Latest News

তাজকিস্তান ও চিন সীমান্তে আত্মঘাতী বোমারু পাঠাবে তালিবান

দ্য ওয়াল ব্যুরো : আফগানিস্তানের বদখশান প্রদেশে সীমান্তে পাহারা দেওয়ার জন্য আত্মঘাতী বোমারুদের (Suicide Bomber) একটি ব্যাটেলিয়ন তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে একথা জানিয়েছেন তালিবানের ডেপুটি গভর্নর মোল্লা নিসার আহমেদ আহমদি। বদখশানের সঙ্গে রয়েছে চিন ও তাজকিস্তানের সীমান্ত। আহমদি জানিয়েছেন, আত্মঘাতী ব্যাটেলিয়নের নাম দেওয়া হয়েছে ‘লস্কর ই মনসুর’। এর আগে আফগানিস্তানের প্রাক্তন সরকারের নিরাপত্তারক্ষীদের ওপরে আক্রমণের জন্য এমন আত্মঘাতী ব্যাটেলিয়ন তৈরি হয়েছিল।

আহমদি বলেন, আত্মঘাতী যোদ্ধারা না থাকলে আমেরিকাকে পরাজিত করা সম্ভব হত না। তারা শরীরের সঙ্গে বিস্ফোরক বহন করে নিয়ে যেত মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে। সেখানে তারা বিস্ফোরণ ঘটাত।

এর পাশাপাশি কাবুল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে মোতায়েন করা হয়েছে বদরি ৩১৩ নামে এক ব্যাটেলিয়ন। তার সব সদস্যই আত্মঘাতী বোমারু।

সম্প্রতি তালিবান ঘোষণা করেছে, সেকেন্ডারি স্কুলে মেয়েদের পড়ার অধিকার দেওয়া হবে না। তার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার কাবুলে এক সেকেন্ডারি স্কুলের সামনে জড়ো হয়েছিলেন ছ’জন মহিলা। তাঁরা দাবি জানাচ্ছিলেন, মেয়েদেরও স্কুলের উঁচু ক্লাসে পড়ার অধিকার দিতে হবে। গুলি চালিয়ে তাঁদের হটিয়ে দিয়েছে তালিবান রক্ষীরা।

বিক্ষোভের সময় মহিলারা একটি ব্যানার তুলে ধরেন। তাতে লেখা ছিল, ‘আমাদের কলম ভেঙে ফেলবেন না। আমাদের বইগুলো পুড়িয়ে দেবেন না। আমাদের সামনে স্কুলের দরজা বন্ধ করে দেবেন না।’ কিন্তু তালিবান রক্ষীরা ব্যানারটি মহিলাদের হাত থেকে কেড়ে নেয়। তারপর বিক্ষোভকারীদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। এক বিদেশি সাংবাদিক বিক্ষোভের ছবি তুলছিলেন। তাঁকে রাইফেলের বাঁট দিয়ে মারা হয়।

বিক্ষোভকারীরা ছিলেন ‘আফগান মহিলাদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন’ গোষ্ঠীর সদস্য। রক্ষীদের তাড়ায় তাঁরা আশ্রয় নেন স্কুলের ভেতরে। পরে রক্ষীরা বলে, আমাদের দেশেও বিক্ষোভ দেখানোর অধিকার আছে। কিন্তু আগে আমাদের এব্যাপারে জানানো উচিত ছিল।

বুধবার কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশরফ গৈরাট একটি ফরমান জারি করেছেন। তাতে বলা হয়েছে, পড়ুয়া হোক বা শিক্ষিকা বা শিক্ষাকর্মী, কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন থেকে আর কোনও মহিলা পা রাখতে পারবেন না। মহিলাদের সেখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ।

কেন এই ফরমান? উপাচার্য বলেছেন, ইসলাম সবার আগে। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে আগে ইসলামের যথার্থ আবহ তৈরি হতে হবে। তা না হলে মেয়েরা সেখানে ঢুকতে পারবে না। উল্লেখ্য কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উপাচার্য গৈরাট স্নাতক ডিগ্রিধারী। আর অবশ্যই তিনি ঘোর তালিবানপন্থী। তিনিই আফগানিস্তানে মেয়েদের স্কুল সম্বন্ধে বলেছিলেন সেগুলি আদৌ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, যৌনদাসী তৈরির কারখানা।

You might also like