Latest News

তন্ময়রা সরলেন সিপিএমের সম্পাদকমণ্ডলীর স্থায়ী কেদারা থেকে, বিতর্কের কথা লিখেছিল একমাত্র দ্য ওয়াল

শোভন চক্রবর্তী ও কৌস্তভ ভৌমিক

বিতর্কে তুঙ্গে উঠেছিল সিপিএমে (CPM)। সেই বিতর্কের কথা গত ৬ জুন একমাত্র দ্য ওয়ালেই লেখা হয়েছিল। তবে সিপিএমের অনেকেই সন্ধিহান ছিলেন এই নিয়ে যে, উত্তর চব্বিশ পরগনার মতো নেতায় ঠাসা জেলার ক্ষেত্রে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট মেরুদণ্ড ঋজু রাখতে পারবে কি?

দেখা গেল, সার্কুলার বলবৎ করার ক্ষেত্রে কোনও রেয়াত করল না রাজ্য সিপিএম। রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের উপস্থিতিতে তন্ময় ভট্টাচার্য (Tanmoy Bhattacharya) ও বাবুল করের মতো দুই দাপুটে নেতাকে জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর স্থায়ী কেদারা থেকে সরিয়ে দেওয়া হল। তাঁদের সম্পাদকমণ্ডলীতে আমন্ত্রিত করে রাখা হয়েছে।

কী সার্কুলার করেছিল সিপিএম (CPM)?

রাজ্য সিপিএম এবার কড়া গাইডলাইন (Guideline) জারি করেছে। তাতে বলা হয়েছে, জেলা সম্পাদকমণ্ডলীতে তাঁরাই থাকতে পারবেন যাঁরা হোলটাইমার বা সর্বক্ষণের কর্মী। অবসর না নেওয়া পর্যন্ত চাকরি করেছেন, পেনশনভোগী বা ব্যবসা করেন—এমন নেতাদের জেলার নেতা করা যাবে না বলে সার্কুলার গিয়েছে কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ পর্যন্ত। সেখানে এও বলা হয়েছে, চাকরি করেন বা করতেন, কিংবা ব্যবসা করেন এমন নেতাদের যদি সম্পাদকমণ্ডলীতে নিতেও হয় তাহলে আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে রাখতে হবে। কিন্তু দেখা যায় উত্তর ২৪ পরগনায় সম্পাদকমণ্ডলী গঠনে সেসব বিধি কার্যত কর্পূরের মতো উবে গিয়েছে।

এখানে বলে রাখা ভাল, উত্তর ২৪ পরগনা সিপিএমের যিনি সম্পাদক সেই মৃণাল চক্রবর্তী নিজেই হোলটাইমার নন। তিনি একটি স্কুলে অশিক্ষক কর্মচারী হিসেবে চাকরি করতেন। সূত্রের খবর, তিনি পেনশন গ্রহণ করেন। জানা গিয়েছে, রাজ্য সিপিএমের বক্তব্য ছিল এই জেলায় জেলা সম্পাদককে ব্যতিক্রম হিসেবে গ্রাহ্য করা যেতে পারে। অন্যদের ক্ষেত্রে তা হবে না। বাস্তবে দেখা যায় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হয়েছেন এমন তিন নেতা যাঁরা নিজেদের যৌবন কমিউনিস্ট পার্টির জন্য উৎসর্গ করেননি। তাঁরা কারা? তন্ময় ভট্টাচার্য, বাবুল কর এবং আহমেদ আলি খান।

তন্ময় ইউকো ব্যাঙ্কে চাকরি করতেন। বাবুল কর পরিবহণ দফতরের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। জানা গিয়েছে মধ্যমগ্রামের নেতা আলি আহমেদ খানের নাকি পৈতৃক হাতপাখার ব্যবসা।

বৃহস্পতিবার জেলা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তন্ময় এবং বাবুলকে সম্পাদকমণ্ডলীর স্থায়ী জায়গা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের আমন্ত্রিত করেছে সিপিএম। সংখ্যালঘু কোটায় আলি আহমেদ খান সম্পাদকমণ্ডলীর স্থায়ী সদস্য হিসেবে রয়েছেন। যেমন কলকাতা জেলায় সংখ্যালঘু কোটায় সম্পাদকমণ্ডলীতে রয়েছেন ফৈয়াজ আহমেদ খান। তিনি পেশায় আইনজীবী।

তন্ময় এবং বাবুলের জায়গায় নেওয়া হয়েছে রাজু আহমেদ ও সত্যসেবী কর ওরফে হাবুলকে। এই নিয়ে আবার নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সত্যসেবী হাবড়ার প্রাক্তন বিধায়ক। একসময় ব্যাংকে চাকরি করতেন। তিনি আবার বাবুল করের ভাই। তাই দাদার জায়গায় ভাইকে নেওয়ায় অনেকেই কমিউনিস্ট পার্টিতে পরিবারতন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন। সম্পাদকমণ্ডলীর একটি ফাঁকা জায়গায় নেওয়া হয়েছে ঝন্টু মজুমদারকে। তিনি বেলঘরিয়া এলাকার নেতা।

সিপিএম সূত্রে এও জানা যাচ্ছে, হাবুল তথা সত্যসেবী কর অনেকদিন আগে চাকরি ছাড়লেও তিনি হোলটাইমার ছিলেন না। বুধবার তিনি হোলটাইমার হওয়ার ফর্ম ফিলআপ করেন। বুধে হোলটাইমার হয়ে বৃহস্পতিবার সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হওয়া নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে দলে।

সিপিএম সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার জেলা কমিটির বৈঠকের পর এ নিয়ে পার্টি অফিসেই বিনয়ের সঙ্গে ক্ষোভ জানিয়েছেন তন্ময়। জেলা কমিটির উদ্দেশে তিনি বলেছেন, রাজনীতিতে ইতি টানছেন তিনি।

এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানার জন্য বৃহস্পতিবার রাতে দ্য ওয়ালের তরফে তন্ময় ভট্টাচার্যকে ফোন করা হয়। সম্পাদকমণ্ডলীর স্থায়ী জায়গা থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং তাঁর সবিনয় ক্ষোভ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তন্ময় বলেন, “যে সূত্রে জেনেছেন তাঁদের গিয়ে জিজ্ঞেস করুন।” তাঁকে ফের জিজ্ঞাসা করা হয়, আপনার প্রতিক্রিয়া কী? জবাবে তিনি বলেন, “আমার কিছু বলার নেই।” বলেই ফোন কেটে দেন উত্তর দমদমের প্রাক্তন বিধায়ক।

সিপিএমের অনেকের মতে, এটা অনিবার্যই ছিল। তার কারণ কলকাতা জেলায় এই একই গাইডলাইনের জন্য দেবাঞ্জন চক্রবর্তী ও রাহুল ভট্টাচার্যকে সম্পাদকমণ্ডলীতে আমন্ত্রিত করা হয়েছে। হুগলিতে শ্রুতিনাথ প্রহরাজকে স্থায়ী সদস্য করার পরেও আমন্ত্রিত করা হয়েছে। উত্তর চব্বিশের ক্ষেত্রে তা বলবৎ না হলে দলের মধ্যেই প্রশ্ন উঠে যেত বলে অনেকের মত।

You might also like