআই? কিছু করতে পারল কি? আপনারাই বলুন না! আমি তো বিচার পেলাম না। মামলার নিষ্পত্তি হল কই?”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে তৃণমূলের প্রায় সব নেতাই এখন বলেন, সিবিআই সিবিআই করছেন, সিবিআই করছেটা কী? কই রবীন্দ্রনাথের নোবেলটা খুঁজে এনে দিক। তাপসী মালিকের মামলার কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তিনি মনে করেন, সিবিআই আসলে বছরের পর বছর পার করে দেয়। কিন্তু মামলার নিষ্পত্তি করে না।

Image - Tapasi Malik CBI: 'তাপসী বিচার পায়নি, হাঁসখালির মেয়েটিও পাবে না', সিবিআই তদন্তে হতাশ সিঙ্গুরে ধর্ষিতার বাবা মনোরঞ্জন
তাপসী মালিকের বাবা মনোরঞ্জন মালিক

মমতা রেলমন্ত্রী থাকাকালীন সিঙ্গুর স্টেশনের পাশে যে প্রকল্প করেছিলেন সেখানেই একটি দোকান ঘর দিয়েছিলেন তাপসীর বাবা মনোরঞ্জন মালিককে। মনোরঞ্জন সেখানে ইমিটেশনের গয়না বিক্রি করেন। খদ্দের না থাকলে সামনে একটা টুল পেতে বসেন। এদিন তাঁর দোকানে যেতেই দেখা গেল, একজন যুবকের সঙ্গে লটারির টিকিট নিয়ে কথা বলছিলেন। জিজ্ঞেস করতেই জবাব, “আমি কাটি না। পাশের দোকানের একজন নম্বর মেলাতে বলেছিল, তাই জিজ্ঞেস করছি!”

কথায় কথায় মনোরঞ্জন বললেন, “ভাল নেই। কারবারটাও ভাল চলে না। ওই চলে যাচ্ছে কোনওরকমে।” ২০১৮-র পঞ্চায়েত ভোটে এই মনোরঞ্জনই নির্দল হয়ে জেলা পরিষদ আসনে প্রার্থী হয়েছিল। তাঁর প্রতীক ছিল একটি চার চাকা গাড়ি। অনেকে সেই প্রতীকের সঙ্গে ন্যানোকে জুড়ে দিতে চেয়েছিলেন। সেইসময়ে শাসকদলের বিরুদ্ধে মনোরঞ্জনের ক্ষোভ ছিল বিরাট। দিদির উপরেও গোঁসা করেছিলেন তখন। কিন্তু এখন যেন সব ঠিকঠাক হয়ে গিয়েছে। পার্টি নিয়ে কথা তুলতেই বললেন, “এখন পার্টির রমরমা। আমি যা বুঝছি, এখন বেশ কয়েক বছর বাংলায় তৃণমূল ছাড়া অন্য কেউ তেমন কিছু করতে পারবে না।” তবে সিবিআই নিয়ে তাঁর যে আস্থা নেই তা স্পষ্ট করেই জানালেন মনোরঞ্জন।

হাঁসখালি কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘প্রেগন্যান্ট, লাভ অ্যাফেয়ার’ মন্তব্য নিয়ে বিতর্কের ঝড় বইছে। কিন্তু সেসব নিয়ে কিছু বললেন না মনোরঞ্জন। বললেন, “দিদির কথা নিয়ে আমি কিছু বলব না।”

You might also like