Latest News

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস, লক্ষাধিক টাকা হাতানোর অভিযোগ, অভিযুক্ত তমলুকের চিকিৎসক

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব মেদিনীপুর: বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক কলেজ ছাত্রীর (college student) সঙ্গে সহবাস ও মিথ্যে কথা বলে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল তমলুকের (Tamluk) এক দন্ত চিকিৎসকের (dentist) বিরুদ্ধে। এছাড়াও, নির্যাতিতাকে ভুল বুঝিয়ে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে গিয়ে দালালদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা করারও অভিযোগ উঠেছে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।

নির্যাতিতা কলেজ ছাত্রী মহিষাদলের বাসিন্দা। গত ১৮ অক্টোবর এই বিষয়ে মহিষাদল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তমলুকের ওই দন্ত চিকিৎসকের কাছে নিজের দিদিমার চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন নির্যাতিতা। দিদিমার চেকআপের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসে ফের তাঁর কাছে যান ওই ছাত্রী। অভিযুক্ত চিকিৎসকের সঙ্গে তাঁর অল্প বিস্তর কথাও হয়। এরপর মার্চ মাসে চেক আপে গেলে অভিযুক্ত চিকিৎসক ও ছাত্রীর কাছ থেকে তাঁর মোবাইল নম্বর চেয়ে নেন।

এর পর থেকেই দিদিমার খোঁজ নেওয়ার অজুহাতে ওই চিকিৎসক বারবার নির্যাতিতাকে ফোন করতে থাকেন। ধীরে ধীরে দু’জনের মধ্যে কথোপকথন বাড়তে থাকে। প্রেমের সম্পর্কও গড়ে ওঠে তাঁদের মধ্যে। ওই ছাত্রীর বাড়ির লোকজনের সঙ্গেও অভিযুক্ত সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন বলে জানা গেছে। এরপর ওই ছাত্রীকে বিয়ে করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে একাধিকবার ঘনিষ্ঠ হন বলে জানিয়েছেন ওই কলেজ পড়ুয়া।

নির্যাতিতা ছাত্রীর দাবি, ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একাধিক ছবি এবং ভিডিও লুকিয়ে তুলে রেখেছিলেন ওই চিকিৎসক। পরে বিষয়টি জানতে পেরে ছাত্রীর পরিবার যখন বিয়ের জন্য ওই চিকিৎসকের বাবা-মার সঙ্গে কথা বলেন, তখন বিয়ে করতে অস্বীকার করেন তিনি। ওই ছাত্রী আরও জানিয়েছেন, প্রেমের সম্পর্কে থাকার সময় অভিযুক্ত চিকিৎসক একাধিকবার চেম্বারের অত্যাধুনিক সরঞ্জাম কেনার নাম করে তাঁর কাছে টাকা চেয়েছেন। ‘প্রেমিক’কে বিশ্বাস করে তিনি এ পর্যন্ত লক্ষাধিক টাকা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

ছাত্রীর আরও অভিযোগ, গল্প করার নাম করে গত ৫ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত চিকিৎসক গেঁওখালি জল প্রকল্পের কাছে এক নির্জন জায়গায় তাঁকে ডেকে নিয়ে যান। তারপর দালালদের হাতে তাঁকে বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন ওই ছাত্রী।

নির্যাতিতার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ (rape), প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা রুজু করেছে পুলিশ। বুধবার হলদিয়া আদালতে ওই ছাত্রীর গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

অন্যদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত চিকিৎসক। তাঁর দাবি, তাঁকে কালিমালিপ্ত করতেই এমন সব অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, ওই কলেজপড়ুয়ার সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পরিচয় হয় তাঁর। কিন্তু ছাত্রীর আচরণ ভালো না লাগায় তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বলে জানিয়েছেন। গত ২ মাস তাঁদের যোগাযোগ নেই, এমনটাই দাবি ওই চিকিৎসকের।

ফলতায় ভবঘুরেকে এলোপাথাড়ি কোপ, হাসপাতালে নিয়ে যেতেই মৃত্যু

You might also like